০৮ জানুয়ারি ২০২৬

স্বামী স্ত্রী রাগ করে আলাদা বিচানায়

 ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে স্ত্রী রাগ করে স্বামীর কাছ থেকে আলাদা বিছানায় ঘুমালে বিষয়টি বেশ সংবেদনশীল এবং এতে গুনাহের সম্ভাবনা থাকে—কারণ এতে স্বামীর দাম্পত্য অধিকার জড়িত।

১️⃣ সাধারণ হুকুম (মূলনীতি)

স্ত্রী যদি যৌক্তিক শরয়ি কারণ ছাড়া—

রাগ,

অভিমান,

জেদ

এর কারণে স্বামীর কাছ থেকে আলাদা বিছানায় ঘুমায়, তাহলে তা নাজায়েজ এবং গুনাহ।

📖 হাদিসে এসেছে:

“যখন কোনো স্ত্রী তার স্বামীর ডাকে সাড়া না দিয়ে রাত কাটায়, ফেরেশতারা সকাল পর্যন্ত তাকে অভিশাপ দেয়।”

— (বুখারি, মুসলিম)

২️⃣ কখন গুনাহ হবে না?

নিম্নোক্ত শরয়ি কারণ থাকলে স্ত্রী আলাদা থাকতে পারে এবং এতে গুনাহ হবে না:

✔ শারীরিক অসুস্থতা

✔ হায়েজ / নেফাস

✔ স্বামীর জুলুম, মারধর বা নির্যাতন

✔ স্বামীর দ্বারা গুনাহে বাধ্য হওয়ার আশঙ্কা

✔ নিরাপত্তা বা ইজ্জতের ভয়

এক্ষেত্রে আলাদা থাকা জায়েজ, বরং কখনো আবশ্যকও হতে পারে।

৩️⃣ শুধু “রাগ” হলে কী করণীয়?

শুধু রাগ বা অভিমান হলে ইসলাম যা শেখায়:

কথা না বাড়ানো

সাময়িক নীরবতা (কথা কম বলা)

আলাদা বিছানা না নেওয়াই উত্তম

দ্রুত মিলমিশের চেষ্টা

নবী ﷺ বলেছেন:

“মুমিনদের মধ্যে সবচেয়ে পরিপূর্ণ ঈমান তার, যার চরিত্র উত্তম।”

— (তিরমিজি)

৪️⃣ স্বামীর করণীয়

যদি স্ত্রী রাগ করে আলাদা থাকে:

কঠোর আচরণ না করা

কারণ জানার চেষ্টা

ভালোভাবে বোঝানো

অন্যায় হলে ক্ষমা করা

🟢 সংক্ষেপে সিদ্ধান্ত

অবস্থা

হুকুম

অযৌক্তিক রাগে আলাদা থাকা

গুনাহ

শরয়ি কারণ থাকলে

জায়েজ

জুলুম/নিরাপত্তার ভয়

জায়েজ / আবশ্যক

সমঝোতার চেষ্টা

সুন্নাহ

আপনি চাইলে আমি এ বিষয়ে কুরআন–হাদিসের দলিলসহ বিস্তারিত বা বাস্তব জীবনে কীভাবে সমাধান করবেন সেটাও বুঝিয়ে দিতে 

২৭ নভেম্বর ২০২৫

শেখ মুজিবুর রহমান

(বাশের কেল্লা ফেসবুক  হতে পাওয়া)

 অরন্য কুমার চক্রবর্তী ও গৌরীবালা দাসের জারজ সন্তান ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।


২ বছর বয়স পর্যন্ত শেখ মুজিবের নাম ছিলো দেবদাস চক্রবর্তী!


-------------------------------------


কলকাতা সিভিল কোর্টের উকিল মিঃ চন্ডিদাস। তার এক মেয়ে ছিল যার নাম গৌরিবালা দাস। চন্ডিদাসের সহকারী উকিল মিঃ অরন্য কুমার চক্রবর্তী চন্ডিদাসের কলকাতাস্থ বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতো। এই সুযোগে চন্ডিদাসের মেয়ে গৌরিবালার সাথে অরন্য কুমার চক্রবর্তীর অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠে। এভাবে চলতে থাকে দিনের পর দিন। তার ফলশ্রুতিতে এরই মধ্যে গৌরিবালা গর্ভবতী হয়ে পড়েন। গৌরিবালা যখন বুঝতে পারলেন তিনি গর্ভবতী হয়েছেন তখন গৌরিবালা অরন্য কুমার চক্রবর্তীকে তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেন। অরন্য কুমার চক্রবর্তী ইহাতে রাজি না হয়ে অবৈধ সম্পর্কের কথাও অস্বীকার করেন। এদিকে চন্ডিদাস বিষয়টি জানার পর চিন্তিত হয়ে পড়েন। এরই মধ্যে গৌরিবালা ১২/১২/১৯২০ ইং তারিখে একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন। তার নাম রাখা হয় দেবদাস চক্রবর্তী। চন্ডিদাস অরন্য কুমার চক্রবর্তীকে গৌরিবালাকে উঠিয়ে নেয়ার জন্যচাপ দিতে থাকেন। কিন্তু অরন্য কুমার রাজি হন না। এরই মধ্যে গৌরিবালার ছেলে দেবদাস বয়স ২ বছরে উন্নিত হয়। চন্ডিদাস হতাশা গ্রস্থ হয়ে পড়েন এবংভীষণ অসুস্থতা বোধ করেন। চন্ডিদাসের বিশ্বস্ত মহুরী শেখ লুতফুর রহমান ছিলেন একজন নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। চন্ডিদাস মেয়েকে নিয়ে সমাজে মুখ দেখাতে পারছেন না এমন অবস্থায় গৌরীবালার ছেলে দেবদাসের বয়স যখন ৩ বছর, তখন চন্ডিদাসের মহুরী শেখ লুৎফর রহমান চন্ডিদাসের সমূহ সম্পত্তিসহ গৌরিবালাকে বিয়ে করেন। তখন এফিডেভিট করে গৌরিবালার নাম রাখা হয় ছাহেরা বেগম এবং ছেলের নাম রাখা হয় দেবদাস চক্রবর্তীর পরিবর্তে শেখ মজিবুর রহমান।


এফিডেভিট নং- ১১৮


তারিখ- ১০/১১/১৯২৩ ইং সাল


কোলকাতা সিভিল কোর্ট, পচিমবঙ্গ, ভারত।


সাক্ষীঃ-


(১) জনাব আব্দুর রহমান সাফায়াত, কোর্ট দারোগা, কলিকাতা, থানা+পোঃ- ভান্ডারিয়া, সাবেক জেলা- বরিশাল।


(২) শ্রী অনিল কুমার, কোর্ট দারোগা, সাবেক জেলা- বরিশাল।


কপি পোস্ট



২৫ নভেম্বর ২০২৫

আল্লাহর ১০ আদেশ।

 ইসলামে "দশ আদেশ" (Ten Commandments) শব্দটি সুনির্দিষ্টভাবে ব্যবহৃত হয় না, তবে পবিত্র কুরআনের সূরা আন'আম (৬:১৫১-১৫৩) এবং সূরা ইসরা (১৭:২৩-৩৯) আয়াতে দশটি মূল নৈতিক ও আইনি নির্দেশের একটি সেট বা বিধানের উল্লেখ রয়েছে। 

এই আদেশগুলো হলো:

১। শিরক বা অংশীদারিত্ব না করা: আল্লাহর সাথে অন্য কিছুকে শরিক করা যাবে না।

২। পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করা: পিতামাতার প্রতি সদয় ও কর্তব্যপরায়ণ হতে হবে।

৩। দারিদ্র্যের ভয়ে সন্তান হত্যা না করা: দারিদ্র্যের কারণে সন্তানদের হত্যা করা যাবে না, আল্লাহই সবার রিজিকদাতা।

৪। প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো লজ্জাজনক কাজের কাছে না যাওয়া: সব ধরনের অশ্লীল ও পাপ কাজ, তা প্রকাশ্যে হোক বা গোপনে, থেকে বিরত থাকতে হবে।

৫। কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা না করা: আল্লাহ যাকে হত্যা করা নিষেধ করেছেন, তাকে ন্যায়বিচার ব্যতীত হত্যা করা যাবে না।

৬। এতিমের সম্পত্তির কাছে না যাওয়া: এতিম বয়ঃপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তার সম্পত্তির কাছে উত্তম উদ্দেশ্য ছাড়া যাওয়া যাবে না।

৭। ওজন ও পরিমাপ ন্যায়সঙ্গতভাবে দেওয়া: পরিমাপ ও ওজনে পূর্ণ ইনসাফ বজায় রাখতে হবে.

৮। কথা বলার সময় সত্য বলা: কথা বলার সময়, এমনকি নিকটাত্মীয়ের বিষয়ে হলেও, সত্য ও ন্যায়সঙ্গত কথা বলতে হবে।

৯। আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করা: আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার এবং তাঁর আদেশগুলো মেনে চলতে হবে।

১০। সরল পথ অনুসরণ করা: এটিই আল্লাহর সরল ও সঠিক পথ, তাই এই পথ অনুসরণ করতে হবে এবং অন্য পথ অনুসরণ করা যাবে না, কারণ তা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেবে। 

এই নির্দেশাবলী ইসলামে একটি ব্যাপক নৈতিক কাঠামো তৈরি করে এবং মানবজাতির জন্য আল্লাহর সার্বজনীন বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়। 

২৩ নভেম্বর ২০২৫

সর্বদা পরকালের জন্য প্রস্তুত থাকার গুরুত্ব


 ইসলামী জীবন

প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০০:০০


 মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

সর্বদা পরকালের জন্য প্রস্তুত থাকার গুরুত্ব

বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের যা কিছু আছে, সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ একমাত্র আল্লাহর হাতে। তিনিই সর্বশক্তিমান। সব কিছুর কর্মবিধায়ক একমাত্র তিনিই। তাঁর রাজত্বের সীমানা অতিক্রম করার সাধ্য কারো নেই।


তিনি ছাড়া আর কোনো আশ্রয়দাতা নেই। তিনি যা চান, তাই হয়। এমনকি তিনি যদি এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে ধ্বংস করতে চান, তা মুহূর্তেই বাস্তবায়ন হয়ে যাবে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আর আমার আদেশ তো কেবল একটি কথা, চোখের পলকের মতো।

’ (সুরা : আল ক্বামার, আয়াত : ৫০)

অর্থাৎ কিয়ামত সংঘটনের জন্য আমাকে কোনো বড় প্রস্তুতি নিতে হবে না কিংবা তা সংঘটিত করতে কোনো দীর্ঘ সময়ও ব্যয়িত হবে না। আমার পক্ষ থেকে একটি নির্দেশ জারি হওয়ার সময়টুকু মাত্র লাগবে। নির্দেশ জারি হওয়া মাত্রই চোখের পলকে তা সংঘটিত হয়ে যাবে।


যার একটি ঝলক শুক্রবার ঢাকাবাসী অনুভব করেছে।


হঠাৎ কেঁপে ওঠা ঢাকা শহরের এক মুহূর্তের জন্য সবাই মৃত্যুকে স্মরণ করেছে। মহান আল্লাহর দয়া না থাকলে হয়তো পরশু দিনই শহরের বহু মানুষ প্রাণ হারাত। সাজানো-গোছানো এই শহর রূপান্তরিত হতো এক মৃত্যুপুরীতে। দুনিয়াকে ঘিরে করা মানুষের সব আয়োজন এক নিমেষে মাটিতে মিশে যেত। মহান আল্লাহ চাইলে এভাবেই এক মুহূর্তে সব কিছু নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারেন।

তাঁর প্রবল ক্ষমতার জানান দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তাঁর ব্যাপার শুধু এই যে কোনো কিছুকে তিনি যদি ‘হও’ বলতে চান, তখনই তা হয়ে যায়।’

(সুরা : ইয়াসিন, আয়াত : ৮২)


তিনি যদি কাউকে মৃত্যু অথবা কোনো বিপদ দিতে চান, তা থেকে নিস্তার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মৃত্যু অনিবার্য সত্য। মৃত্যুর স্বাদ সবাইকে আস্বাদন করতে হবে। এই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব সবাইকে দিতে হবে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘বলো যে মৃত্যু হতে তোমরা পলায়ন করছ, তা অবশ্যই তোমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। তারপর তোমাদেরকে অদৃশ্য ও দৃশ্য সম্পর্কে পরিজ্ঞাত আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তারপর তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন, যা তোমরা করতে।’ (সুরা : জুমা, আয়াত : ৮)


তবে এই আয়াতে এই কথা উদ্দেশ্য নয় যে কোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতি দেখা দিলে মানুষ তার নিরাপত্তার জন্য সেখান থেকে প্রস্থানের চেষ্টা করবে না। বরং এ রকম পরিস্থিতি দেখা দিলে অবশ্যই তা থেকে নিরাপদে থাকার চেষ্টা করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ কোথাও অগ্নি দুর্ঘটনা দেখা দিলে সেখান থেকে অবশ্যই নিরাপদে সরে যেতে হবে। আমাদের প্রিয় নবী (সা.) একবার একটি কাত হয়ে পড়া প্রাচীরের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় দ্রুত চলে গিয়েছিলেন। (মুসনাদে আহমদ)


মূল বিষয় হলো, মৃত্যু যেহেতু আমাদের জন্য অনিবার্য, আমাদের সবাইকেই ডাক পড়া মাত্র আল্লাহর কাছে ফেরত যেতে হবে এবং কৃতকর্মের হিসাব দিতে হবে, তাই আমাদের উচিত হচ্ছে, সর্বদা কৃত গুনাহের জন্য মহান আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হয়ে তওবা করা। সামনের দিনগুলোতে পাপ না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা।


মহান আল্লাহ যাতে ঈমান অবস্থায় তাঁর কাছে ফিরে যাওয়ার তাওফিক দান করেন, সে জন্য মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। হাদিস শরিফে এসেছে, মহানবী (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে প্রতিদিন শোয়ার সময় এসব বিষয়ে আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করতেন।


আল-বারাআ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন তুমি শোয়ার জন্য বিছানায় যেতে চাও সে সময় নামাজের অজুর মতো অজু করো, অতঃপর তোমার ডান কাতে শয়ন করো, অতঃপর বলো, ‘হে আল্লাহ! আমার চেহারা আমি তোমার দিকে সোপর্দ করলাম, আমার সমস্ত বিষয় তোমার কাছে সমর্পণ করলাম, আশা ও ভয় নিয়ে তোমার দিকে আমার পিঠ সঁপে দিলাম, তোমার হতে (পালিয়ে) আশ্রয় নেওয়ার এবং রক্ষা পাওয়ার তুমি ব্যতীত আর কোনো জায়গা নেই। আমি ঈমান আনলাম তোমার অবতীর্ণ কিতাবের ওপর এবং তোমার পাঠানো নবীর ওপর।’ তারপর যদি ওই রাতে তুমি মারা যাও, তাহলে দ্বিনের (ইসলামের) ওপরই মৃত্যুবরণ করবে। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৭৪)


মৃত্যু সম্পর্কে আবু বকর (রা.)-এর সুন্দর একটি উক্তি আছে। আয়েশা‌ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) মদিনায় শুভাগমন করলে আবু বকর (রা.) ও বিলাল (রা.) জ্বরাক্রান্ত হয়ে পড়লেন। আবু বকর (রা.) জ্বরাক্রান্ত হয়ে পড়লে তিনি এ কবিতাংশটি আবৃত্তি করতেন—


‘প্রত্যেকেই স্বীয় পরিবারের মাঝে দিনাতিপাত করছে, অথচ মৃত্যু তার জুতার ফিতা অপেক্ষা সন্নিকটবর্তী।’ (বুখারি, হাদিস : ১৮৮৯)


তাই বুদ্ধিমানের কাজ হলো, সর্বদা মৃত্যুকে স্মরণ করা। পরকালের প্রস্তুতি নেওয়া। গুনাহ ছেড়ে দেওয়া এবং যতটা সম্ভব নেক আমল করার চেষ্টা করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি যে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের জন্য কাজ করে। আর নির্বোধ ও অকর্মণ্য সেই ব্যক্তি যে তার নফসের দাবির অনুসরণ করে এবং আল্লাহর কাছে বৃথা আশা করে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২৬০)


কারণ আমরা কেউ জানি না, আগামীকাল আমাদের সঙ্গে কী ঘটবে। আমরা কেউই জানি না যে কখন আমাদের মৃত্যু চলে আসবে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন স্থানে সে মারা যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।’


(সুরা লোকমান, আয়াত : ৩৪)


মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে ঈমানদার অবস্থায় থাকার তাওফিক দান করুন এবং মৃত্যুর সময়ও ঈমান অবস্থায় মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।


news_google_icon_128কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

প্রাসঙ্গিক

সম্পর্কিত খবর

ইসলামী জীবন

প্রকাশ: রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০০:০০

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব-৯৬১

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ


‘কোনো বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না; কোনো ভারাক্রান্ত ব্যক্তি যদি কাউকে তা বহন করতে আহবান করে, তবে তার কিছুই বহন করা হবে না—নিকটাত্মীয় হলেও...আর না ছায়া ও রৌদ্র এবং সমান নয় জীবিত ও মৃত। আল্লাহই যাকে ইচ্ছা শ্রবণ করান; তুমি শোনাতে সমর্থ হবে না, যারা কবরে রয়েছে তাদেরকে।’ (সুরা : ফাতির, আয়াত : ১৮-২২)


আয়াতগুলোতে পাপের পরিণতি, তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি ও ভালো-মন্দের পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।


 


শিক্ষা ও বিধান


 


১. কেউ অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না।


তবে যারা মানুষকে পথভ্রষ্ট করে এবং পাপে লিপ্ত করে তারা পাপের অংশীদার হবে।

২. পিতা-মাতা ও সন্তানের মতো আপনজনরাও পরকালের পাপের দায় গ্রহণ করতে অস্বীকার করবে।


৩. ‘না দেখে ভয় করে’ বাক্য দ্বারা জাহান্নাম না দেখে ভয় করা অথবা একান্তে লোকচক্ষুর অগোচরে আল্লাহকে ভয় করা উদ্দেশ্য।


৪. আয়াত দ্বারা আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব প্রমাণিত হয়।


আত্মশুদ্ধি ছাড়া আল্লাহর নৈকট্য ও ভালোবাসা অর্জন করা সম্ভব নয়।

৫. আয়াতে অন্ধ ও চক্ষুষ্মান দ্বারা অবিশ্বাসী ও বিশ্বাসী, অন্ধকার ও আলো দ্বারা হক ও বাতিল, ছায়া ও রৌদ্র দ্বারা সওয়াব ও শাস্তি, মৃত ও জীবিত দ্বারা কাফির ও মুমিন উদ্দেশ্য। (তাফসিরে আবু সাউদ : ৭/১৪৯)

প্রাসঙ্গিক

ইসলামী জীবন

প্রকাশ: রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০০:০০

ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া মানুষ বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা থাকে : ধর্ম উপদেষ্টা

 ইসলামী জীবন ডেস্ক

ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া মানুষ বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা থাকে : ধর্ম উপদেষ্টা

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম  খালিদ হোসেন বলেছেন, আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে দ্বিনি শিক্ষার সমন্বয় ঘটানো গেলে সমাজ পরিবর্তন করা যায়। ধর্ম ব্যতীত শিক্ষায় মানুষ বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর জিইসি মোড়ে ওয়েল পার্ক রেসিডেন্সের সভাকক্ষে আসসুন্নাহ মডেল মাদরাসার বার্ষিক মাহফিল ও সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


তিনি আরো বলেন, বিশ্বের সব উন্নত দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উপাসনালয় রয়েছে।


সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে দ্বিনি শিক্ষার সমন্বয় করা না হলে মানুষ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যেতে পারে। শিক্ষা থেকে ধর্মকে আলাদা করা হলে ডাকাত তৈরি হবে, মাস্তান তৈরি হবে।

ড. খালিদ বলেন, এ দেশকে দুর্নীতি, সুদ, ঘুষ ও চাঁদাবাজমুক্ত করতে হলে আল্লাহওয়ালাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে হবে। অন্তরে যাদের আল্লাহভীতি রয়েছে এবং যাদের চরিত্র ইস্পাতের মতো শক্ত ও অটুট তাদের নির্বাচিত করতে হবে।


এ জন্য তরুণ ও যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে।

আন্দরকিল্লা শাহি জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও মাদরাসাটির প্রধান উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইসলাম আযহারীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মু. মমতাজ উদ্দীন কাদেরী, অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির খালভী, উম্মা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুফতি আবুল কালাম আল আজাদ, আল্লামা আবুল খাইর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাওলানা সুহাইল সালেহ ও কোর্টহিল জামে মসজিদের খতিব শায়েখ নাসির উদ্দীন প্রমুখ বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। অন্যান্যের মধ্যে আসসুন্নাহ মডেল মাদরাসার পরিচালক মুফতি মাসউদুর রহমান বক্তব্য দেন। পরে উপদেষ্টা ২০২৫ সালে আসসুন্নাহ মডেল মাদরাসার হিফজ বিভাগের বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন।


 


news_google_icon_128কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

প্রাসঙ্গিক

ইসলামী জীবন

প্রকাশ: রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০০:০০

রবিআহ ইবনে হারিছ (রা.) যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন

 মাইমুনা আক্তার

রবিআহ ইবনে হারিছ (রা.) যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন

মহানবী (সা.)-এর চাচাতো ভাই ও বিখ্যাত সাহাবি রবিআহ ইবনে হারিছ (রা.)। তাঁর নাম মূলত রবিআহ। উপনাম আবু আরওয়া। পিতা হারিছ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব।


মা গাযিয়্যাহ বিনতে ক্বাইস। বংশপরম্পরা তাঁর ভাই আবু সুফিয়ান ইবনে হারিছের জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি রাসুল (সা.)-এর চাচাতো ভাই। বয়সের দিক থেকে চাচা আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব থেকে দুই বছরের বড়।

(আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা : ৪/৩৫)

ইসলাম গ্রহণ


খন্দক যুদ্ধের সময় আব্বাস (রা.) ও নাওফল ইবনে হারিছ (রা.) হিজরতের উদ্দেশ্যে যখন মক্কা ত্যাগ করছিলেন, তখন রবিআহ ইবনে হারিছ (রা.) তাদের বিদায় দিতে গিয়ে ‘আবওয়া’ পর্যন্ত যান। সেখান থেকে ফিরে যেতে চাইলেন মক্কায়। তখন আব্বাস (রা.) ও নাওফল (রা.) তাকে ভর্ত্সনা দিয়ে বললেন, আরে কোথায় যাচ্ছ! শিরকের ভূমিতে, যেখানকার লোকেরা রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে যুদ্ধ করছে এবং মিথ্যাপ্রতিপন্ন করে চলছে। চলো, মদিনায়।


তাদের কথায় রবিআহ সাড়া দিল। মক্কায় না গিয়ে তাদের সঙ্গে পথ ধরল মদিনার। এভাবে তিনি মুসলমান অবস্থায় রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে মিলিত হলেন। (আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা : ৪/৩৬; সিয়ারু আলামিন নুবালা : ১/২৫৮)

যুদ্ধ-জিহাদ


রবিআহ ইবনে হারিছ (রা.) রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে মক্কা বিজয়, তায়িফ-অভিযান ও হুনাইন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ করে হুনাইন যুদ্ধে মুসলমানদের সাময়িক বিপর্যয় মুহূর্তে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে তিনিও রাসুল (সা.)-এর সাহায্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।


(আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা : ৪/৩৬)

ছেলেসন্তান


রবিআহ ইবনে হারিছের একাধিক স্ত্রী থেকে আট ছেলে ও দুই মেয়ের উল্লেখ পাওয়া যায়। তাঁর একটি ছেলে শিশু অবস্থায়ই মারা যায়। (আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা ৪/৩৬; সিয়ারু আলামিন নুবালা ১/২৫৭)


রবিআর এই শিশুটির ব্যাপারেই রাসুল (সা.) বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে বলেছিলেন, ‘সাবধান! আমি জাহেলি যুগের সকল রক্তের দাবি (তথা কিসাস) আমার পায়ের নিচে রাখলাম, অর্থাৎ রহিত করলাম। প্রথমে আমি আমার বংশের রক্তের দাবির মধ্যে রবিআর ছেলের রক্তের দাবি রহিত করলাম। সে সাদ গোত্রে শিশু অবস্থায় লালিত-পালিত হচ্ছিল, তখন হুযাইল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করেছিল। (মুসলিম ১/৩৯৭)


ইন্তেকাল : তিনি উমর (রা.)-এর খেলাফতামলে ইন্তেকাল করেন। এর আগে তাঁর দুই ভাই নওফল ও আবু সুফিয়ান (রা.) ইন্তেকাল করেছেন। (আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা

প্রাসঙ্গিক

ইসলামী জীবন

প্রকাশ: রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০০:০০

ফিলিস্তিনে ইসহাক (আ.)-এর স্মৃতি ও সমাধি

 আলেমা হাবিবা আক্তার

ফিলিস্তিনে ইসহাক (আ.)-এর স্মৃতি ও সমাধি

মুসলিম ধর্ম বিশ্বাস অনুসারে ইসহাক (আ.) ছিলেন ইবরাহিম (আ.)-এর পুত্র এবং আল্লাহর সম্মানিত নবী। বনি ইসরাঈল ইসহাক (আ.)-এর পুত্র ইয়াকুব (আ.)-এর বংশধর। ইসহাক (আ.) মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি সব আসমানি ধর্মের অনুসারীদের কাছে অতি সম্মানিত। ফিলিস্তিনের হেবরনে হারাম আল-ইবরাহিমি কমপ্লেক্সে নবী ইসহাক (আ.) ও তাঁর স্ত্রী রেবেকার কবর আছে।


একই কমপ্লেক্সে ইবরাহিম (আ.), ইয়াকুব (আ.) ও ইউসুফ (আ.)-এর কবর আছে।

ইবরাহিমি কমপ্লেক্সে মুসলিমদের মসজিদ এবং ইহুদিদের সিনাগগ রয়েছে। প্রত্যেকের প্রার্থনার স্থান ও প্রবেশপথ ভিন্ন। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে উভয় সম্প্রদায় নিজ নিজ উৎসবের সময় বছরের ১০ দিন করে পুরো কমপ্লেক্সে প্রবেশাধিকার লাভ করে থাকে।


তবে সম্প্রতি ইসরায়েল সরকার মুসলিমদের ইবরাহিমি কমপ্লেক্সে প্রবেশে নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। অবশ্য ১৯৬৭ সালের আগ পর্যন্ত এখানে শুধু মুসলমানরাই ইবাদত করার সুযোগ পেত।

কোরআন ও হাদিসে ইসহাক (আ.) সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায় না। তবে ঐতিহাসিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) লিখেছেন, ইবরাহিম (আ.)-এর বয়স যখন ১০০ বছর এবং তাঁর স্ত্রী সারাহর বয়স ৮০ বছর তখন ইসহাক (আ.)-এর জন্ম হয়।


বড় ভাই ইসমাইল (আ.)-এর ১৪ বছর পর তিনি পৃথিবীতে আগমন করেন।

ইবরাহিম (আ.) যখন জীবনছায়াহ্নে উপনীত হন, তখন তিনি ইচ্ছা করেন ছেলে ইসহাককে বিয়ে দেবেন। কিন্তু তিনি চাচ্ছিলেন না যে ইসহাক (আ.) কোনো কেনানি নারীকে বিয়ে করুক। কেননা তারা ছিল পৌত্তলিক। ইবরাহিম (আ.) ছেলের জন্য পাত্রী অনুসন্ধান করতে তাঁর বিশ্বস্ত ভৃত্যদের ইরাকের হারানে পাঠালেন।


তারা ইবরাহিম (আ.)-এর ভাই বেথুয়েল ইবনে নাহুরের মেয়ে রেবেকাকে পাত্রী হিসেবে পছন্দ করেন। ইবরাহিম (আ.) রেবেকার সঙ্গে ছেলে ইসহাকের বিয়ে দেন। তাদের ঔরসে যমজ সন্তান আল-ইস ও ইয়াকুব (আ.)-এর জন্ম হয়।

যৌবনে পদার্পণের পর ইয়াকুব (আ.) নবুয়ত ও ধর্মীয় নেতৃত্ব লাভ করলে ভাই আল-ইস চরম ক্ষুব্ধ হয় এবং ভাইকে হত্যার চিন্তা করে। ফলে ইয়াকুব (আ.) দেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। রেবেকা ছাড়াও ইয়াকুব (আ.)-এর আরো তিনজন স্ত্রী ছিলেন। বলা হয়ে থাকে, রোমানরা আল-ইসের বংশধর।


ইসহাক (আ.) কেনানের হেবরন গ্রামে বসবাস করতেন, যা আধুনিক ফিলিস্তিনের হেবরন শহর নামে পরিচিত। এখানে ইবরাহিম (আ.)-ও তাঁর জীবনের শেষ সময়টুকু কাটান। হেবরনেই ইসহাক (আ.)-এর ইন্তেকাল হয়। তিনি ১৮০ বছর বয়স পেয়েছিলেন। তাঁকে পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর পাশে একটি গুহার ভেতর দাফন করা হয়।


পবিত্র কোরআনের ১৭ স্থানে ইসহাক (আ.)-এর বর্ণনা এসেছে। যেমন—আল্লাহ বলেন, ‘আমি তাঁকে সুসংবাদ দিয়েছিলাম ইসহাকের, সে ছিল এক নবী, সৎকর্মপরায়ণদের অন্যতম। আমি তাঁকে বরকত দান করেছিলাম এবং ইসহাককেও; তাদের বংশধরদের মধ্যে কতক সৎকর্মপরায়ণ এবং কতক নিজেদের প্রতি স্পষ্ট অত্যাচারী।’ (সুরা সাফফাত, আয়াত : ১১২-১১৩)


ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পরিবার তিন আসমানি ধর্মের অনুসারীদের কাছেই অত্যন্ত সম্মানিত। ফলে ইসলামপূর্ব যুগেও তাঁদের কবরের স্থানটি মর্যাদার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সর্বপ্রথম হারাম আল-ইবরাহিমের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করেন রাজা প্রথম হেরোড, তিনি রোমানদের সমর্থনে জেরুজালেম শাসন করতেন। জেরুজালেম মুসলমানদের অধীনে আসার পর ধারাবাহিকভাবে সব মুসলিম শাসকই হারাম আল-ইবরাহিমের সংস্কার ও উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখেন। উমাইয়ারা হারাম আল-ইবরাহিমে সর্বপ্রথম মসজিদ নির্মাণ করেন।


মুসলিম শাসকদের মধ্যে আমির বদরুদ্দিন জামালি, সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবি, আমির তানজাক আন-নাসিরি, সুলতান জাহির বারবাক, আমির আলামুদ্দিন সানজার প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। এর ভেতর সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবির ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কেননা তিনি ইউরোপীয় দখলদারদের হাত থেকে জেরুজালেম উদ্ধার করেন। ক্রুসেডাররা প্রাচীন ইবরাহিমি মসজিদ ভেঙে গির্জা তৈরি করেছিল। সুলতান সালাউদ্দিন পুনরায় সেখানে মসজিদ নির্মাণ করেন. 


স্বত্ব © ২০২৫ কালের কণ্ঠ


২১ অক্টোবর ২০২৫

সমস্যা ও সমাধানের সম্ভাব্য উপায়।

 ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক জীবন, এমনকি রাষ্ট্র জীবনে সমস্যায় পড়লে সমস্যা ও সমাধানের সম্ভাব্য উপায়  লিখে  সমাধানের সবচেয়ে ভালো উপায় খোঁজা উচিত এবং আল্লাহর উপর ভরসা করা উচিত। 


সুরা আছর এ -আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই মানুষ মহা ক্ষতির মধ্যে কিন্তু উহারা নয়, যাহারা ঈমান আনে(আল্লাহর উপর)  ও সৎকর্ম করে  ও ধৈর্য ধারণ করে এবং  পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়।

আল কুরআন, সূরা নম্বর: ১০৩ আয়াত নম্বর:২- ৩

২০ অক্টোবর ২০২৫

আল কুরআন, সুরা ৬৯-হাক্কাহ



(69:0)

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ

অনুবাদ:    পরম করুণাময় মেহেরবান আল্লাহর নামে।


(দুনিয়ার মৃত্যুই যদি শেষ মৃত্যু হতো কতই না ভালো হতো) 


(69:24)


অনুবাদ:    (এসব লোকদের কে বলা হবেঃ) অতীত দিনগুলোতে তোমরা যা করে এসেছো তার বিনিময়ে তোমরা তৃপ্তির সাথে খাও এবং পান করো।


(69:25)


অনুবাদ:    আর যার আমলনামা(দুনিয়ার কাজের লিপি)  তার বাঁ হাতে দেয়া হবে সে বলবেঃ হায়! আমার আমলনামা যদি আমাকে আদৌ দেয়া না হতো


(69:26)


অনুবাদ:    এবং আমার (দুনিয়ার কাজের)হিসেব যদি আমি আদৌ না জানতাম তাহলে কতই না ভাল হত।


(69:27)


অনুবাদ:    হায়! আমার সেই মৃত্যুই (যা দুনিয়াতে এসেছিলো) যদি চূড়ান্ত হতো।


(69:28)


অনুবাদ:    আজ আমার অর্থ-সম্পদ কোন কাজে আসলো না।


(69:29)


অনুবাদ:    আমার সব ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি বিনাশ প্রাপ্ত হয়েছে।


(69:30)

অনুবাদ:    (আদেশ দেয়া হবে) পাকড়াও করো ওকে আর ওর গলায় বেড়ি পরিয়ে দাও।


(69:31)


অনুবাদ:    তারপর জাহান্নামে নিক্ষেপ করো।


(69:32)


অনুবাদ:    এবং সত্তর হাত লম্বা শিকল দিয়ে বেঁধে ফেলো।


(69:33)


অনুবাদ:    সে মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করতো না


(69:34)


অনুবাদ:    এবং দুস্থ মানুষের খাদ্য দিতে উৎসাহিত করতো না।

(69:35)


অনুবাদ:    তাই আজকে এখানে তার সমব্যথী কোন বন্ধু নেই।


(69:36)


অনুবাদ:    আর কোন খাদ্যও নেই ক্ষত নিঃসৃত পুঁজ-রক্ত ছাড়া।


(69:37)


অনুবাদ:    যা পাপীরা ছাড়া আর কেউ খাবে না।


(69:38)


অনুবাদ:    অতএব তা নয়। আমি শপথ করছি ঐ সব জিনিসের ও যা তোমরা দেখতে পাও।


(69:39)


অনুবাদ:    এবং ঐসব জিনিসের যা তোমরা দেখতে পাওনা।

(69:40)


অনুবাদ:    এটা একজন সম্মানিত রসূলের বাণী


(69:41)


অনুবাদ:    কোন কবির কাব্য নয়। তোমরা খুব কমই ঈমান পোষণ করে থাকো।


(69:42)


অনুবাদ:    আর এটা কোন গণকের গণনাও নয়। তোমরা খুব কমই চিন্তা-ভাবনা করে থাকো।


(69:43)


অনুবাদ:    এ বাণী বিশ্ব-জাহানের রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত।

০৭ অক্টোবর ২০২৫

The short words

“The Short Words” (যে ‘The Words’ এর প্রথম দশটি অধ্যায়) — এই রিসালার অধ্যায়ভিত্তিক একটি সংক্ষিপ্ত সারমর্ম নিচে দেওয়া হলো। (নোট: মূল বইটি তুর্কি → ইংরেজি অনুবাদকৃত; এখানে সারমর্ম বাংলা ভাষায় দেওয়া হয়েছে) --- ভূমিকা “Short Words” হলো The Words নামক ৩৩টি “Words” বা অধ্যায়ের একটি অংশ — প্রথম ১০টি অধ্যায়কেই “Short Words” বলা হয়। এই অংশে বিশ্বাস, ইবাদত, ঈমান ও আত্মিক বিষয়াদি সংক্ষেপে সহজ উপমা, তুলনা ও বর্ণনায় তুলে ধরা হয়েছে। --- অধ্যায় ১: “Bismillah” / “In the Name of God” “বিসমিল্লাহ” (আলহামদুলিল্লাহ) নামের গুরুত্ব ও রহস্য আলোচনা করা হয়। প্রতিটি সৃষ্টিজিনিস — সর্ববস্তুর — “বিসমিল্লাহ” শব্দটি নিজস্বভাবে উচ্চারণ করে, অর্থাৎ তার অস্তিত্ব ও কার্যকলাপে “আল্লাহর নাম” উপস্থিত থাকে। এই নাম যে শক্তির উৎস ও রহমতের প্রতীক, সে দিক বিবৃত করা হয়েছে। --- অধ্যায় ২ প্রথম অধ্যায়তে যেসব “মহিস্ত” ও “রহমত” ক্লিয়ার করা হয়েছে, সেগুলোর কিছু গভীর MYSTery দিক এখানে আলোচিত হয়। “বিসমিল্লাহ”-র নামে উপস্থিত বিভিন্ন রহস্য (mysteries) তুলে ধরা এবং তাদের ব্যাখ্যার চেষ্টা। --- অধ্যায় ৩ বিশ্বাস ও অবিশ্বাসীদের দৃষ্টিভঙ্গির তুলনা — বিশেষ করে মৃত্যুর পরবর্তী দিন ও পুনরুত্থান সংক্রান্ত বিষয়। যারা ঈমান আনে না, তারা কিভাবে পৃথিবীর প্রাকৃতিক ঘটনাসমূহ দেখে ভুল ব্যাখ্যা করে। --- অধ্যায় ৪ নবী, সাধু ও আধ্যাত্মিক মানুষের সাক্ষ্য ও প্রমাণ দিয়ে পুনরুত্থান ও পরকাল বিষয় ব্যাখ্যা। মানুষের মধ্যে অনন্তিক আকাঙ্ক্ষার (eternity) প্রয়াস ও প্রমাণ। --- অধ্যায় ৫ ব্রহ্মাণ্ড, সৃষ্টি ও-কায়নাতের উদ্দেশ্য ও রহস্য। মানুষের সৃষ্টির কারণ ও উদ্দেশ্যের প্রশ্ন। পাঁচটি দিনের নামাজের পেছনের মর্ম ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা। --- অধ্যায় ৬ মানব জীবনের প্রকৃত রূপ, বিন্যাস ও দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা। আত্মা ও দেহের সম্পর্ক ও মানুষের উদ্দেশ্য তুলে ধরা। --- অধ্যায় ৭ ঈমান ও সংযম, অভ্যাস এবং বিশ্বাসের পরিণতি। আত্মিক যুদ্ধ (nafs struggle) ও বিষণ্ণতা, শয়তানের প্রলোভন সম্পর্কে আলোচনা। --- অধ্যায় ৮ মানুষ যখন অভিমানে পড়ে বা গর্বভরা হয়, তখন তার ঈমান ক্ষীণ হয় — এর বিপদ ও প্রতিরোধ। বিনয় ও আত্মসমর্পণের গুরুত্ব। --- অধ্যায় ৯ মৃত ব্যক্তির প্রতি ভালোবাসা ও শোক, অনেক সময় বিশ্বাসীদের মধ্যে যত্ন ও দায়বোধ। মানব জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব ও মৃত্যুর স্মরণীয়তা। --- অধ্যায় ১০ বিশ্বাস ও ইবাদতের মূল্য ও ফলাফল। অল্প ইবাদতও যদি সৎ বিশ্বাস ও আন্তরিকতার সঙ্গে করা হয়, তার গুরুত্ব ও প্রভাব। বিশ্বাস ও ইবাদতের মিলন, অর্থাৎ বিশ্বাসকে কার্যকর ইবাদতে রূপ দেওয়ার গুরুত্ব। ---Collected by ChatGPT

০৫ অক্টোবর ২০২৫

কাজ করার পূর্বেই সংকল্প বা নিয়ত

  কথায় আছে ,যেমন কর্ম তেমন ফল । কোন কাজ করার  পূর্বেই সংকল্প বা নিয়ত বা স্থির চিন্তা করে নিতে হয় ।তা হলেই ফল ভাল হও্যার আশা করা যায় ।আরও জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন ।

০৩ অক্টোবর ২০২৫

নামাজের তসবিহ সমুহের অর্থ


নিয়তঃ

“আমি কিবলামুখি হয়ে (ফজর /যোহর/আসরের ………) দুই/তিন/চার রাকাত ফরয/ওয়াজিব/সুন্নত/নফল আদায়ের উদ্দেশ্য নিয়ত করলাম” তারপর “আল্লাহু আকবার”(আল্লাহ মহান) বলে দুহাত বাধতে হবে। - শুরু হয়ে গেল নামাজ।


ছানাঃ

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রাসুলুল্লাহ সাঃ কে সপ্নে দেখতে আমল।


 যুগান্তর এর সৌজন্যে:

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখল, সে আমাকেই দেখল। কেননা বিতাড়িত শয়তান আমার রূপ ধরতে পারে না। আর যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যাচার করল, সে তার দোজখের আসন গ্রহণ করল। (সহিহ বোখারি : ১১০)।

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দুনিয়া ও পরকালে সুখী হতে হলে

✅ সংরক্ষিত!

 জাপানে দেওয়া মাওলানা  আজহারীর ওয়াজ থেকে নেওয়া। 

দুনিয়া ও পরকালে সুখী হতে হলে যা করবেন--

১।সরল জীবন যাপন করতে হবে। 

২। সকল মানুষ কে ক্ষমা করতে হবে।

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কিয়ামতের আগে ১০ টি প্রধান আলামত

কিয়ামতের প্রধান ১০টি আলামতের মধ্যে রয়েছে

===========

"একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে এলেন। আমরা তখন কিয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তিনি বললেন, যত দিন তোমরা দশটি আলামত না দেখ তত দিন কিয়ামত হবে না। 

১. ধোঁয়া।আকাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হবে।

 ২. দাজ্জালের আগমন। 

৩.। ভূগর্ভ থেকে নির্গত দাব্বাতুল আরদ নামক অদ্ভুদ এক প্রাণীর আগমন।

 ৪. পশ্চিম আকাশে সূর্যোদয়। 

৫. ঈসা ইবনে মারইয়ামের আগমন।

৬. ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব।

 ৭. পূর্বে ভূমি ধ্বস।

 ৮. পশ্চিমে ভূমি ধ্বস।

 ৯. আরব উপদ্বীপে ভূমি ধ্বস।

 ১০. সর্বশেষে ইয়ামান থেকে একটি আগুন বের হয়ে মানুষকে সিরিয়ার দিকে হাঁকিয়ে নিবে। " (মুসলিম, কিতাবুল ফিতান)

===

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

হার্টের ব্লকে সাবধানতা

 Collected :

ব্লক (করোনারি আর্টারিতে কোলেস্টেরল জমা) পুরোপুরি দূর করার কোনো সহজ উপায় নেই, তবে এটি প্রতিরোধ ও কমাতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, যেমন সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান ত্যাগ, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং মানসিক চাপ কমিয়ে আনা জরুরি। গুরুতর ক্ষেত্রে, যেমন সম্পূর্ণ হার্ট ব্লকের জন্য পেসমেকার বা বিটা-ব্লকার জাতীয় ঔষধের প্রয়োজন হতে পারে। 

২৬ জুলাই ২০২৫

বরকতময় কুরআন

 ◑ অপমান নয়, সম্মান চান?


যে পাঠক এই লেখা পড়ার তাওফীক লাভ করেছেন, তাঁকে বলছি। 


আমার ধারণা, মহান আল্লাহ আপনার মঙ্গল চান। 


সুতরাং আপনি কয়েক মিনিট সময় ব্যয় করে লেখাটি পড়ুন এবং অনুধাবন করুন।


আমি আপনাকে কয়েকটি উপদেশ দিচ্ছি, যদি আপনি তা মেনে চলেন, তাহলে আল্লাহ আপনার জন্য আকাশ-পৃথিবীর বরকত উন্মুক্ত করবেন। দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ দান করবেন এবং সুমহান সম্মানিত প্রতিপালক আপনাকে সম্মান দান করবেন।


বলছি, আপনি কুরআনকে আপনার জীবন-সাথী বানিয়ে নিন, নিত্য সঙ্গী হিসাবে তার সাহচর্যে থাকুন। ব্যস্ততার মাঝে সময় বের করে এবং অবসর সময়ে কুরআন পাঠ করুন। দেখে অথবা মুখস্থ পড়ুন। লম্বা সফরে যানবাহনে পড়ুন। পড়ার অসুবিধা থাকলে শুনুন। আর আজ-কাল তা খুবই সহজ। 


আল্লাহর কসম! আপনি দেখবেন, আপনার সময়ে বরকত পাচ্ছেন। আপনার জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করছেন। হৃদয়ে স্বস্তি ও সুখ উপলব্ধি করছেন। আপনার চলার পথ আলোকিত হচ্ছে। বিশেষ করে যদি আপনি কুরআনের অর্থ হৃদয়ঙ্গম করে পাঠ করেন। 


এ হলো সুমহান আল্লাহর বাণীর বরকত।


কুরআনের নিত্য সঙ্গী হন, আপনি এর বরকত জীবনের প্রতি মুহূর্তে লাভ করতে থাকবেন। মহান আল্লাহ বলেছেন,


{كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ} (29) سورة ص


`এটি একটি অত্যন্ত বরকতপূর্ন কিতাব, যা (হে মুহাম্মদ!) আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি.' (স্বাদ ২৯)


কুরআন যেখানেই স্থানলাভ করে, সেই স্থানকেই বরকতময় করে তোলে। 


একজন মুফাস্সির বলেছেন, `আমরা কুরআন নিয়ে ব্যস্ত হয়েছি, যার ফলে দুনিয়ার কল্যাণ ও বরকত আমাদেরকে পরিপ্লুত করেছে।'


যিয়া মাকদেসী যখন হাদিসের জ্ঞান অনুসন্ধানে ব্রতী হতে চাইলেন, তখন ইব্রাহিম বিন আব্দুল ওয়াহেদ মাকদেসী তাঁকে ওসিয়ত করে বলেছিলেন, `তুমি বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত কর এবং তা পরিহার করো না, তাহলে তুমি যা অনুসন্ধান করবে তা তোমার জন্য সেই পরিমান সহজ হয়ে যাবে, যে পরিমান তুমি তিলাওয়াত করবে।'


যিয়া বলেন, `আমি এই ওসিয়ত মেনে তার বহু ফললাভ করেছি। যত কুরআনের প্রতি ধ্যান দিয়েছি, তত হাদিসের জ্ঞান লাভ করেছি।'


একজন সালাফ বলেছেন, `যত আমি আমার নিয়মিত কুরআন পাঠের সময় বৃদ্ধি করেছি, তত আমি আমার সময়ে বরকত দেখতে পেয়েছি। আর আমি তা বৃদ্ধি করতে করতে ১০ পারা করে ফেলেছি।'


আব্দুল মালেক বিন উমাইর বলেছেন, `সবার চাইতে বেশি স্বচ্ছ ও পরিপক্ব জ্ঞানী ব্যক্তি তিনি, যিনি বেশি বেশি কুরআন অধ্যয়ন করে থাকেন।'


কুরতুবী বলেছেন, `যিনি কুরআন পাঠ করেন, তিনি জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হতে থাকেন; যদিও তাঁর বয়স ১০০ বছর পৌঁছে যায়।'


আপনার তিলাওয়াতের সময় না হয়ে উঠলে কোনো পছন্দের কারীর তিলাওয়াত শুনতে থাকুন। আপনার বাড়ি ও গাড়িতে কুরআন বাজুক।


যেহেতু কুরআন শুনলে আপনাকে রহমত দিয়ে পুরস্কৃত করা হবে,করুণাপ্রাপ্ত হবেন আপনি। মহান আল্লাহ বলেছেন,


{وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُواْ لَهُ وَأَنصِتُواْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} (204) سورة الأعراف


`যখন কুরআন, তোমাদের সামনে পড়া হয়, তখন তা মনোযোগ সহকারে  শোনো এবং নীরব থাকো, হয়তো তোমাদের প্রতিও রহমত বর্ষিত হবে৷ ' (আ'রাফ ২০৪)


আর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো কখনো অপরের মুখে তিলাওয়াত শুনতে ভালোবাসতেন, যদিও কুরআন তাঁর ওপরেই অবতীর্ণ হতো। 


জেনে রাখবেন,আপনি যত বেশি পরিমাণ কুরআন শিখবেন,তিলাওয়াত করবেন,শুনবেন, মুখস্থ করবেন, মানে বুঝবেন, আমল করবেন, তত বেশি আপনার জন্য রহমত অবতীর্ণ হবে,তত বেশি আপনি শারীরিক ও হার্দিক আরোগ্য লাভ করবেন। আপনার মানসিক অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তা দূর হবে। মহান আল্লাহ বলেছেন,


{وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاء وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ وَلاَ يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إَلاَّ خَسَارًا} (82) سورة الإسراء


`আমি এ কুরআনের অবতরণ প্রক্রিয়ায় এমন সব বিষয় অবতীর্ণ করছি যা মুমিনদের জন্য নিরাময় ও রহমত এবং জালেমদের জন্য ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না৷' (বানী ইস্রাঈল ৮২)


ইবনুল জাওযী বলেন, `কুরআন তিলাওয়াত হার্দিক রোগে আরোগ্যের কাজ করে,যেমন দৈহিক রোগে মধু কাজ করে।'


শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেছেন,`আমি আল্লাহ তায়ালার কিতাব অব্যাহতভাবে পড়া ছাড়া এমন কোনো জিনিস দেখিনি,যা বুদ্ধি ও আত্মাকে খোরাক বেশি জোগাতে পারে, শরীরকে নীরোগ রাখতে পারে এবং সুখ-শান্তির নিশ্চয়তা দান করতে পারে।'


মহানবী ------বলেছেন,


{اقرأوا القرآن فإنه يأتي يوم القيامة شفيعًا لأصحابه}


``তোমরা কুরআন পাঠ কর। কারণ তা কিয়ামতের দিন পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারীরূপে আবির্ভুত হবে। '' (মুসলিম ১৯১০ নং)


তাঁর এই বাণীতেই যদি বিশ্বাসী হন,তাহলে তা আপনার দিবারাত্রি কুরআন তিলাওয়াতে মগ্ন হওয়ার কারণ হিসাবে যথেষ্ট। কারণ বর্কতময় কুরআন কিয়ামতে আপনার জন্য সুপারিশ করবে। যেদিন আপনার মা,বাবা,সন্তান,ভাই ইত্যাদি আপনাকে দেখে পালিয়ে যাবে। 


নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, 


((يَجِيءُ الْقُرْآنُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، فَيَقُولُ : يَا رَبِّ ، حَلِّهِ ، فَيُلْبَسُ تَاجَ الْكَرَامَةِ ، ثُمَّ يَقُولُ : يَا رَبِّ ، زِدْهُ ، فَيُلْبَسُ حُلَّةَ الْكَرَامَةِ ، ثُمَّ يَقُولُ : يَا رَبِّ ، ارْضَ عَنْهُ ، فَيَرْضَى عَنْهُ ، فَيُقَالُ لَهُ : اقْرَأْ وَارْقَ ، وَتُزَادُ بِكُلِّ آيَةٍ حَسَنَةً)).


`কুরআন ক্বিয়ামাত দিবসে হাযির হয়ে বলবে, হে আমার প্রভু! একে (কুরআনের বাহককে) অলংকার পরিয়ে দিন। তারপর তাকে সম্মান ও মর্যাদার মুকুট পরানো হবে। সে আবার বলবে, হে আমার প্রভু! তাকে আরো পোশাক দিন। সুতরাং তাকে মর্যাদার পোশাক পরানো হবে। সে আবার বলবে, হে আমার প্রভু! তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন। কাজেই তিনি তার উপর সন্তুষ্ট হবেন। তারপর তাকে বলা হবে, তুমি এক এক আয়াত পাঠ করতে থাক এবং উপরের দিকে উঠতে থাক। এমনিভাবে প্রতি আয়াতের বিনিময়ে তার একটি করে সাওয়াব (মর্যাদা) বাড়ানো হবে।' (তিরমিযী ২৯১৫নং) 


কুরআন তিলাওয়াতকারীর জন্য এতটুকু খুশীর খবরই যথেষ্ট।


আর  সতর্ক থাকুন,যাতে কোনোভাবে কুরআন থেকে দূরে সরে না যান। নচেৎ পরিণাম হবে ধ্বংস ও সর্বনাশ। 


মহান আল্লাহ বলেছেন,


{وَهُمْ يَنْهَوْنَ عَنْهُ وَيَنْأَوْنَ عَنْهُ }


`তারা এ মহাসত্যবাণী গ্রহণ করা থেকে লোকদেরকে বিরত রাখে এবং নিজেরাও এর কাছে থেকে দূরে পালায়৷' আর তারপরই বলেছেন,


{ وَإِن يُهْلِكُونَ إِلاَّ أَنفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ} (26) سورة الأنعام


`অথচ আসলে তারা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংসের পথ প্রশস্ত করেছে৷ কিন্তু এটা তারা উপলব্ধি করে না৷' (আনআম ২৬) 


আল্লাহর কসম করে বলতে পারি, যারা কুরআন থেকে উদাসীন, যাদের কুরআনের সাথে কোনো সম্পর্ক রাখে না, তারা বিশাল ক্ষতিগ্রস্ত।


কুরআন-ওয়ালারা আল্লাহর বিশেষ লোক। আপনি তাঁদের দলভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করুন। তাঁদের মজলিসে বসার চেষ্টা করুন। কারণ তাঁরা এমন সম্প্রদায়, যাঁদের সাথে উপবিষ্ট ব্যক্তি বঞ্চিত হয় না।


মহান আল্লাহ বলেছেন,


{ وَمَن يَبْخَلْ فَإِنَّمَا يَبْخَلُ عَن نَّفْسِهِ } (38) سورة محمد


`যারা কৃপণতা করে তারা প্রকৃতপক্ষে নিজের সাথেই কৃপণতা করছে৷' (মুহাম্মদ ৩৮)


তিনি আরো বলেছেন,


{إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِّلْعَالَمِينَ (87) وَلَتَعْلَمُنَّ نَبَأَهُ بَعْدَ حِينٍ} (88) سورة ص


`এ তো একটি উপদেশ সমস্ত পৃথিবীবাসীর জন্য উপদেশ এবং সামান্য সময় অতিবাহিত হবার পরই এ সম্পর্কে তোমরা নিজেরাই জানতে পারবে৷ ' (স্বাদ ৮৭-৮৮)


হে আল্লাহ! তুমি কুরআনকে আমাদের হৃদয়ের বসন্ত কর। আমাদের বক্ষের জ্যোতি কর। আমাদের দুশ্চিন্তা দূর করার এবং উদ্বেগ চলে যাওয়ার কারণ বানিয়ে দাও। আর কিয়ামতে তাকে আমাদের জন্য সুপারিশকারী বানাও।  আমীন।


সংগ্রহ ও ভাবানুবাদ : আব্দুল হামীদ আল-ফাইজি আল-মাদানী

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

আল্ কুরআন, সুরা ইয়াছিন ৩৬

✅ সংরক্ষিত!

 


আল্ কুরআন, সুরা ইয়াছিন ৩৬ 

অনুবাদ, অর্থ  সহ সুরা ইয়াছিন ঃ-

(36:0)

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ

অনুবাদ:    পরম করুণাময় মেহেরবান আল্লাহর নামে

(36:1)

یٰسٓۚ

অনুবাদ:    ইয়া-সীন।

(36:2)

وَ الْقُرْاٰنِ الْحَكِیْمِۙ

অনুবাদ:    বিজ্ঞানময় কুরআনের কসম,

(36:3)

اِنَّكَ لَمِنَ الْمُرْسَلِیْنَۙ

অনুবাদ:    তুমি নিঃসন্দেহে রসূলদের অন্তর্ভুক্ত,

(36:4)

عَلٰى صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍؕ

অনুবাদ:    সরল-সোজা পথ অবলম্বনকারী

(36:5)

تَنْزِیْلَ الْعَزِیْزِ الرَّحِیْمِۙ

অনুবাদ:    (এবং এ কুরআন) প্রবল পরাক্রমশালী ও করুণাময় সত্তার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত,

(36:6)

لِتُنْذِرَ قَوْمًا مَّاۤ اُنْذِرَ اٰبَآؤُهُمْ فَهُمْ غٰفِلُوْنَ

অনুবাদ:    যাতে তুমি সতর্ক করে দাও এমন এক জাতিকে যার বাপ-দাদাকে সতর্ক করা হয়নি এবং এ কারণে তারা গাফলতিতে ডুবে আছে।

(36:7)

لَقَدْ حَقَّ الْقَوْلُ عَلٰۤى اَكْثَرِهِمْ فَهُمْ لَا یُؤْمِنُوْنَ

অনুবাদ:    তাদের অধিকাংশই শাস্তি লাভের ফায়সালার হকদার হয়ে গেছে, এজন্যই তারা ঈমান আনে না।

(36:8)

اِنَّا جَعَلْنَا فِیْۤ اَعْنَاقِهِمْ اَغْلٰلًا فَهِیَ اِلَى الْاَذْقَانِ فَهُمْ مُّقْمَحُوْنَ

অনুবাদ:    আমি তাদের গলায় বেড়ি পরিয়ে দিয়েছি, যাতে তাদের চিবুক পর্যন্ত জড়িয়ে গেছে, তাই তারা মাথা উঠিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

(36:9)

وَ جَعَلْنَا مِنْۢ بَیْنِ اَیْدِیْهِمْ سَدًّا وَّ مِنْ خَلْفِهِمْ سَدًّا فَاَغْشَیْنٰهُمْ فَهُمْ لَا یُبْصِرُوْن

অনুবাদ:    আমি তাদের সামনে একটি দেয়াল এবং পেছনে একটি দেয়াল দাঁড় করিয়ে দিয়েছি। আমি তাদেরকে ঢেকে দিয়েছি, এখন তারা কিছুই দেখতে পায় না।

(36:10)

 

وَ سَوَآءٌ عَلَیْهِمْ ءَاَنْذَرْتَهُمْ اَمْ لَمْ تُنْذِرْهُمْ لَا یُؤْمِنُوْن

অনুবাদ:    তুমি তাদেরকে সতর্ক করো বা না করো তা তাদের জন্য সমান, তারা মানবে না।

(36:11)

اِنَّمَا تُنْذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَ خَشِیَ الرَّحْمٰنَ بِالْغَیْبِۚ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَّ اَجْرٍ كَرِیْمٍ

অনুবাদ:    তুমি তো তাকেই সতর্ক করতে পারো যে উপদেশ মেনে চলে এবং না দেখে দয়াময় আল্লাহকে ভয় করে, তাকে মাগফেরাত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিদানের সুসংবাদ দাও।

(36:12)

اِنَّا نَحْنُ نُحْیِ الْمَوْتٰى وَ نَكْتُبُ مَا قَدَّمُوْا وَ اٰثَارَهُمْۣؕ وَ كُلَّ شَیْءٍ اَحْصَیْنٰهُ فِیْۤ اِمَامٍ مُّبِیْنٍ۠

রুকু-১

অনুবাদ:    আমি অবশ্যই একদিন মৃতদেরকে জীবিত করবো, যা কিছু কাজ তারা করেছে তা সবই আমি লিখে চলছি এবং যা কিছু চিহ্ন তারা পেছনে রেখে যাচ্ছে তাও আমি স্থায়ী করে রাখছি। প্রত্যেকটি জিনিস আমি একটি খোলা কিতাবে লিখে রাখছি।

(36:13)

 

وَ اضْرِبْ لَهُمْ مَّثَلًا اَصْحٰبَ الْقَرْیَةِۘ اِذْ جَآءَهَا الْمُرْسَلُوْنَۚ

অনুবাদ:    তাদেরকে দৃষ্টান্তস্বরূপ সেই জনপদের লোকদের কাহিনী শোনাও যখন সেখানে রসূলগণ এসেছিল।

(36:14)

اِذْ اَرْسَلْنَاۤ اِلَیْهِمُ اثْنَیْنِ فَكَذَّبُوْهُمَا فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ فَقَالُوْۤا اِنَّاۤ اِلَیْكُمْ مُّرْسَلُوْنَ

অনুবাদ:    আমি তাদের কাছে দু’জন রসূল পাঠিয়ে ছিলাম এবং তারা দু’জনকেই প্রত্যাখ্যান করেছিল; তখন আমি তৃতীয় জনকে সাহায্যার্থে পাঠিয়ে ছিলাম এবং তাঁরা সবাই বলেছিল, “তোমাদের কাছে রসূল হিসেবে আমাদের পাঠানো হয়েছে।”

(36:15)

قَالُوْا مَاۤ اَنْتُمْ اِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَاۙ وَ مَاۤ اَنْزَلَ الرَّحْمٰنُ مِنْ شَیْءٍۙ اِنْ اَنْتُمْ اِلَّا تَكْذِبُوْنَ

অনুবাদ:    জনপদবাসীরা বললো, “তোমরা আমাদের মতো কয়েকজন মানুষ ছাড়া আর কেউ নও এবং দয়াময় আল্লাহ‌ মোটেই কোন জিনিস নাযিল করেননি, তোমরা স্রেফ মিথ্যা বলছো।”

(36:16)

 

قَالُوْا رَبُّنَا یَعْلَمُ اِنَّاۤ اِلَیْكُمْ لَمُرْسَلُوْنَ

অনুবাদ:    রসূলরা বললো, আমাদের রব জানেন আমাদের অবশ্যই তোমাদের কাছে রসূল হিসেবে পাঠানো হয়েছে

(36:17)

وَ مَا عَلَیْنَاۤ اِلَّا الْبَلٰغُ الْمُبِیْنُ

অনুবাদ:    এবং সুস্পষ্টভাবে পয়গাম পৌঁছিয়ে দেয়া ছাড়া আমাদের ওপর আর কোন দায়িত্ব নেই।

(36:18)

قَالُوْۤا اِنَّا تَطَیَّرْنَا بِكُمْۚ لَئِنْ لَّمْ تَنْتَهُوْا لَنَرْجُمَنَّكُمْ وَ لَیَمَسَّنَّكُمْ مِّنَّا عَذَابٌ اَلِیْمٌ

অনুবাদ:    জনপদবাসীরা বলতে লাগলো, “আমরা তো তোমাদেরকে নিজেদের জন্য অমঙ্গলজনক মনে করি। যদি তোমরা বিরত না হও তাহলে আমরা তোমাদেরকে প্রস্তরাঘাতে নিহত করবো এবং আমাদের হাতে তোমরা বড়ই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ভোগ করবে।

(36:19)

قَالُوْا طَآئِرُكُمْ مَّعَكُمْؕ اَئِنْ ذُكِّرْتُمْؕ بَلْ اَنْتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُوْنَ

অনুবাদ:    রসূলরা জবাব দিল, তোমাদের অমঙ্গল তোমাদের নিজেদের সাথেই লেগে আছে। তোমাদের উপদেশ দেয়া হয়েছে বলেই কি তোমরা একথা বলছো? আসল কথা হচ্ছে, তোমরা সীমালংঘনকারী লোক।

(36:20)

وَ جَآءَ مِنْ اَقْصَا الْمَدِیْنَةِ رَجُلٌ یَّسْعٰى قَالَ یٰقَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِیْنَۙ

অনুবাদ:    ইতিমধ্যে নগরীর দূর প্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি দৌঁড়ে এসে বললো, হে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা! রসূলদের কথা মেনে নাও।

(36:21)

اتَّبِعُوْا مَنْ لَّا یَسْــٴَـلُكُمْ اَجْرًا وَّ هُمْ مُّهْتَدُوْنَ

অনুবাদ:    যারা তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চায় না এবং সঠিক পথের অনুসারী, তাদের কথা মেনে নাও।


(36:22)

وَ مَا لِیَ لَاۤ اَعْبُدُ الَّذِیْ فَطَرَنِیْ وَ اِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ

অনুবাদ:    কেন আমি এমন সত্ত্বার বন্দেগী করবো না যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যাঁর দিকে তোমাদের সবাইকে ফিরে যেতে হবে?

(36:23)

ءَاَتَّخِذُ مِنْ دُوْنِهٖۤ اٰلِهَةً اِنْ یُّرِدْنِ الرَّحْمٰنُ بِضُرٍّ لَّا تُغْنِ عَنِّیْ شَفَاعَتُهُمْ شَیْــٴًـا وَّ لَا یُنْقِذُوْنِۚ

অনুবাদ:    তাঁকে বাদ দিয়ে কি আমি অন্য উপাস্য বানিয়ে নেবো? অথচ যদি দয়াময় আল্লাহ‌ আমার কোন ক্ষতি করতে চান তাহলে তাদের সুপারিশ আমার কোন কাজে লাগবে না এবং তারা আমাকে ছাড়িয়ে নিতেও পারবে না।

(36:24)

اِنِّیْۤ اِذًا لَّفِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ

অনুবাদ:    যদি এমনটি করি তাহলে আমি সুস্পষ্ট গোমরাহীতে লিপ্ত হয়ে পড়বো।

(36:25)

اِنِّیْۤ اٰمَنْتُ بِرَبِّكُمْ فَاسْمَعُوْنِؕ

অনুবাদ:    আমি তো তোমাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছি, তোমরাও আমার কথা মেনে নাও।


(36:26)

قِیْلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَؕ قَالَ یٰلَیْتَ قَوْمِیْ یَعْلَمُوْنَۙ

অনুবাদ:    (শেষ পর্যন্ত তারা তাঁকে হত্যা করে ফেললো এবং) সে ব্যক্তিকে বলে দেয়া হলো, “প্রবেশ করো জান্নাতে।” সে বললো, “হায়! যদি আমার সম্প্রদায় জানতো

(36:27)

بِمَا غَفَرَ لِیْ رَبِّیْ وَ جَعَلَنِیْ مِنَ الْمُكْرَمِیْنَ

অনুবাদ:    আমার রব কোন জিনিসের বদৌলতে আমার মাগফিরাত করেছেন এবং আমাকে মর্যাদাশালী লোকদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন!”

(36:28)

وَ مَاۤ اَنْزَلْنَا عَلٰى قَوْمِهٖ مِنْۢ بَعْدِهٖ مِنْ جُنْدٍ مِّنَ السَّمَآءِ وَ مَا كُنَّا مُنْزِلِیْنَ

অনুবাদ:    এরপর তার সম্প্রদায়ের ওপর আমি আকাশ থেকে কোন সেনাদল পাঠাইনি, সেনাদল পাঠাবার কোন দরকারও আমার ছিল না।

(36:29)

اِنْ كَانَتْ اِلَّا صَیْحَةً وَّاحِدَةً فَاِذَا هُمْ خٰمِدُوْنَ

অনুবাদ:    ব্যস, একটি বিস্ফোরণের শব্দ হলো এবং সহসা তারা সব নিস্তব্ধ হয়ে গেলো।


(36:30)

یٰحَسْرَةً عَلَى الْعِبَادِۣۚ مَا یَاْتِیْهِمْ مِّنْ رَّسُوْلٍ اِلَّا كَانُوْا بِهٖ یَسْتَهْزِءُوْنَ

অনুবাদ:    বান্দাদের অবস্থার প্রতি আফসোস, যে রসূলই তাদের কাছে এসেছে তাঁকেই তারা বিদ্রূপ করতে থেকেছে।

(36:31)

اَلَمْ یَرَوْا كَمْ اَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِّنَ الْقُرُوْنِ اَنَّهُمْ اِلَیْهِمْ لَا یَرْجِعُوْنَؕ

অনুবাদ:    তারা কি দেখেনি তাদের পূর্বে কত মানব সম্প্রদায়কে আমি ধ্বংস করেছি এবং তারপর তারা আর কখনো তাদের কাছে ফিরে আসবে না?

(36:32)

وَ اِنْ كُلٌّ لَّمَّا جَمِیْعٌ لَّدَیْنَا مُحْضَرُوْنَ۠

রুকু-২

অনুবাদ:    তাদের সবাইকে একদিন আমার সামনে হাজির করা হবে।


(36:33)

وَ اٰیَةٌ لَّهُمُ الْاَرْضُ الْمَیْتَةُ ۚۖ اَحْیَیْنٰهَا وَ اَخْرَجْنَا مِنْهَا حَبًّا فَمِنْهُ یَاْكُلُوْنَ

অনুবাদ:    এদের জন্য নিষ্প্রাণ ভূমি একটি নিদর্শন। আমি তাকে জীবন দান করেছি এবং তা থেকে শস্য উৎপন্ন করেছি, যা এরা খায়।


(36:34)

وَ جَعَلْنَا فِیْهَا جَنّٰتٍ مِّنْ نَّخِیْلٍ وَّ اَعْنَابٍ وَّ فَجَّرْنَا فِیْهَا مِنَ الْعُیُوْنِۙ

অনুবাদ:    আমি তার মধ্যে খেজুর ও আংগুরের বাগান সৃষ্টি করেছি এবং তার মধ্যে থেকে ঝরণাধারা উৎসারিত করেছি,

(36:35)

لِیَاْكُلُوْا مِنْ ثَمَرِهٖۙ وَ مَا عَمِلَتْهُ اَیْدِیْهِمْؕ اَفَلَا یَشْكُرُوْنَ

অনুবাদ:    যাতে এরা তার ফল ভক্ষণ করে। এসব কিছু এদের নিজেদের হাতের সৃষ্ট নয়। তারপরও কি এরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না?

(36:36)

سُبْحٰنَ الَّذِیْ خَلَقَ الْاَزْوَاجَ كُلَّهَا مِمَّا تُنْۢبِتُ الْاَرْضُ وَ مِنْ اَنْفُسِهِمْ وَ مِمَّا لَا یَعْلَمُوْنَ

অনুবাদ:    পাক-পবিত্র সে সত্ত্বা যিনি সব রকমের জোড়া সৃষ্টি করেছেন, তা ভূমিজাত উদ্ভিদের মধ্য থেকে হোক অথবা স্বয়ং এদের নিজেদের প্রজাতির (অর্থাৎ মানব জাতি) মধ্য থেকে হোক কিংবা এমন জিনিসের মধ্য থেকে হোক যাদেরকে এরা জানেও না।


(36:37)

وَ اٰیَةٌ لَّهُمُ الَّیْلُ ۚۖ نَسْلَخُ مِنْهُ النَّهَارَ فَاِذَا هُمْ مُّظْلِمُوْنَۙ

অনুবাদ:    এদের জন্য রাত হচ্ছে আর একটি নিদর্শন। আমি তার উপর থেকে দিনকে সরিয়ে দেই তখন এদের ওপর অন্ধকার ছেয়ে যায়।


(36:38)

وَ الشَّمْسُ تَجْرِیْ لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَاؕ ذٰلِكَ تَقْدِیْرُ الْعَزِیْزِ الْعَلِیْمِؕ

অনুবাদ:    আর সূর্য, সে তার নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলছে। এটি প্রবল পরাক্রমশালী জ্ঞানী সত্তার নিয়ন্ত্রিত হিসেব।


(36:39)

وَ الْقَمَرَ قَدَّرْنٰهُ مَنَازِلَ حَتّٰى عَادَ كَالْعُرْجُوْنِ الْقَدِیْمِ

অনুবাদ:    আর চাঁদ, তার জন্য আমি মঞ্জিল নির্দিষ্ট করে দিয়েছি, সেগুলো অতিক্রম করে সে শেষ পর্যন্ত আবার খেজুরের শুকনো ডালের মতো হয়ে যায়।


(36:40)

لَا الشَّمْسُ یَنْۢبَغِیْ لَهَاۤ اَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَ لَا الَّیْلُ سَابِقُ النَّهَارِؕ وَ كُلٌّ فِیْ فَلَكٍ یَّسْبَحُوْنَ

অনুবাদ:    না সূর্যের ক্ষমতা আছে চাঁদকে ধরে ফেলে এবং না রাত দিনের ওপর অগ্রবর্তী হতে পারে, সবাই এক একটি কক্ষপথে সন্তরণ করছে।


(36:41)

وَ اٰیَةٌ لَّهُمْ اَنَّا حَمَلْنَا ذُرِّیَّتَهُمْ فِی الْفُلْكِ الْمَشْحُوْنِۙ

অনুবাদ:    এদের জন্য এটিও একটি নিদর্শন যে, আমি এদের বংশধরদেরকে ভরা নৌকায় চড়িয়ে দিয়েছি


(36:42)

وَ خَلَقْنَا لَهُمْ مِّنْ مِّثْلِهٖ مَا یَرْكَبُوْنَ

অনুবাদ:    এবং তারপর এদের জন্য ঠিক তেমনি আরো নৌযান সৃষ্টি করেছি যেগুলোতে এরা আরোহণ করে।

(36:43)

وَ اِنْ نَّشَاْ نُغْرِقْهُمْ فَلَا صَرِیْخَ لَهُمْ وَ لَا هُمْ یُنْقَذُوْنَۙ

অনুবাদ:    আমি চাইলে এদেরকে ডুবিয়ে দেই, এদের কোন ফরিয়াদ শ্রবণকারী থাকবে না এবং কোনভাবেই এদেরকে বাঁচানো যেতে পারে না।

(36:44)

اِلَّا رَحْمَةً مِّنَّا وَ مَتَاعًا اِلٰى حِیْنٍ

অনুবাদ:    ব্যস, আমার রহমতই এদেরকে কূলে ভিড়িয়ে দেয় এবং একটি বিশেষ সময় পর্যন্ত জীবনের দ্বারা লাভবান হবার সুযোগ দিয়ে থাকে।

(36:45)

وَ اِذَا قِیْلَ لَهُمُ اتَّقُوْا مَا بَیْنَ اَیْدِیْكُمْ وَ مَا خَلْفَكُمْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ

অনুবাদ:    এদেরকে যখন বলা হয়, তোমাদের সামনে যে পরিণাম আসছে এবং যা তোমাদের পেছনে অতিক্রান্ত হয়েছে তার হাত থেকে বাঁচো, হয়তো তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হবে (তখন এরা এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দেয়) ।

(36:46)

وَ مَا تَاْتِیْهِمْ مِّنْ اٰیَةٍ مِّنْ اٰیٰتِ رَبِّهِمْ اِلَّا كَانُوْا عَنْهَا مُعْرِضِیْنَ

অনুবাদ:    এদের সামনে এদের রবের আয়াতসমূহের মধ্য থেকে যে আয়াতই আসে এরা সেদিকে দৃষ্টি দেয় না

(36:47)

وَ اِذَا قِیْلَ لَهُمْ اَنْفِقُوْا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللّٰهُۙ قَالَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لِلَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اَنُطْعِمُ مَنْ لَّوْ یَشَآءُ اللّٰهُ اَطْعَمَهٗۤ   ط   اِنْ اَنْتُمْ اِلَّا فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ

অনুবাদ:    এবং যখন এদেরকে বলা হয়, আল্লাহ‌ তোমাদের যে রিযিক দান করেছেন তার মধ্য থেকে কিছু আল্লাহ‌র পথে খরচ করো তখন এসব কুফরীতে লিপ্ত লোক মু’মিনদেরকে জবাব দেয় “আমরা কি তাদেরকে খাওয়াবো, যাদেরকে আল্লাহ‌ চাইলে নিজেই খাওয়াতেন? তোমরা তো পরিষ্কার বিভ্রান্তির শিকার হয়েছো।”


(36:48)

وَ یَقُوْلُوْنَ مَتٰى هٰذَا الْوَعْدُ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ

অনুবাদ:    এরা বলে, “এ কিয়ামতের হুমকি কবে পুরা হবে? বলো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?

(36:49)

مَا یَنْظُرُوْنَ اِلَّا صَیْحَةً وَّاحِدَةً تَاْخُذُهُمْ وَ هُمْ یَخِصِّمُوْنَ

অনুবাদ:    আসলে এরা যে জিনিসের দিকে তাকিয়ে আছে তা তো একটি বিস্ফোরণের শব্দ, যা সহসা এদেরকে ঠিক এমন অবস্থায় ধরে ফেলবে যখন এরা (নিজেদের পার্থিব ব্যাপারে) বিবাদ করতে থাকবে

(36:50)

فَلَا یَسْتَطِیْعُوْنَ تَوْصِیَةً وَّ لَاۤ اِلٰۤى اَهْلِهِمْ یَرْجِعُوْنَ۠

অনুবাদ:    এবং সে সময় এরা কোন অসিয়াতও করতে পারবে না এবং নিজেদের গৃহেও ফিরতে পারবে না।

(36:51)

وَ نُفِخَ فِی الصُّوْرِ فَاِذَا هُمْ مِّنَ الْاَجْدَاثِ اِلٰى رَبِّهِمْ یَنْسِلُوْنَ

অনুবাদ:    -তারপর একটি শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে এবং সহসা তারা নিজেদের রবের সামনে হাজির হবার জন্য নিজেদের কবর থেকে বের হয়ে পড়বে।

(36:52)

قَالُوْا یٰوَیْلَنَا مَنْۢ بَعَثَنَا مِنْ مَّرْقَدِنَاﱃ هٰذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمٰنُ وَ صَدَقَ الْمُرْسَلُوْنَ


শব্দার্থ:        قَالُوا =  (ভীতহয়ে)তারাবলবে,     يَاوَيْلَنَا =  আমাদেরদুর্ভোগহায়,     مَنْ =  কে,     بَعَثَنَا =  আমাদেরকেউঠালো,     مِنْ =  হতে,     مَرْقَدِنَا =  আমাদেরঘুমেরস্হান,     هَٰذَا =  এটাই,     مَا =  (তাই)যার,     وَعَدَ =  প্রতিশ্রুতিদিয়েছিলেন,     الرَّحْمَٰنُ =  দয়াময়,     وَصَدَقَ =  এবংসত্যইবলেছিলেন,     الْمُرْسَلُونَ =  রাসূলগণ,


অনুবাদ:    ভীত হয়ে বলবে, “আরে কে আমাদেরকে আমাদের নিঁদমহল থেকে উঠিয়ে দাঁড় করালো?” ----“এটা সে জিনিস যার প্রতিশ্রুতি দয়াময় আল্লাহ‌ দিয়েছিলেন এবং রসূলদের কথা সত্য ছিল।”


(36:53)

اِنْ كَانَتْ اِلَّا صَیْحَةً وَّاحِدَةً فَاِذَا هُمْ جَمِیْعٌ لَّدَیْنَا مُحْضَرُوْنَ


শব্দার্থ:        إِنْ =  না,     كَانَتْ =  হবে,     إِلَّا =  এছাড়া,     صَيْحَةً =  মহাগর্জন,     وَاحِدَةً =  একটিমাত্র,     فَإِذَا =  অতঃপরতখনই,     هُمْ =  তাদের,     جَمِيعٌ =  সকলকেই,     لَدَيْنَا =  আমাদেরকাছে,     مُحْضَرُونَ =  উপস্থিতকরাহবে,


অনুবাদ:    একটিমাত্র প্রচণ্ড আওয়াজ হবে এবং সবকিছু আমার সামনে হাজির করে দেয়া হবে।

(36:54)

فَالْیَوْمَ لَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَیْــٴًـا وَّ لَا تُجْزَوْنَ اِلَّا مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ


শব্দার্থ:        فَالْيَوْمَ =  অতঃপর(বলাহবে)আজ,     لَا =  না,     تُظْلَمُ =  অবিচারকরাহবে,     نَفْسٌ =  কাউকে,     شَيْئًا =  কিছুই,     وَلَا =  আরনা,     تُجْزَوْنَ =  প্রতিফলদেওয়াহবে,     إِلَّا =  এব্যতীত,     مَا =  যা,     كُنْتُمْ =  তোমরা,     تَعْمَلُونَ =  কাজকরতেছিলে,


অনুবাদ:    আজ কারো প্রতি তিলমাত্র জুলুম করা হবে না এবং যেমন কাজ তোমরা করে এসেছ ঠিক তারই প্রতিদান তোমাদের দেয়া হবে

(36:55)

اِنَّ اَصْحٰبَ الْجَنَّةِ الْیَوْمَ فِیْ شُغُلٍ فٰكِهُوْنَۚ


শব্দার্থ:        إِنَّ =  নিশ্চয়ই,     أَصْحَابَ =  অধিবাসীরা,     الْجَنَّةِ =  জান্নাতের,     الْيَوْمَ =  আজ,     فِي =  থাকবে,     شُغُلٍ =  (মজার)মগ্ন,     فَاكِهُونَ =  আনন্দে,


অনুবাদ:    ---জান্নাতীরা আজ আনন্দে মশগুল রয়েছে।


(36:56)

هُمْ وَ اَزْوَاجُهُمْ فِیْ ظِلٰلٍ عَلَى الْاَرَآئِكِ مُتَّكِــٴُـوْنَ


শব্দার্থ:        هُمْ =  তারা,     وَأَزْوَاجُهُمْ =  ওতাদেরস্ত্রীরা(হবে),     فِي =  মধ্যে,     ظِلَالٍ =  ছায়ার,     عَلَى =  উপর,     الْأَرَائِكِ =  সুসজ্জিতআসনে,     مُتَّكِئُونَ =  হেলানদিয়েবসবে,


অনুবাদ:    তারা ও তাদের স্ত্রীরা ঘন ছায়ায় রাজকীয় আসনে হেলান দিয়ে বসে আছে।

(36:57)

لَهُمْ فِیْهَا فَاكِهَةٌ وَّ لَهُمْ مَّا یَدَّعُوْنَۚۖ


শব্দার্থ:        لَهُمْ =  তাদেরজন্যে(থাকবে),     فِيهَا =  তারমধ্যে,     فَاكِهَةٌ =  ফলমূল,     وَلَهُمْ =  ওতাদেরজন্যে(থাকবে),     مَا =  যা,     يَدَّعُونَ =  তারাচাইবে,


অনুবাদ:    সব রকমের সুস্বাদু পানাহারের জিনিস তাদের জন্য সেখানে রয়েছে, যা কিছু তারা চাইবে তা তাদের জন্য হাজির রয়েছে।

(36:58)

  سَلٰمٌ قَوْلًا مِّنْ رَّبٍّ رَّحِیْمٍ


শব্দার্থ:        سَلَامٌ =  সালাম,     قَوْلًا =  বলা(হবে),     مِنْ =  পক্ষহতে,     رَبٍّ =  রবের,     رَحِيمٍ =  (যিনি)পরমদয়ালু,


অনুবাদ:    দয়াময় রবের পক্ষ থেকে তাদেরকে “সালাম” বলা হয়েছে

(36:59)

وَ امْتَازُوا الْیَوْمَ اَیُّهَا الْمُجْرِمُوْنَ


শব্দার্থ:        وَامْتَازُوا =  এবং(বলাহবে)তোমারাআলাদাহয়েযাও,     الْيَوْمَ =  আজ,     أَيُّهَا =  হে,     الْمُجْرِمُونَ =  অপরাধীরা,


অনুবাদ:    ---এবং হে অপরাধীরা! আজ তোমরা ছাঁটাই হয়ে আলাদা হয়ে যাও।

(36:60)

اَلَمْ اَعْهَدْ اِلَیْكُمْ یٰبَنِیْۤ اٰدَمَ اَنْ لَّا تَعْبُدُوا الشَّیْطٰنَۚ اِنَّهٗ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِیْنٌۙ


শব্দার্থ:        أَلَمْ =  দিইনিকি,     أَعْهَدْ =  আমিনির্দেশ,     إِلَيْكُمْ =  তোমাদেরপ্রতি,     يَابَنِي =  হেসন্তান,     آدَمَ =  আদমের,     أَنْ =  যে,     لَا =  না,     تَعْبُدُوا =  তোমরাদাসত্বকরো,     الشَّيْطَانَ =  শয়তানের,     إِنَّهُ =  সেনিশ্চয়ই,     لَكُمْ =  তোমাদেরজন্যে,     عَدُوٌّ =  শত্রু,     مُبِينٌ =  প্রকাশ্য,


অনুবাদ:    হে আদম সন্তানেরা! আমি কি তোমাদের এ মর্মে হিদায়াত করিনি যে, শয়তানের বন্দেগী করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু


(36:61)

وَّ اَنِ اعْبُدُوْنِیْﳳ هٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِیْمٌ


শব্দার্থ:        وَأَنِ =  এবং(এও)যে,     اعْبُدُونِي =  আমারইতোমরাইবাদতকরো,     هَٰذَا =  এটাই,     صِرَاطٌ =  পথ,     مُسْتَقِيمٌ =  সরলসঠিক,


অনুবাদ:    এবং আমারই বন্দেগী করো, এটিই সরল-সঠিক পথ?

(36:62)

وَ لَقَدْ اَضَلَّ مِنْكُمْ جِبِلًّا كَثِیْرًاؕ اَفَلَمْ تَكُوْنُوْا تَعْقِلُوْنَ


শব্দার্থ:        وَلَقَدْ =  এবং(এসত্ত্বেও)নিশ্চয়ই,     أَضَلَّ =  সেপথভ্রষ্টকরেছে,     مِنْكُمْ =  তোমাদেরমধ্যহতে,     جِبِلًّا =  বড়দলকে,     كَثِيرًا =  অনেক,     أَفَلَمْ =  তবুওকিনা,     تَكُونُوا =  হবে,     تَعْقِلُونَ =  তোমরাবুঝতে,


অনুবাদ:    কিন্তু এ সত্ত্বেও সে তোমাদের মধ্য থেকে বিপুল সংখ্যককে গোমরাহ করে দিয়েছে, তোমাদের কি বুদ্ধি-জ্ঞান নেই?

(36:63)

هٰذِهٖ جَهَنَّمُ الَّتِیْ كُنْتُمْ تُوْعَدُوْنَ


শব্দার্থ:        هَٰذِهِ =  এইসেই,     جَهَنَّمُ =  জাহান্নাম,     الَّتِي =  যার,     كُنْتُمْ =  তোমাদের,     تُوعَدُونَ =  প্রতিশ্রুতিদেয়াহয়েছিলো,


অনুবাদ:    এটা সে জাহান্নাম, যার ভয় তোমাদের দেখানো হতো।

(36:64)

اِصْلَوْهَا الْیَوْمَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُوْنَ


শব্দার্থ:        اصْلَوْهَا =  তাতেতোমরাপ্রবেশকরো,     الْيَوْمَ =  আজ,     بِمَا =  বিনিময়েযা,     كُنْتُمْ =  তোমরা,     تَكْفُرُونَ =  অস্বীকারকরছিলে,


অনুবাদ:    দুনিয়ায় যে কুফরী তোমরা করতে থেকেছো তার ফলস্বরূপ আজ এর ইন্ধন হও।

(36:65)

اَلْیَوْمَ نَخْتِمُ عَلٰۤى اَفْوَاهِهِمْ وَ تُكَلِّمُنَاۤ اَیْدِیْهِمْ وَ تَشْهَدُ اَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ


শব্দার্থ:        الْيَوْمَ =  আজ,     نَخْتِمُ =  সীলকরেদিবোআমরা,     عَلَىٰ =  উপর,     أَفْوَاهِهِمْ =  তাদেরমুখগুলোর,     وَتُكَلِّمُنَا =  এবংআমাদেরসাথেকথাবলবে,     أَيْدِيهِمْ =  তাদেরহাতগুলো,     وَتَشْهَدُ =  এবংসাক্ষ্যদিবে,     أَرْجُلُهُمْ =  তাদেরপাগুলো,     بِمَا =  ঐবিষয়েযা,     كَانُوا =  করেছিলো,     يَكْسِبُونَ =  তারাকামাই,


অনুবাদ:    আজ আমি এদের মুখ বন্ধ করে দিচ্ছি, এদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং এদের পা সাক্ষ্য দেবে এরা দুনিয়ায় কি উপার্জন করে এসেছে।


(36:66)

وَ لَوْ نَشَآءُ لَطَمَسْنَا عَلٰۤى اَعْیُنِهِمْ فَاسْتَبَقُوا الصِّرَاطَ فَاَنّٰى یُبْصِرُوْنَ


শব্দার্থ:        وَلَوْ =  এবংযদি,     نَشَاءُ =  চাইআমরা,     لَطَمَسْنَا =  দিতেপারিঅবশ্যই,     عَلَىٰ =  আমরাআলোনিভিয়ে,     أَعْيُنِهِمْ =  তাদেরচোখের,     فَاسْتَبَقُوا =  তারাঅতঃপরচলতেচাইতো,     الصِّرَاطَ =  পথে,     فَأَنَّىٰ =  তখনকেমনকরে,     يُبْصِرُونَ =  তারাদেখতেপাবে,


অনুবাদ:    আমি চাইলে এদের চোখ বন্ধ করে দিতাম, তখন এরা পথের দিকে চেয়ে দেখতো, কোথা থেকে এরা পথের দেখা পাবে?


(36:67)

وَ لَوْ نَشَآءُ لَمَسَخْنٰهُمْ عَلٰى مَكَانَتِهِمْ فَمَا اسْتَطَاعُوْا مُضِیًّا وَّ لَا یَرْجِعُوْنَ۠


শব্দার্থ:        وَلَوْ =  এবংযদি,     نَشَاءُ =  চাইআমরা,     لَمَسَخْنَاهُمْ =  তাদেরকেআমরাঅবশ্যইবিকৃতকরেদিতেপারি,     عَلَىٰ =  উপর,     مَكَانَتِهِمْ =  তাদের(নিজনিজ)অবস্থানেই,     فَمَا =  অতঃপরনা,     اسْتَطَاعُوا =  তারাসমর্থহবে,     مُضِيًّا =  আগেযেতে,     وَلَا =  আরনা,     يَرْجِعُونَ =  পিছনেফিরতে,


অনুবাদ:    আমি চাইলে এদের নিজেদের জায়গায়ই এদেরকে এমনভাবে বিকৃত করে রেখে দিতাম যার ফলে এরা না সামনে এগিয়ে যেতে পারতো, না পেছনে ফিরে আসতে পারতো।

(36:68)

وَ مَنْ نُّعَمِّرْهُ نُنَكِّسْهُ فِی الْخَلْقِؕ اَفَلَا یَعْقِلُوْنَ


শব্দার্থ:        وَمَنْ =  এবংকোনোব্যক্তি,     نُعَمِّرْهُ =  যাকেদীর্ঘায়ুদিইআমরা,     نُنَكِّسْهُ =  উল্টিয়েদিইআমরাতার,     فِي =  মধ্যে,     الْخَلْقِ =  আকৃতি-প্রকৃতির(বুদ্ধিওযোগ্যতার),     أَفَلَا =  তবুওকিনা,     يَعْقِلُونَ =  তারাজ্ঞানবুদ্ধিকাজেলাগায়,


অনুবাদ:    যে ব্যক্তিকে আমি দীর্ঘ আয়ু দান করি তার আকৃতিকে আমি একেবারেই বদলে দেই (এ অবস্থা দেখে কি) তাদের বোধোদয় হয় না?


(36:69)

وَ مَا عَلَّمْنٰهُ الشِّعْرَ وَ مَا یَنْۢبَغِیْ لَهٗؕ اِنْ هُوَ اِلَّا ذِكْرٌ وَّ قُرْاٰنٌ مُّبِیْنٌۙ


শব্দার্থ:        وَمَا =  এবংনা,     عَلَّمْنَاهُ =  তাকেআমরাশিখিয়েছি,     الشِّعْرَ =  কবিতা,     وَمَا =  আরনা,     يَنْبَغِي =  শোভাপায়(এটা),     لَهُ =  তারজন্যে,     إِنْ =  না,     هُوَ =  তা,     إِلَّا =  এছাড়া,     ذِكْرٌ =  উপদেশ,     وَقُرْآنٌ =  ও(পাঠযোগ্যকিতাব)কোরআন,     مُبِينٌ =  সুস্পষ্ট,


অনুবাদ:    আমি এ (নবী)-কে কবিতা শিখাইনি এবং কাব্য চর্চা তার জন্য শোভনীয়ও নয়। এ তো একটি উপদেশ এবং পরিষ্কার পঠনযোগ্য কিতাব,

(36:70)

لِّیُنْذِرَ مَنْ كَانَ حَیًّا وَّ یَحِقَّ الْقَوْلُ عَلَى الْكٰفِرِیْنَ


শব্দার্থ:        لِيُنْذِرَ =  সতর্ককরেযেন,     مَنْ =  (এমনপ্রত্যেককে)যে,     كَانَ =  হলো,     حَيًّا =  জীবিত,     وَيَحِقَّ =  এবংপ্রতিষ্ঠিতহতেপারে(যেন),     الْقَوْلُ =  (শাস্তির)বাণী,     عَلَى =  বিরুদ্ধে,     الْكَافِرِينَ =  কাফিরদের,


অনুবাদ:    যাতে সে প্রত্যেক জীবিত ব্যক্তিকে সতর্ক করে দিতে পারে এবং অস্বীকারকারীদের ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।


(36:71)

اَوَ لَمْ یَرَوْا اَنَّا خَلَقْنَا لَهُمْ مِّمَّا عَمِلَتْ اَیْدِیْنَاۤ اَنْعَامًا فَهُمْ لَهَا مٰلِكُوْنَ


শব্দার্থ:        أَوَلَمْ =  নিকি,     يَرَوْا =  তারাদেখে,     أَنَّا =  যেআমরা,     خَلَقْنَا =  আমরাসৃষ্টিকরেছি,     لَهُمْ =  তাদেরজন্যে,     مِمَّا =  সেসবথেকেযা,     عَمِلَتْ =  সৃষ্টিকরেছে,     أَيْدِينَا =  আমাদেরহাতগুলো,     أَنْعَامًا =  (যেমন)গবাদিপশু,     فَهُمْ =  এখনতারাই,     لَهَا =  সেগুলোর,     مَالِكُونَ =  মালিক,


অনুবাদ:    এরা কি দেখে না, আমি নিজের হাতে তৈরী জিনিসের মধ্য থেকে এদের জন্য সৃষ্টি করেছি গবাদি পশু এবং এখন এরা তার মালিক।


(36:72)

وَ ذَلَّلْنٰهَا لَهُمْ فَمِنْهَا رَكُوْبُهُمْ وَ مِنْهَا یَاْكُلُوْنَ


শব্দার্থ:        وَذَلَّلْنَاهَا =  এবংসেগুলোকেআমরাবশীভূতকরেছি,     لَهُمْ =  তাদেরজন্যে,     فَمِنْهَا =  অতঃপর(রয়েছে)সেগুলোরকিছুকিছু,     رَكُوبُهُمْ =  তাদেরবাহনও(যেমনউট),     وَمِنْهَا =  এবংসেগুলোরকিছুকিছু,     يَأْكُلُونَ =  তারাআহারওকরে,


অনুবাদ:    আমি এভাবে তাদেরকে এদের নিয়ন্ত্রণে দিয়ে দিয়েছি যে, তাদের মধ্য থেকে কারো ওপর এরা সওয়ার হয়, কারো গোশত খায়


(36:73)

وَ لَهُمْ فِیْهَا مَنَافِعُ وَ مَشَارِبُؕ اَفَلَا یَشْكُرُوْنَ


শব্দার্থ:        وَلَهُمْ =  এবংতাদেরজন্যেরয়েছে,     فِيهَا =  সেগুলোরমধ্যে,     مَنَافِعُ =  (নানারকম)উপকার,     وَمَشَارِبُ =  এবং(নানাপ্রকার)পানীয়,     أَفَلَا =  তবুওকিনা,     يَشْكُرُونَ =  তারাকৃতজ্ঞহবে,


অনুবাদ:    এবং তাদের মধ্যে এদের জন্য রয়েছে নানা ধরনের উপকারিতা ও পানীয়। এরপর কি এরা কৃতজ্ঞ হয় না?


(36:74)

وَ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ اٰلِهَةً لَّعَلَّهُمْ یُنْصَرُوْنَؕ


শব্দার্থ:        وَاتَّخَذُوا =  এবং(এসত্ত্বেও)তারাগ্রহণকরেছে,     مِنْ =  মধ্যহতে,     دُونِ =  ছাড়া,     اللَّهِ =  আল্লাহ,     آلِهَةً =  উপাস্যরূপে(অন্যদেরকে),     لَعَلَّهُمْ =  তারাযাতে,     يُنْصَرُونَ =  তারাসাহায্যপাবে,


অনুবাদ:    এ সবকিছু সত্ত্বেও এরা আল্লাহ‌কে বাদ দিয়ে অন্য ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে এবং এদেরকে সাহায্য করা হবে এ আশা করছে।

(36:75)

لَا یَسْتَطِیْعُوْنَ نَصْرَهُمْۙ وَ هُمْ لَهُمْ جُنْدٌ مُّحْضَرُوْنَ


শব্দার্থ:        لَا =  না,     يَسْتَطِيعُونَ =  তারাসমর্থহবে,     نَصْرَهُمْ =  তাদেরসাহায্যকরতে,     وَهُمْ =  বরংতারাই(হয়েআছে),     لَهُمْ =  তাদেরজন্যে,     جُنْدٌ =  সৈন্য(রক্ষাকারীরূপে),     مُحْضَرُونَ =  সদাউপস্থিত,


অনুবাদ:    তারা এদের কোন সাহায্য করতে পারে না বরং উল্টো এরা তাদের জন্য সদা প্রস্তুত সৈন্য হয়ে বিরাজ করছে।


(36:76)

فَلَا یَحْزُنْكَ قَوْلُهُمْۘ اِنَّا نَعْلَمُ مَا یُسِرُّوْنَ وَ مَا یُعْلِنُوْنَ


শব্দার্থ:        فَلَا =  কাজেইনা(যেন),     يَحْزُنْكَ =  তোমাকেদুঃখদেয়,     قَوْلُهُمْ =  তাদেরকথা,     إِنَّا =  আমরানিশ্চয়ই,     نَعْلَمُ =  জানিআমরা,     مَا =  যা,     يُسِرُّونَ =  তারাগোপনকরে,     وَمَا =  আরযা,     يُعْلِنُونَ =  তারাপ্রকাশকরে,


অনুবাদ:    হ্যাঁ, এদের তৈরী কথা যেন তোমাকে মর্মাহত না করে এদের গোপন ও প্রকাশ্য সব কথাই আমি জানি।


(36:77)

اَوَ لَمْ یَرَ الْاِنْسَانُ اَنَّا خَلَقْنٰهُ مِنْ نُّطْفَةٍ فَاِذَا هُوَ خَصِیْمٌ مُّبِیْنٌ


শব্দার্থ:        أَوَلَمْ =  নিকি,     يَرَ =  দেখে,     الْإِنْسَانُ =  মানুষ,     أَنَّا =  যেআমরা,     خَلَقْنَاهُ =  তাকেআমরাসৃষ্টিকরেছি,     مِنْ =  থেকে,     نُطْفَةٍ =  শুক্রবিন্দু,     فَإِذَا =  অথচপরে,     هُوَ =  সে(হয়েছে),     خَصِيمٌ =  ঝগড়াটে,     مُبِينٌ =  প্রকাশ্য,


অনুবাদ:    মানুষ কি দেখে না, তাকে আমি সৃষ্টি করেছি শুক্রবিন্দু থেকে এবং তারপর সে দাঁড়িয়ে গেছে স্পষ্ট ঝগড়াটে হয়ে?

(36:78)

وَ ضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَّ نَسِیَ خَلْقَهٗؕ قَالَ مَنْ یُّحْیِ الْعِظَامَ وَ هِیَ رَمِیْمٌ


শব্দার্থ:        وَضَرَبَ =  এবংপেশকরে,     لَنَا =  আমাদেরজন্যে,     مَثَلًا =  উপমা,     وَنَسِيَ =  অথচসেভুলেযায়,     خَلْقَهُ =  তারসৃষ্টিকে,     قَالَ =  সেবলে,     مَنْ =  কে,     يُحْيِي =  প্রাণদিবে,     الْعِظَامَ =  হাড়ে,     وَهِيَ =  যখনতা(হয়েযাবে),     رَمِيمٌ =  পচাগলাজরাজীর্ণ,


অনুবাদ:    এখন সে আমার ওপর উপমা প্রয়োগ করে এবং নিজের সৃষ্টির কথা ভুলে যায় বলে, এ হাড়গুলো যখন পচে গলে গেছে এতে আবার প্রাণ সঞ্চার করবে কে?

(36:79)

قُلْ یُحْیِیْهَا الَّذِیْۤ اَنْشَاَهَاۤ اَوَّلَ مَرَّةٍؕ وَ هُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِیْمُۙ


শব্দার্থ:        قُلْ =  বলো(তাদেরকে),     يُحْيِيهَا =  তাতেপ্রাণদিবেন,     الَّذِي =  (তিনিই)যিনি,     أَنْشَأَهَا =  তাসৃষ্টিকরেছেন,     أَوَّلَ =  প্রথম,     مَرَّةٍ =  বার,     وَهُوَ =  এবংতিনি,     بِكُلِّ =  সম্পর্কেসবকিছু,     خَلْقٍ =  (তাঁর)সৃষ্টির,     عَلِيمٌ =  সম্যকঅবগত,


অনুবাদ:    তাকে বলো, এদেরকে তিনি জীবিত করবেন যিনি প্রথমে এদেরকে সৃষ্টি করেছিলেন এবং তিনি সৃষ্টির প্রত্যেকটি কাজ জানেন।


(36:80)

الَّذِیْ جَعَلَ لَكُمْ مِّنَ الشَّجَرِ الْاَخْضَرِ نَارًا فَاِذَاۤ اَنْتُمْ مِّنْهُ تُوْقِدُوْنَ


শব্দার্থ:        الَّذِي =  যিনি,     جَعَلَ =  সৃষ্টিকরেছেন,     لَكُمْ =  তোমাদেরজন্যে,     مِنَ =  থেকে,     الشَّجَرِ =  গাছ,     الْأَخْضَرِ =  সবুজ,     نَارًا =  আগুন,     فَإِذَا =  অতঃপর,     أَنْتُمْ =  তোমরা,     مِنْهُ =  তাথেকে,     تُوقِدُونَ =  আগুনজ্বালো,


অনুবাদ:    তিনিই তোমাদের জন্য সবুজ বৃক্ষ থেকে আগুন সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা তা থেকে নিজেদের চুলা জ্বালিয়ে থাকো।


(36:81)

اَوَ لَیْسَ الَّذِیْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ بِقٰدِرٍ عَلٰۤى اَنْ یَّخْلُقَ مِثْلَهُمْﳳ بَلٰىۗ وَ هُوَ الْخَلّٰقُ الْعَلِیْمُ


শব্দার্থ:        أَوَلَيْسَ =  ননকি(সেইআল্লাহ),     الَّذِي =  যিনি,     خَلَقَ =  সৃষ্টিকরেছেন,     السَّمَاوَاتِ =  আকাশসমূহ,     وَالْأَرْضَ =  ওপৃথিবীকে,     بِقَادِرٍ =  সক্ষম,     عَلَىٰ =  এক্ষেত্রে,     أَنْ =  যে,     يَخْلُقَ =  সৃষ্টিকরবেন,     مِثْلَهُمْ =  তাদেরমতো,     بَلَىٰ =  হ্যাঁনিশ্চয়ই,     وَهُوَ =  এবংতিনিই,     الْخَلَّاقُ =  মহাস্রষ্টা,     الْعَلِيمُ =  সর্বজ্ঞ,


অনুবাদ:    যিনি আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তিনি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখেন না? কেন নয়, যখন তিনি পারদর্শী স্রষ্টা।

(36:82)

اِنَّمَاۤ اَمْرُهٗۤ اِذَاۤ اَرَادَ شَیْــٴًـا اَنْ یَّقُوْلَ لَهٗ كُنْ فَیَكُوْنُ


শব্দার্থ:        إِنَّمَا =  কেবল,     أَمْرُهُ =  তাঁরনির্দেশহয়,     إِذَا =  যখন,     أَرَادَ =  ইচ্ছেকরেন,     شَيْئًا =  কিছু(করতে),     أَنْ =  যে,     يَقُولَ =  বলেন,     لَهُ =  তাকে,     كُنْ =  হও,     فَيَكُونُ =  তখনইহয়েযায়,


অনুবাদ:    তিনি যখন কোন কিছুর ইচ্ছা করেন তখন তাঁর কাজ হয় কেবল এতটুকু যে, তিনি তাকে হুকুম দেন, হয়ে যাও এবং তা হয়ে যায়।

(36:83)

فَسُبْحٰنَ الَّذِیْ بِیَدِهٖ مَلَكُوْتُ كُلِّ شَیْءٍ وَّ اِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ۠


শব্দার্থ:        فَسُبْحَانَ =  অতএবমহানপবিত্র,     الَّذِي =  (সেইসত্ত্বা)তিনিই,     بِيَدِهِ =  যারহাতে(আছে),     مَلَكُوتُ =  সার্বভৌমক্ষমতা,     كُلِّ =  সব,     شَيْءٍ =  জিনিসের,     وَإِلَيْهِ =  এবংতাঁরইদিকে,     تُرْجَعُونَ =  তোমাদেরকেফিরিয়েনেয়াহবে,


অনুবাদ:    পবিত্র তিনি যার হাতে রয়েছে প্রত্যেকটি জিনিসের পূর্ণ কর্তৃত্ব এবং তাঁরই দিকে তোমাদের ফিরে যেতে হবে।

সুরা ইয়াসিন অবলম্বনে কবিতা


বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

Map

  https://www.facebook.com/share/v/1CBkAHov2L/

জনপ্রিয় লেখা সমূহ