ইসকন বনাম হিন্দুধর্ম
সনাতনী হিন্দুদের মতে, ১২ মাসে ১৩ পূজা। যেমন- হিন্দুদের প্রধান উৎসব হচ্ছে দুর্গাপূজা। অন্য আরেকটি পূজা হচ্ছে কালীপূজা। অবশ্য দুর্গাপূজা ও কালীপূজা ইসকন সমর্থন করে না। বাংলাদেশের সকল হিন্দু ধর্মীয় রীতি মতে, সাধারণত রথযাত্রা করে ১ দিন। ইসকন সমর্থিত বাংলাদেশের প্রধান মন্দির স্বামীবাগে ৭ দিন রথযাত্রা করতে দেখা যায়। ৭ দিন রথযাত্রা নিয়ে অনেক হিন্দু ও বিশেষজ্ঞরা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ইসকনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
হিন্দুধর্ম মতে, হিন্দুধর্মের প্রধান তিন দেবতা হলো— ১. ব্রহ্মা ২. বিষ্ণু ও ৩. শিব। হিন্দুরা সকল দেবতার প্রধান মানে শিবকে। অন্যদিকে ইসকন বলছে ভিন্ন কথা। ইসকনের মতে, ৩৩ কোটি দেবতার প্রধান হচ্ছে কৃষ্ণ। এক কথায় ইসকন হলো শ্রী কৃষ্ণ নির্ভর। হিন্দুধর্ম মতে, জন্মের পরই বর্ণ অনুযায়ী হিন্দুধর্মের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় প্রতিটি সনাতনী সন্তান। হিন্দুধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার নিয়ম নেই। অন্যদিকে ইসকন অ-হিন্দু তথা খ্রিষ্টানদের হিন্দু বানাচ্ছে, যা হিন্দুধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক।
সনাতনী মন্দিরের পুরোহিতরা সাধারণ মানুষের মতো বিবাহ ও সংসার করেন। অন্যদিকে ইসকন সমর্থিত মন্দিরের বৈষ্ণবরা বিবাহ কিংবা সংসার করেন না। এখানে ইসকনকে খ্রিষ্টধর্মের সাথে মিল থাকায় অনেকে ইসকনকে খ্রিষ্টানদের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
ইসকন সমর্থিত হিন্দুরা সনাতনী হিন্দুদের রান্না খায় না। সেই সনাতনী হিন্দু যদি নিজের মা-ও হয়, তবুও তার রান্না খায় না। ইসকন সমর্থিত হিন্দুরা নিজেরা নিজেদের হাতের রান্না খায়, যা হিন্দুধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক। ইসকন সমর্থিত হিন্দুরা সনাতনী হিন্দুদের হিন্দু মনে করে না।৮
বিকৃত মস্তিষ্কের অভয়চরণারবিন্দের অজানা অধ্যায়
ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কলকাতার সুবর্ণবণিক পরিবারে ১ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পারিবারিক নাম ছিল অভয়চরণ দে। তিনি খ্রিষ্টান মিশনারি দ্বারা পরিচালিত কলকাতার স্কটিশ কলেজে পড়াশুনা করেন। কেউ কেউ বলছেন, অভয়চরণ দে আমেরিকার নিউইয়র্কে খ্রিষ্টান চার্চে পড়াশুনা করেছেন। অভয়চরণ দে পেশায় ফার্মাসিউটিক্যাল ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি ১৯৬৫ সালে কলকাতা ছেড়ে শূন্য হাতে আমেরিকায় পাড়ি জমান। ১৯৬৬ সালে আমেরিকায় ইসকনের হাতেখড়ি এই বিতর্কিত ব্যক্তির হাত ধরেই হয়।
বিতর্কিত বলার অন্যতম কারণ হচ্ছে তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উদ্ভট মন্তব্য করেন। ১১ মে ১৯৭১ সালে মর্নিং ওয়াকে চাঁদ আর সূর্যের অবস্থান নিয়ে হাস্যকর মন্তব্য করে নিজের অবস্থান হারান। ওয়াশিংটন ডিসিতে ২ জুলাই ১৯৭৬ সালে এই বিতর্কিত ব্যক্তি বলেন, যেই মাত্র কোনো পুরুষ যুবতির স্তন এবং বাহুমূলে নেত্রপাত করে, তখনি সে শেষ। আর যতদিন সে এসবের দ্বারা আকৃষ্ট হবে, তাকে বারবার জন্মগ্রহণ করতে হবে।
আশা করি, এমন অশালীন কথামালা পাঠকের বোধগম্য হবে। অভয়চরণ দে ১৯৭৭ সালে মুম্বাইয়ে নারী স্বাধীনতা প্রসঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীকে পতিতা বলে সমালোচনার জন্ম দেন। ১৯৭৫ সালের ৯ নভেম্বর ধনঞ্জয়কে লেখা এক চিঠিতে ফুঠে উঠে অভয়চরণ দের নারীবিদ্বেষী চরিত্র।
২৬ অক্টোবর ১৯৭২ সালে শ্রীমদ্ভাগবত লেকচারে নারীদের বুদ্ধিমত্তাকে হেয় প্রতিপন্ন করে বক্তব্য দেন অভয়চরণ দে।৯
প্রিয় পাঠক! এই বিতর্কিত ব্যক্তির সকল বক্তব্য ছোট্ট প্রবন্ধে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা সম্ভব হচ্ছে না। উল্লেখ না করার আরও কারণ হলো এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ শুনতে পারবে না। অভয়চরণ দে ধর্ষণ নিয়ে তার বই শ্রী ভাগবতমে বলেছেন, Although rape is not legally allowed, it is a fact that a woman likes a man who is very expert at rape. অর্থাৎ যদিও ধর্ষণ আইনত অনুমোদিত নয়, তবে বাস্তবতা হলো একজন মহিলা ধর্ষণে খুব পটু এমন পুরুষকে পছন্দ করেন।
প্রিয় পাঠক! এমন নানা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগ আছে এই মস্তিষ্কবিকৃত অভয়চরণের ব্যাপারে। তাছাড়াও হিন্দুধর্মের স্বামী বিবেকানন্দকে তিনি রাস্কেল বলেছেন। হিন্দুধর্মের পণ্ডিত ঋষি অরবিন্দকে লক্ষ্য করে ঘৃণ্য কথা বলেছেন। নিজের গুরু রামকৃষ্ণ ও সারদাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন অভয়চরণ দে।১০ সর্বোপরি এমন মস্তিষ্কবিকৃত মানুষের তৈরি ইসকন কেমন হতে পারে? প্রশ্নের উত্তরটি পুরো প্রবন্ধটি পড়ার পর পেয়ে যাবেন, ইন-শা-আল্লাহ!