Islamic Life
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম # Islamic News * নামাজ পড়ুন, * আল কুরআন বুঝে পড়ুন. *কালেকটেড বাই মো: জালাল উদ্দিন, বি,এসসি,(গণিত, পদার্থ বিদ্যা,রসায়ন বিদ্যা), বি,এড।ব্যাংকার।
১৫ অক্টোবর ২০২৬
রাসুলুল্লাহ সাঃ এর তরবারি ও মুসা আ: এর লাঠি
একজন মুসলমানের গুরুত্বপূর্ণ কাজ
একজন মুসলমানের গুরুত্বপূর্ণ কাজ
ইসলাম • শান্তি • পরকালীন মুক্তি
একজন মুসলমানের গুরুত্বপূর্ণ কাজ
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
আল কুরআনে আল্লাহ বলেন ,67 -সুরা মুলক,( 67 :১ )" অতি মহান ও শ্রেষ্ঠ তিনি যাঁর হাতে রয়েছে সমগ্র বিশ্ব-জাহানের কর্তৃত্ব। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতা রাখেন। (67: ২ কাজের দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে কে উত্তম তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য তিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি পরাক্রমশালী ও ক্ষমাশীলও। (67 :৩) তিনিই স্তরে স্তরে সাজিয়ে সাতটি আসমান তৈরী করেছেন। তুমি রহমানের সৃষ্টকর্মে কোন প্রকার অসঙ্গতি দেখতে পাবে না। আবার চোখ ফিরিয়ে দেখ, কোন ত্রুটি দেখতে পাচ্ছ কি? (67 :৪) তুমি বারবার দৃষ্টি ফিরিয়ে দেখ, তোমার দৃষ্টি ক্লান্ত ও ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসবে।" আল্লাহ তাআলার ক্ষমাপ্রাপ্ত এবং মহা পুরস্কারের সুসংবাদপ্রাপ্ত মানুষের কতিপয় বৈশিষ্ট্য:
৩৩: আল-আহযাব,:আয়াত: ৩৫, اِنَّ الْمُسْلِمِیْنَ وَ الْمُسْلِمٰتِ وَ الْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتِ وَ الْقٰنِتِیْنَ وَ الْقٰنِتٰتِ وَ الصّٰدِقِیْنَ وَ الصّٰدِقٰتِ وَ الصّٰبِرِیْنَ وَ الصّٰبِرٰتِ وَ الْخٰشِعِیْنَ وَ الْخٰشِعٰتِ وَ الْمُتَصَدِّقِیْنَ وَ الْمُتَصَدِّقٰتِ وَ الصَّآئِمِیْنَ وَ الصّٰٓئِمٰتِ وَ الْحٰفِظِیْنَ فُرُوْجَهُمْ وَ الْحٰفِظٰتِ وَ الذّٰكِرِیْنَ اللّٰهَ كَثِیْرًا وَّ الذّٰكِرٰتِۙ اَعَدَّ اللّٰهُ لَهُمْ مَّغْفِرَةً وَّ اَجْرًا عَظِیْمًا
নিশ্চয়ই - ১.মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী, ২.মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, ৩. (আল্লাহর) হুকুমের অনুগত পুরুষ ও অনুগতা নারী, ৪.সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদিনী নারী, ৫.ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীলা নারী, ৬.রোজা পালনকারী পুরুষ ও রোজা পালনকারিণী নারী, ৭.নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজতকারী পুরুষ ও নারী, ৮.আল্লাহর জিকির তথা বেশি বেশি কোরআন অধ্যয়ন, স্মরণ ও অনুসরণকারী পুরুষ ও নারী- নিঃসন্দেহে এদের জন্যে আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা ও মহাপুরস্কার ঠিক করে রেখেছেন।
ব্যাখ্যা- ১. মুসলিম বলতে জন্ম নিবন্ধন সনদের মুসলিম নয় বরং ইসলামের প্রকৃত অনুসারীদের বোঝানো হচ্ছে। ১.১জীবনের সকল ক্ষেত্রে জেনে বুঝে আন্তরিক বিশ্বাস সহকারে ইসলামী জীবন বিধানের অনুসরণকারী হতে হবে। ২. ঈমান হলো জ্ঞান যোগ বিশ্বাস । সুতরাং ভালোমতো না জেনে মুখে কয়েকটি শব্দ উচ্চারণ করলেই মুমিন হওয়া যাবে কি? ৩. আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা ফরজ। আল্লাহর বাণী তথা কোরআনে বর্ণিত সকল নির্দেশনাই মৌলিক । তাই সবার আগে আল্লাহর নির্দেশ নবীজির দেখানো পদ্ধতিতে পালন করতে হবে। মৌলিক বিষয় বাদ দিয়ে অমৌলিক বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করা যাবে না। ৪.সত্যবাদী হতে হবে ও কথা ও কাজের মাধ্যমে সত্যের সাক্ষ্য দিতে হবে। ৫.সকল বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও নিজের দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকতে হবে - অধৈর্য হলে চলবে না। ৬. অহংকার ও আত্মম্ভরিতা মুক্ত , দানশীল, রোজা পালনকারী, অশ্লীলতা পরিহার কারি হতে হবে ৭. সর্বোপরি আল কোরআন অধ্যয়ন, স্মরণ অনুসরণ করে অধিক মাত্রায় আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকতে হবে ।
উপরে বর্ণিত গুণাবলী সমূহ যথাযথভাবে জেনে সে অনুযায়ী নিজের ও প্রিয়জনদের জীবনে বাস্তবায়ন করার তৌফিক দান করুন, প্রভু আমার। একজন মুসলিম হবে আল্লাহর হুকুম পালন কারী, সত্যবাদী, ন্যায় পরায়ন, ন্যায় বিচারক, ওয়াদা রক্ষাকারী, দানকারী, তার জিহ্বা দ্বারা অন্যকে কষ্ট দিবে না, অন্যায়ের প্রতিবাদকারী, । সে জানে আল্লাহ মানুষের কর্মসমূহ লিপিবদ্ধ করে এবং সারা জীবনের যত ক্রিয়াকলাপ ভিডিও আকারে কিয়ামতের দিন বিচারের সময় উপস্থাপন করবেন ।আল্লাহ বলেন, তিনি মানুষের খুব নিকবর্তী এবং সে যা করে তা দেখেন । এমনকি মানুষের অন্তরের খবর ও রাখেন । নিজের অপরাধ অস্বীকার করলে মানুষের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ তার বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দিবে । ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। তাই এটাকে আঁকড়ে ধরা আমাদের আবশ্যক ।ইসলামের মূল ভিত্তি আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলের উপর ঈমান আনা। না দেখে আল্লাহকে বিশ্বাস করা এবং তার হুকুম মান্য করাই হলো ঈমান। ইসলামে ঈমানের ভিত্তি পাঁচটি। ১। কালেমা ,২। নামাজ, ৩। রোজা, ৪। যাকাত ও ৫। হজ্ব ।
১।কালেমা ঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। এর দ্বারা মুখে স্বীকার করা এবং অন্তরে বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল । মুমিনের জীবনে কালেমাঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ হলো ঈমানের কালেমা। কালেমার কিছু দাবি বা শর্ত নিম্নে বর্ণনা করা হলো— কালেমা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন : এ বিষয়ে জানা যে আল্লাহ ছাড়া সব উপাস্য অস্বীকার করে একমাত্র আল্লাহকে ইলাহ বলে স্বীকার করা সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞান থাকা। আল্লাহ বলেন, ‘আর জেনে রেখো, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই।’ (সুরা : মুহাম্মাদ, আয়াত : ১৯) রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মারা গেল যে জীবিত অবস্থায় সে জানত, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। অবশ্যই সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (সহিহ মুসলিম) দৃঢ়বিশ্বাস করা : কোনো ধরনের সন্দেহ ছাড়া ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর বিশ্বাস অন্তরে পূর্ণভাবে থাকতে হবে। কলেমাকে এমন পরিপূর্ণভাবে জানতে হবে, যাতে সংশয়-সন্দেহ না থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন, সত্যিকারের মুমিন তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর ঈমান এনেছে এবং ঈমান আনার পর তাতে কোনো ধরনের সন্দেহ পোষণ করে না।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১৫)
রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, আমি তাঁর রাসুল। যে ব্যক্তি এতে কোনো ধরনের সন্দেহ পোষণ না করে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (সহিহ মুসলিম) অন্তর ও মুখে স্বীকার করা : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর দাবি হলো, এই কলেমা মুখে ও অন্তরে স্বীকার করা। মুশরিকদের অবস্থা বর্ণনা করে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের যখন বলা হতো, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তখন তারা অহংকার করত এবং বলত একজন পাগল কবির কথায় আমরা কি আমাদের উপাস্যগুলোকে পরিত্যাগ করব?’ (সুরা : সাফ্ফাত, আয়াত : ৩৫-৩৬) এ আয়াতের তাফসিরে ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, মুমিনরা যেভাবে এ কলেমা মুখে উচ্চারণ করতেন, ঠিক তার বিপরীত কাফিররা তা বলতে অস্বীকার করত অহংকারের কারণে। কলেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ মুখে উচ্চারণ করার গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, “আমাকে আদেশ করা হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত লোকেরা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ না বলবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে। যখন কেউ তা মেনে নেবে ও মুখে উচ্চারণ করবে, তখন তার জীবন ও সম্পদ আমার কাছে নিরাপদ। তবে ইসলামের যে হক বা দায়িত্ব আছে, তা আদায় করতে হবে এবং তার হিসাব নেবেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা।” (বুখারি ও মুসলিম) আত্মসমপর্ণ ও যথাযথ অনুসরণ করাঃ আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা তোমাদের রবের দিকে প্রত্যাবর্তন করো এবং তাঁর কাছে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করো।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৫৪)
সত্যবাদী হওয়া : কলেমা পাঠকারী অন্তরে সর্বান্তকরণে কলেমা উচ্চারণ করা এবং এই দাবিতে সত্যবাদী হওয়া। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সাবধান করে বলেন, “আলিফ লাম-মিম। লোকেরা কি ভেবে নিয়েছে যে ‘আমরা ঈমান এনেছি’—এ কথা বললেই তারা নিরাপদ হয়ে যাবে আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? আমি তো তাদের পূর্ববর্তীদেরও পরীক্ষা করেছিলাম; অতএব আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যারা সত্যবাদী এবং নিশ্চয়ই জেনে নেবেন মিথ্যুকদের।” (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ১-৩) রাসুল (সা.) বলেন, ‘যদি কেউ খাঁটি অন্তরে সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল, তাহলে আল্লাহ তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেবেন।’ (বুখারি ও মুসলিম) ইখলাস : ইখলাস হচ্ছে নিয়ত বিশুদ্ধ করে যাবতীয় শিরক থেকে নিজেকে দূরে রেখে নেক আমল করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের আদেশ দেওয়া হয়েছে ইখলাসের সঙ্গে আল্লাহর আনুগত্যসহ ইবাদত করতে।’ (সুরা : বাইয়্যিনাহ, আয়াত : ৫)রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কিয়ামতের দিন আমার শাফায়াত পাওয়ার ব্যাপারে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান হবে ওই ব্যক্তি, যে অন্তর থেকে ইখলাসের সঙ্গে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ স্বীকার করে।” (বুখারি)রাসুল (সা.)
আরো বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তির জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিয়েছেন, যে একমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে।” (বুখারি) কলেমার ভালোবাসা : যেসব মুমিন ঈমানের দাবি মানবে, মানুষ শুধু তাদেরই ভালোবাসবে এবং যারা তা মানবে না, তাদের ঘৃণা করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,‘মানুষের মাঝে এমন লোকও আছে যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে তাঁর সমকক্ষরূপে গ্রহণ করে এবং আল্লাহকে যেমন ভালোবাসতে হয় তেমন তাদের ভালোবাসে। কিন্তু যারা প্রকৃত ঈমানদার, আল্লাহর প্রতি তাদের ভালোবাসা আরো মজবুত।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৬৫) রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তিনটি জিনিস যার মধ্যে আছে ঈমানের প্রকৃত স্বাদ সে-ই পাবে : এক. তার অন্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ভালোবাসা সবচেয়ে বেশি হবে। দুই. যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে শুধু আল্লাহর জন্যই ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে। তিন. ঈমানের পর কুফরির দিকে ফিরে যাওয়া তার কাছে এরূপ অপছন্দনীয়, যেরূপ আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়া অপছন্দনীয়।’ (বুখারি ও মুসলিম)
তাগুতের প্রতি অবিশ্বাস : তাগুত হলো ওই সব বাতিল উপাস্য, আল্লাহকে ছাড়া যাদের উপাসনা করা হয়। সুতরাং কলেমা পাঠকারী এগুলো বর্জন করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি তাগুতদের অস্বীকার করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে, নিশ্চয়ই সে এমন এক শক্ত বন্ধনকে আঁকড়ে ধরল, যা ছুটবার নয়।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৬)রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অন্তর থেকে বলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং আল্লাহ ছাড়া যেসব উপাস্যে উপাসনা করা হয় তা অস্বীকার করে, তার জীবন ও সম্পদ (নষ্ট করা) অন্যের জন্য হারাম।’ (সহিহ মুসলিম) আমিন।
বাংলা উচ্চারণ ও অনুবাদসহ পাঁচ কালিমা
কালেমা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস সম্বলিত কয়েকটি আরবি পংক্তির নাম। এর মাধ্যমেই ইসলামের প্রথম স্তম্ভ পূর্ণতা পায়। ইসলামে কালমিার গুরুত্ব ও মর্যাদা অনেক । কালিমার মূল অবকাঠামো হচ্ছে বিশ্বাস। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : “যে ব্যক্তি এমতাবস্থায় মারা যায় যে সে জানে আল্লাহ ছাড়া কোন সঠিক উপাস্য নেই সে জান্নাতে যাবে।
এক. কালিমা তাইয়্যেবা আরবি : لآ اِلَهَ اِلّا اللّهُ مُحَمَّدٌ رَسُوُل اللّهِ বাংলা উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। বাংলা অর্থ : আল্লাহ এক আর কোন মাবুদ নেই। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর প্রেরিত রাসূল।
দুই.
কালিমা শাহাদৎ আরবি :
اشْهَدُ انْ لّآ اِلهَ اِلَّا اللّهُ وَحْدَه لَا شَرِيْكَ لَه، وَ اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدً اعَبْدُهوَرَسُولُهবাংলা উচ্চারণ: আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু। বাংলা অর্থ : আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন মাবুদ নেই। তিনি এক। তাঁহার কোন অংশীদার নেই, এবং আমি আরও সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, নিশ্চয়ই হযরত মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহ্র প্রেরিত বান্দা ও রাসূল।
তিন. কালিমা তামজীদ আরবি : سُبْحَان لِلّه وَ الْحَمْدُ لِلّهِ وَ لآ اِلهَ اِلّا اللّهُ، وَ اللّهُ اَكْبَرُ وَلا حَوْلَ وَلاَ قُوَّة ِلَّا بِاللّهِ الْعَلِىّ الْعَظِيْم বাংলা উচ্চারণ: সুব্হানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আক্বার ওয়ালা হাওলা ক্বুয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল্ আলিইল্ আযীম্। বাংলা অর্থ : মহিমা ও সকল প্রসংশা আল্লাহ্র জন্য, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আল্লাহ মহান, সর্বশক্তিমান ও সর্বক্ষমতাবান। আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ নয়। তিনিই মহান।
চার. কালিমা তাওহীদ আরবি : لا الهَ اِلَّا اللّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيْكَ لَهْ، لَهُ الْمُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ يُحْى وَ يُمِيْتُ وَ هُوَحَىُّ لَّا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدًا ط ذُو الْجَلَالِ وَ الْاِكْرَامِ ط بِيَدِهِ الْخَيْرُ ط وَهُوَ عَلى كُلِّ شَئ ٍ قَدِيْرٌ ط বাংলা উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্ দাহু লা-সারিকা লা-হু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ইউহা ই ওয়া উ মিতু বি ইয়া সি হিল খাইরু ওয়া-হু-ওয়া আ-লা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। বাংলা অর্থ : আল্লাহ এক আর কোন মাবুদ নেই তিনি এক তার কোন অংশীদার নেই। সমস্ত সৃষ্টি জগৎ এবং সকল প্রশংসা তাঁরই। তিনি জীবন হান করেন আবার তিনিই মৃত্যুর কারণ তার হাতেই সব ভাল কিছু এবং তিনিই সৃষ্টির সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
পাঁচ. কালিমায়ে রদ্দে কুফর আরবি : اللهم انی اعوذبک من ان یشرک بک شیئا واستغفرک ما اعلم به ومالا اعلم به تبت عنه وتبرأت من الکفر والشرک والمعاصی کلها واسلمت وامنت واقول ان لا اله الا الله محمد رسول الله صلی الله علیه وسلم. বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাহ ইন্নী আউযুবিকা মিন্ আন্ উশ্রিকা বিকা শাইআওঁ ওয়া আনা আ’লামু বিহী, ওয়া আস্তাগ্ফিরুকা লিমা আ’লামু বিহী, ওয়ামা লা-আ’লামু বিহী, তুব্তু আন্হু ওয়া তাবাররা’তু মিনাল কুফরি ওয়াশ্ শিরকি ওয়াল মায়াছী কুল্লিহা, ওয়া আসলামতু ওয়া আমান্তু ওয়া আক্বুলু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহি। বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ্! আমি তমার নিকট আকাঙ্ক্ষা করছি যে আমি যেন কাউকে তমার সাথে শরিক না করি। আমি আমার জ্ঞাত ও অজ্ঞাত পাপ হতে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তা হতে তোবা করছি। কুফরী, শিরক ও অন্যান্য সব পাপ হতে দূরে থাকছি। এবং স্বীকার করছি যে, “আল্লাহ এক আর কোন মাবুদ নেই। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর প্রেরিত রাসূল।”
একজন মুসলিমের কর্তব্য
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। আল কুরআনে আল্লাহ বলেন ,67 -সুরা মুলক,( 67 :১ )" অতি মহান ও শ্রেষ্ঠ তিনি যাঁর হাতে রয়েছে সমগ্র বিশ্ব-জাহানের কর্তৃত্ব। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতা রাখেন। (67: ২ কাজের দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে কে উত্তম তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য তিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি পরাক্রমশালী ও ক্ষমাশীলও। (67 :৩) তিনিই স্তরে স্তরে সাজিয়ে সাতটি আসমান তৈরী করেছেন। তুমি রহমানের সৃষ্টকর্মে কোন প্রকার অসঙ্গতি দেখতে পাবে না। আবার চোখ ফিরিয়ে দেখ, কোন ত্রুটি দেখতে পাচ্ছ কি? (67 :৪) তুমি বারবার দৃষ্টি ফিরিয়ে দেখ, তোমার দৃষ্টি ক্লান্ত ও ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসবে।"
আল্লাহ তাআলার ক্ষমাপ্রাপ্ত এবং মহা পুরস্কারের সুসংবাদপ্রাপ্ত মানুষের কতিপয় বৈশিষ্ট্য:
৩৩:
আল-আহযাব,:আয়াত: ৩৫, اِنَّ الْمُسْلِمِیْنَ وَ الْمُسْلِمٰتِ وَ الْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتِ وَ الْقٰنِتِیْنَ وَ الْقٰنِتٰتِ وَ الصّٰدِقِیْنَ وَ الصّٰدِقٰتِ وَ الصّٰبِرِیْنَ وَ الصّٰبِرٰتِ وَ الْخٰشِعِیْنَ وَ الْخٰشِعٰتِ وَ الْمُتَصَدِّقِیْنَ وَ الْمُتَصَدِّقٰتِ وَ الصَّآئِمِیْنَ وَ الصّٰٓئِمٰتِ وَ الْحٰفِظِیْنَ فُرُوْجَهُمْ وَ الْحٰفِظٰتِ وَ الذّٰكِرِیْنَ اللّٰهَ كَثِیْرًا وَّ الذّٰكِرٰتِۙ اَعَدَّ اللّٰهُ لَهُمْ مَّغْفِرَةً وَّ اَجْرًا عَظِیْمًا
নিশ্চয়ই - ১.মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী, ২.মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, ৩. (আল্লাহর) হুকুমের অনুগত পুরুষ ও অনুগতা নারী, ৪.সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদিনী নারী, ৫.ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীলা নারী, ৬.রোজা পালনকারী পুরুষ ও রোজা পালনকারিণী নারী, ৭.নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজতকারী পুরুষ ও নারী, ৮.আল্লাহর জিকির তথা বেশি বেশি কোরআন অধ্যয়ন, স্মরণ ও অনুসরণকারী পুরুষ ও নারী- নিঃসন্দেহে এদের জন্যে আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা ও মহাপুরস্কার ঠিক করে রেখেছেন।
ব্যাখ্যা- ১. মুসলিম বলতে জন্ম নিবন্ধন সনদের মুসলিম নয় বরং ইসলামের প্রকৃত অনুসারীদের বোঝানো হচ্ছে। ১.১জীবনের সকল ক্ষেত্রে জেনে বুঝে আন্তরিক বিশ্বাস সহকারে ইসলামী জীবন বিধানের অনুসরণকারী হতে হবে। ২. ঈমান হলো জ্ঞান যোগ বিশ্বাস । সুতরাং ভালোমতো না জেনে মুখে কয়েকটি শব্দ উচ্চারণ করলেই মুমিন হওয়া যাবে কি? ৩. আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা ফরজ। আল্লাহর বাণী তথা কোরআনে বর্ণিত সকল নির্দেশনাই মৌলিক । তাই সবার আগে আল্লাহর নির্দেশ নবীজির দেখানো পদ্ধতিতে পালন করতে হবে। মৌলিক বিষয় বাদ দিয়ে অমৌলিক বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করা যাবে না। ৪.সত্যবাদী হতে হবে ও কথা ও কাজের মাধ্যমে সত্যের সাক্ষ্য দিতে হবে। ৫.সকল বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও নিজের দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকতে হবে - অধৈর্য হলে চলবে না। ৬. অহংকার ও আত্মম্ভরিতা মুক্ত , দানশীল, রোজা পালনকারী, অশ্লীলতা পরিহার কারি হতে হবে ৭. সর্বোপরি আল কোরআন অধ্যয়ন, স্মরণ অনুসরণ করে অধিক মাত্রায় আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকতে হবে ।
উপরে বর্ণিত গুণাবলী সমূহ যথাযথভাবে জেনে সে অনুযায়ী নিজের ও প্রিয়জনদের জীবনে বাস্তবায়ন করার তৌফিক দান করুন, প্রভু আমার।
একজন মুসলিম হবে আল্লাহর হুকুম পালন কারী, সত্যবাদী, ন্যায় পরায়ন, ন্যায় বিচারক, ওয়াদা রক্ষাকারী, দানকারী, তার জিহ্বা দ্বারা অন্যকে কষ্ট দিবে না, অন্যায়ের প্রতিবাদকারী, । সে জানে আল্লাহ মানুষের কর্মসমূহ লিপিবদ্ধ করে এবং সারা জীবনের যত ক্রিয়াকলাপ ভিডিও আকারে কিয়ামতের দিন বিচারের সময় উপস্থাপন করবেন ।আল্লাহ বলেন, তিনি মানুষের খুব নিকবর্তী এবং সে যা করে তা দেখেন । এমনকি মানুষের অন্তরের খবর ও রাখেন । নিজের অপরাধ অস্বীকার করলে মানুষের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ তার বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দিবে । ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। তাই এটাকে আঁকড়ে ধরা আমাদের আবশ্যক ।ইসলামের মূল ভিত্তি আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলের উপর ঈমান আনা। না দেখে আল্লাহকে বিশ্বাস করা এবং তার হুকুম মান্য করাই হলো ঈমান। ইসলামে ঈমানের ভিত্তি পাঁচটি। ১। কালেমা ,২। নামাজ, ৩। রোজা, ৪। যাকাত ও ৫। হজ্ব ।
১।কালেমা ঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। এর দ্বারা মুখে স্বীকার করা এবং অন্তরে বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল । মুমিনের জীবনে কালেমাঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ হলো ঈমানের কালেমা। কালেমার কিছু দাবি বা শর্ত নিম্নে বর্ণনা করা হলো— কালেমা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন : এ বিষয়ে জানা যে আল্লাহ ছাড়া সব উপাস্য অস্বীকার করে একমাত্র আল্লাহকে ইলাহ বলে স্বীকার করা সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞান থাকা। আল্লাহ বলেন, ‘আর জেনে রেখো, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই।’ (সুরা : মুহাম্মাদ, আয়াত : ১৯) রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মারা গেল যে জীবিত অবস্থায় সে জানত, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। অবশ্যই সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (সহিহ মুসলিম) দৃঢ়বিশ্বাস করা : কোনো ধরনের সন্দেহ ছাড়া ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর বিশ্বাস অন্তরে পূর্ণভাবে থাকতে হবে। কলেমাকে এমন পরিপূর্ণভাবে জানতে হবে, যাতে সংশয়-সন্দেহ না থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন, সত্যিকারের মুমিন তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর ঈমান এনেছে এবং ঈমান আনার পর তাতে কোনো ধরনের সন্দেহ পোষণ করে না।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১৫)
রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, আমি তাঁর রাসুল। যে ব্যক্তি এতে কোনো ধরনের সন্দেহ পোষণ না করে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (সহিহ মুসলিম) অন্তর ও মুখে স্বীকার করা : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর দাবি হলো, এই কলেমা মুখে ও অন্তরে স্বীকার করা। মুশরিকদের অবস্থা বর্ণনা করে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের যখন বলা হতো, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তখন তারা অহংকার করত এবং বলত একজন পাগল কবির কথায় আমরা কি আমাদের উপাস্যগুলোকে পরিত্যাগ করব?’ (সুরা : সাফ্ফাত, আয়াত : ৩৫-৩৬) এ আয়াতের তাফসিরে ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, মুমিনরা যেভাবে এ কলেমা মুখে উচ্চারণ করতেন, ঠিক তার বিপরীত কাফিররা তা বলতে অস্বীকার করত অহংকারের কারণে। কলেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ মুখে উচ্চারণ করার গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, “আমাকে আদেশ করা হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত লোকেরা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ না বলবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে। যখন কেউ তা মেনে নেবে ও মুখে উচ্চারণ করবে, তখন তার জীবন ও সম্পদ আমার কাছে নিরাপদ। তবে ইসলামের যে হক বা দায়িত্ব আছে, তা আদায় করতে হবে এবং তার হিসাব নেবেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা।” (বুখারি ও মুসলিম)
আত্মসমপর্ণ ও যথাযথ অনুসরণ করাঃ আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা তোমাদের রবের দিকে প্রত্যাবর্তন করো এবং তাঁর কাছে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করো।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৫৪)
সত্যবাদী হওয়া :
কলেমা পাঠকারী অন্তরে সর্বান্তকরণে কলেমা উচ্চারণ করা এবং এই দাবিতে সত্যবাদী হওয়া। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সাবধান করে বলেন, “আলিফ লাম-মিম। লোকেরা কি ভেবে নিয়েছে যে ‘আমরা ঈমান এনেছি’—এ কথা বললেই তারা নিরাপদ হয়ে যাবে আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? আমি তো তাদের পূর্ববর্তীদেরও পরীক্ষা করেছিলাম; অতএব আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যারা সত্যবাদী এবং নিশ্চয়ই জেনে নেবেন মিথ্যুকদের।” (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ১-৩) রাসুল (সা.) বলেন, ‘যদি কেউ খাঁটি অন্তরে সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল, তাহলে আল্লাহ তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেবেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)
ইখলাস : ইখলাস হচ্ছে নিয়ত বিশুদ্ধ করে যাবতীয় শিরক থেকে নিজেকে দূরে রেখে নেক আমল করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের আদেশ দেওয়া হয়েছে ইখলাসের সঙ্গে আল্লাহর আনুগত্যসহ ইবাদত করতে।’ (সুরা : বাইয়্যিনাহ, আয়াত : ৫)রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কিয়ামতের দিন আমার শাফায়াত পাওয়ার ব্যাপারে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান হবে ওই ব্যক্তি, যে অন্তর থেকে ইখলাসের সঙ্গে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ স্বীকার করে।” (বুখারি)রাসুল (সা.)
আরো বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তির জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিয়েছেন, যে একমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে।” (বুখারি) কলেমার ভালোবাসা : যেসব মুমিন ঈমানের দাবি মানবে, মানুষ শুধু তাদেরই ভালোবাসবে এবং যারা তা মানবে না, তাদের ঘৃণা করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,‘মানুষের মাঝে এমন লোকও আছে যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে তাঁর সমকক্ষরূপে গ্রহণ করে এবং আল্লাহকে যেমন ভালোবাসতে হয় তেমন তাদের ভালোবাসে। কিন্তু যারা প্রকৃত ঈমানদার, আল্লাহর প্রতি তাদের ভালোবাসা আরো মজবুত।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৬৫) রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তিনটি জিনিস যার মধ্যে আছে ঈমানের প্রকৃত স্বাদ সে-ই পাবে : এক. তার অন্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ভালোবাসা সবচেয়ে বেশি হবে। দুই. যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে শুধু আল্লাহর জন্যই ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে। তিন. ঈমানের পর কুফরির দিকে ফিরে যাওয়া তার কাছে এরূপ অপছন্দনীয়, যেরূপ আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়া অপছন্দনীয়।’ (বুখারি ও মুসলিম)
তাগুতের প্রতি অবিশ্বাস :
তাগুত হলো ওই সব বাতিল উপাস্য, আল্লাহকে ছাড়া যাদের উপাসনা করা হয়। সুতরাং কলেমা পাঠকারী এগুলো বর্জন করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি তাগুতদের অস্বীকার করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে, নিশ্চয়ই সে এমন এক শক্ত বন্ধনকে আঁকড়ে ধরল, যা ছুটবার নয়।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৬)রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অন্তর থেকে বলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং আল্লাহ ছাড়া যেসব উপাস্যে উপাসনা করা হয় তা অস্বীকার করে, তার জীবন ও সম্পদ (নষ্ট করা) অন্যের জন্য হারাম।’ (সহিহ মুসলিম) আমিন।
বাংলা উচ্চারণ ও অনুবাদসহ পাঁচ কালিম
কালেমা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস সম্বলিত কয়েকটি আরবি পংক্তির নাম। এর মাধ্যমেই ইসলামের প্রথম স্তম্ভ পূর্ণতা পায়। ইসলামে কালমিার গুরুত্ব ও মর্যাদা অনেক । কালিমার মূল অবকাঠামো হচ্ছে বিশ্বাস। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : “যে ব্যক্তি এমতাবস্থায় মারা যায় যে সে জানে আল্লাহ ছাড়া কোন সঠিক উপাস্য নেই সে জান্নাতে যাবে।
এক. কালিমা তাইয়্যেবা আরবি : لآ اِلَهَ اِلّا اللّهُ مُحَمَّدٌ رَسُوُل اللّهِ বাংলা উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। বাংলা অর্থ : আল্লাহ এক আর কোন মাবুদ নেই। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর প্রেরিত রাসূল।
দুই. কালিমা শাহাদৎ আরবি : اشْهَدُ انْ لّآ اِلهَ اِلَّا اللّهُ وَحْدَه لَا شَرِيْكَ لَه، وَ اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدً اعَبْدُهوَرَسُولُه বাংলা উচ্চারণ: আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু। বাংলা অর্থ : আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন মাবুদ নেই। তিনি এক। তাঁহার কোন অংশীদার নেই, এবং আমি আরও সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, নিশ্চয়ই হযরত মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহ্র প্রেরিত বান্দা ও রাসূল।
তিন. কালিমা তামজীদ আরবি : سُبْحَان لِلّه وَ الْحَمْدُ لِلّهِ وَ لآ اِلهَ اِلّا اللّهُ، وَ اللّهُ اَكْبَرُ وَلا حَوْلَ وَلاَ قُوَّة ِلَّا بِاللّهِ الْعَلِىّ الْعَظِيْم বাংলা উচ্চারণ: সুব্হানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আক্বার ওয়ালা হাওলা ক্বুয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল্ আলিইল্ আযীম্। বাংলা অর্থ : মহিমা ও সকল প্রসংশা আল্লাহ্র জন্য, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আল্লাহ মহান, সর্বশক্তিমান ও সর্বক্ষমতাবান। আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ নয়। তিনিই মহান।
চার. কালিমা তাওহীদ আরবি : لا الهَ اِلَّا اللّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيْكَ لَهْ، لَهُ الْمُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ يُحْى وَ يُمِيْتُ وَ هُوَحَىُّ لَّا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدًا ط ذُو الْجَلَالِ وَ الْاِكْرَامِ ط بِيَدِهِ الْخَيْرُ ط وَهُوَ عَلى كُلِّ شَئ ٍ قَدِيْرٌ ط বাংলা উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্ দাহু লা-সারিকা লা-হু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ইউহা ই ওয়া উ মিতু বি ইয়া সি হিল খাইরু ওয়া-হু-ওয়া আ-লা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। বাংলা অর্থ : আল্লাহ এক আর কোন মাবুদ নেই তিনি এক তার কোন অংশীদার নেই। সমস্ত সৃষ্টি জগৎ এবং সকল প্রশংসা তাঁরই। তিনি জীবন হান করেন আবার তিনিই মৃত্যুর কারণ তার হাতেই সব ভাল কিছু এবং তিনিই সৃষ্টির সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
পাঁচ. কালিমায়ে রদ্দে কুফর আরবি : اللهم انی اعوذبک من ان یشرک بک شیئا واستغفرک ما اعلم به ومالا اعلم به تبت عنه وتبرأت من الکفر والشرک والمعاصی کلها واسلمت وامنت واقول ان لا اله الا الله محمد رسول الله صلی الله علیه وسلم. বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাহ ইন্নী আউযুবিকা মিন্ আন্ উশ্রিকা বিকা শাইআওঁ ওয়া আনা আ’লামু বিহী, ওয়া আস্তাগ্ফিরুকা লিমা আ’লামু বিহী, ওয়ামা লা-আ’লামু বিহী, তুব্তু আন্হু ওয়া তাবাররা’তু মিনাল কুফরি ওয়াশ্ শিরকি ওয়াল মায়াছী কুল্লিহা, ওয়া আসলামতু ওয়া আমান্তু ওয়া আক্বুলু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহি।
বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ্! আমি তমার নিকট আকাঙ্ক্ষা করছি যে আমি যেন কাউকে তমার সাথে শরিক না করি। আমি আমার জ্ঞাত ও অজ্ঞাত পাপ হতে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তা হতে তোবা করছি। কুফরী, শিরক ও অন্যান্য সব পাপ হতে দূরে থাকছি। এবং স্বীকার করছি যে, “আল্লাহ এক আর কোন মাবুদ নেই। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর প্রেরিত রাসূল।”
২।নামাজ ঃ আল্লাহকে না দেখে বিশ্বাস করে আল্লাহর হুকুম পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফজর, যোহর, আসর ,মাগরিব, এশা পড়া। নামাজ না পড়লে এবং নামাজ পড়তে হবে না এমন মনে করলে ঈমান থাকে না । নামাজের বাহিরে এবং নামাজের ভিতরে তেরটি ফরজ :~১।শরীর পাক বা পবিত্র হওয়া, ২ । কাপড় পবিত্র হওয়া ।৩। নামাজের জায়গা পবিত্র হওয়া ৪।ছতর ঢাকা বা কাপড় পরিধান করা ৫। ওয়াক্ত বা নামাজের সময় হওয়া ৬ । কেবলা মুখী হওয়া ; ১।" আল্লাহু আকবর" বলে নামাজ শুরু করা ২।দাঁড়াইয়া নামাজ পড়া ৩। সুরা ফাতেহা সহ কুরআনের আয়াত (কম পক্ষে ছোট তিন আয়াত ) পড়া ৪।রুকু করা ৫। সেজদা করা ৬। বসে আত্তাহিয়াতু পড়া ৭।ডানে ও বামে ছালামের মাধ্যমে নামাজ শেষ করা ।ফরজ তালিকা
তাছাড়া কিছু ওয়াজিব ও সুন্নত রয়েছে । ফরজ নামাজের পরে তসবিহ ঃ নামাজের সাধারণ কিছু নিয়ম পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে কিছু জেনারেল নিয়ম আছে। যা প্রতি ওয়াক্ত বা প্রত্যেক নামাজে এক ও অভিন্ন থাকে। এমন কিছু নিয়ম নিচে তুলে ধরছি তাকবিরে তাহরিমা বা আল্লাহু আকবার বলে নামাজে প্রবেশ করবে। এরপর সানা (সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা…) পড়বে। সানা পাঠের শেষে সুরা ফাতিহা পড়তে হবে। সুরা ফাতিহা পাঠের পর অন্য কোনো সুরা যেমন সুরা ফিল বা সুরা কুরাইশ বা সুরা কাফিরুন বা অন্য যে কোনো সুরা পাঠ করতে হবে।
সুরা ফাতিহা পাঠের পর পবিত্র কুরআন থেকে যে আয়াত বা সুরা তেলাওয়াত করা হয় সেটাকে কিরাত বলা হয়। আর কিরাতের নিময় হলো মুসল্লির কাছে পবিত্র কুরআনের যে অংশটুকু সব চেয়ে সহজ ও সাবলিল সেখান থেকে কিছু অংশ তেলাওয়াত করবে। তেলাওয়াতের পরিমাণ ছোট ছোট তিন আয়াত বা বড় এক আয়াত হতে হবে। যেমন সুরা কাওসারের পুরো সুরা মিলে তিন আয়াত।
আবার আয়াতুল কুরসি বড় একটি আয়াত কিন্তু তা ছোট একটি সুরার সমান। এরকম এক আয়াতই তেলাওয়াত করে নিলে হয়ে যাবে। কিরাত পাঠ করে নিলে আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে চলে যাবে। রুকুতে গিয়ে সর্বনিম্ন তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আযিম’ বলবে।
এরপর ‘সামি আল্লাহু লিমান হামিদা’ বলে রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। এবং ‘রাব্বানা লাকাল হামদ বলবে। তারপর আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় চলে যাবে। সিজদায় তিনবার ‘সুবাহানা রাব্বিয়াল আ’লা’ বলবে। অতপর আল্লাহু আকবার বলে বসবে। বসার পর ‘রাব্বিগ ফিরলি ওয়ারহুমনি… পড়বে। অতপর আবার সিজদা করে উক্ত তাসবিহ তিনবার পড়বে। এরপর আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়িয়ে যাবে। এবং পূর্বের মতো সুরা ফাতিহা ও কিরাত পড়ে রুকু করে সিজদা করবে। আত-তাহিয়াতু পড়ার নিয়ম দুই নাম্বার রাকাতে দ্বিতীয় সিজদার পর না দাঁড়িয়ে বসে যাবে। এবং ‘আত-তাহিয়াতু…’ পড়বে। নামাজ যদি দুই রাকাত বিশিষ্ট হয় তাহলে ‘আত-তাহিয়াতু… পাঠের পর ‘আল্লাহুম্মা সাল্লিয়ালা… ও বারিকালা.. এবং আল্লাহুম্মা ইন্নি যালামতু নাফসি…। দোয়াটি বা অন্য দোয়া পাঠ করে সালাম ফিরিয়ে নিবে।
কিন্তু নামাজ যদি চার রাকাত বিশিষ্ট হয় তাহলে কেবল আত-তাহিয়াতু… পাঠ করে দাঁড়িয়ে যাবে। চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজ হলে শেষের দু রাকাতে সুরা ফাতিহার পরে অন্য কোনো সুরা বা কিরাত তেওয়াত করতে হয় না।
তখন কেবল সুরা ফাতিহা পাঠের পরই রুকু করে সিজদায় চলে যাবে। তবে চার রাকাত বিশিষ্ট সুন্নত নামাজ হলে শেষের দু রাকাতেও সুরা ফাতিহার পর অন্য সুরা বা কিরাত মিলাতে হয়। এটা নামাজের সাধারণ কয়েকটি নিয়ম। যা পাঁচ ওয়াক্তে এবং ফরজ সুন্নত ও নফল সকল প্রকার নামাজের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য।
ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম
সুবহে সাদিকের পর ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়। ফজরের নামাজ মোট চার রাকাত। ফরজ দুই রাকাত আর সুন্নতে মুয়াক্কাদা দুই রাকাত। প্রথমে সুন্নত দু রাকাত পড়তে হয় এরপর ফরজ দু রাকাত। ফজরের সুন্নত দু – রাকাত পড়ার নিয়ম ফজরে সুন্নত দু – রাকাত নামাজ আদায়ের আলাদা কোনো নিয়ম নেই। উপরে আলোচিত নিয়মেই পড়তে হবে। প্রথমে আল্লাহু আকবার বা তাকবিরে তাহরিমা বলে নামাজে প্রবেশ করবে। এরপর সুরা ফাতিহা ও কিরাত পাঠ অন্যান্য বাকি নিয়মে নামাজ পুরো করবে। সুরা ফাতিহা, কেরাত ও অন্যান্য তাসবিহ সকল কিছু নিম্নস্বরে আদায় করবে।
ফজরের ফরজ নামাজ আদায়ের নিময় ফরজ নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা ওয়াজিব। তাই জামাতে ইমাম সাহেবর ইক্তেদা করে নিলে বিশেষ কিছু করতে হয় না।
কেবল ইমাম সাহেবের ইক্তেদা করে তার সাথে সাথে কুরু সিজদা ও তাসবিহগুলো পাঠ করে নিলে নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে। ইমাম সাহেব সুরা ফাতিহা উচ্চস্বরে পাঠ করবেন আর মুক্তাদি মনোযোগের সাথে শ্রবণ করবে। কিন্তু কেউ যদি কোনো কারণে জামাতে শরীক হতে না পারে তাহলে সে পূর্বে আলোচিত নিয়মে একাএকা পড়ে নিবে। তবে সুরা ফাতিহা কেরাত উচ্চস্বরে বা নিম্মস্বরে তার ইচ্ছা মতো পড়তে পারেব। সাধারণত নিম্নস্বরে পড়াটাই ভালো।
যুহরের সালাত আদায়ের পদ্ধতি যুহরের নামাজ দশ রাকাত। প্রথমে সুন্নত চার রাকাত। ফরজ দুই রাকাত। এরপর সুন্নত দুই রাকাত। ফরজ আদায়ের পূর্বে চার রাকাত সুন্নত আদায় করে নিবে। এই চার রাকাত আদায়ের নিয়ম উপরে আলোচিত হয়েছে। সুন্নত চার রাকাত আদায়ের পর ফরজ চার রাকাত আদায় করতে হয়। আর ফরজ নামাজ যেহেতু জামাতে পড়া ওয়াজিব তাই ইমাম সাহেবের ইক্তেদা করে নিলেই হবে। ইমাম সাহেবের সাথে ফরজ চার রাকাত আদায় করে তার সাথে সালাম ফিরিয়ে মাসনুন তাসবিহ তাহলিল পাঠ করবে। এরপর সুন্নত দুই রাকাত পড়বে। যুহরের ফরজ ও সুন্নত সকল প্রকার নামাজেই সুরা কিরাত নিম্নস্বরে তেলাওয়াত করতে হয়।
আসরের নামাজ পড়ার নিয়ম আসরের নামাজ আট রাকাত। প্রথমে চার রাকাত সুন্নতে গায়র মুয়াক্কাদা। পরে চার রাকাত ফরজ।
সুন্নত চার রাকাত যেহেতু সুন্নতে গায়র মুয়াক্কাদা তাই তা পড়া ভালো। সওয়াব হবে। কিন্তু না পড়লে গোনাহ হবে না। এরপর ফরজ চার রাকাত আদায় করবে। ইমাম সাহেবের সাথে জামাতে আদায় করে নিলে কেবল ইমাম সাহেবকে অনুসরণ করবে।
নামাজ পড়ার নিয়ম
আর কোনো কারণে জামাতে শরীক হতে না পারলে উপরে আলোচিত নিয়মে একএকা আদায় করে নিবে। মাগরিবের সালাত কীভাবে পড়তে হয় মাগরিবের নামাজ পাঁচ রাকাত। প্রথমে ফরজ তিন রাকাত এরপর সুন্নত দুই রাকাত।ফরজ নামাজ জামাতে আদায় করে নিলে ইমাম সাহেবকে অনুসরণ করা ও জায়গায় জায়গায় তাসবিহ তাকবির বললেই নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে। আর একএকা পড়লে প্রথমে সুরা কিরাত নিম্নস্বরে পাঠ করে দুই রাকাত পূর্ণ করবে। এরপর প্রথম বৈঠক করে দাঁড়িয়ে যাবে। তৃতীয় রাকাতে কেবল সুরে ফাতিহা পড়ে রুকু সিজদা করে আত-তাহিয়াতু ও আল্লাহুম্মা সাল্লিয়ালা… বারিকালা… পড়ে সালাম ফিরিয়ে নিবে।
অতপর দু রাকাত সুন্নত আদায় করে নিবে। সুন্নত নামাজের নিময় উপরে আলোচিত হয়েছে। এই সুন্নতেও সুরা কিরাত নিম্নস্বরে পড়বে। এশার নামাজ পড়ার নিয়মাবলী আমরা প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি। তার মধ্যে থাকে ফরজ, সুন্নত ও নফল। ফরজ হলো আবশ্যিক নামাজ। যা না পড়লে জবাবদিহি করতে হবে। তাই কোনো ওয়াক্তের নামাজের রাকাত সংখ্যা নির্ধারণ করার সময় শুধু ফরজ নামাজের রাকাতকে গণনায় আনা যেতে পারে। কেননা ফরজ নামাজ ব্যতীত বাকি সকল প্রকার নামাজই নফল নামাজের অন্তর্ভুক্ত।
আমার যে নামাজকে সুন্নত নামে অবহিত সেটা মূলত নফল নামাজেরই একটি স্তর।
নফল অর্থ হলো – অতিরিক্ত। অর্থাৎ ফরজের অতিরিক্ত। কেননা নফল নামাজগুলো আল্লাহ তায়ালা ফরজ করেন নি। রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – ফরজ নামাজ আদায়ের আগে ও পরে নিজ ইচ্ছায় কিছু নামাজ পড়তেন। যেহেতু সেই নামাজগুলো ফরজের অতিরিক্ত ছিলো। যা তিনি স্বেচ্ছায় আদায় করতেন তাই সে নামাজকে নফল নামাজ বলা হয়। আর রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – যে নামাজগুলো নফল হিসাবে আদায় করতে। তা আমাদের জন্য সুন্নত হয়ে গেছে।
কেননা রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – যে আমল করতেন সেটা আমাদের জন্য সুন্নত হিসাবে গণ্য হয়। সুতরাং বলা যায় এশার নামাজ মূলত চার রাকাত। যেহেতু ফরজ কেবল চার রাকাত। সুন্নতসহ এশার নামাজের রাকাত সংখ্যা এশার নামাজের আগে চার রাকাত এবং পরে দুই রাকাত নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা হিসাবে আদায় করা হয়। এই দিক বিবেচনায় রেখে বলা যেতে পারে এশার নামাজ দশ রাকাত। ফরজ চার রাকাত এবং সুন্নত ছয় রাকাত।
তবে ফরজের আগে চার এবং পরে দুই রাকাত সুন্নত নামাজের মধ্যেই এশার নামাজের রাকাত সংখ্যা সীমাবদ্ধ নয়।
এই দাশ রাকাত আদায় করার দুই রাকাত দুই রাকাত করে দুই বারে মোট চার রাকাত নামাজ আদায় করা যেতে পারে। যা সুন্নত গায়ব মুয়াক্কাদা হিসাবে গণ্য হবে। এই চার রাকাত আদায় করার পর দুই রাকাত দুই রাকাত করে নফল নামাজ পড়া যাবে। যার নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই। এভাবে বিতির নামাজকেও এশার নামাজের সাথে পড়া হয়। যদিও বিতির নামাজ এশার নামাজের অংশ নয় তবুও এশার নামাজের শেষে বিতির পড়ে নেওয়া হয়। তাহলে এশার নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদাসহ দশ রাকাত। সুন্নতে গায়র মুয়াক্কাদাসহ চৌদ্দ রাকাত। এভাবে বিতিরসহ সতের রাকাত।
নামাজ পড়ার নিয়ম
এশার নামাজ আদায়ের নিয়ম প্রথমে চার রাকাত সুন্নত পড়তে হয়। এই চার রাকাত সুন্নতে গায়র মুয়াক্কাদা। পড়লে ভালো। আর না পড়লে গোনাহ নেই। এর পর জামাতের সাথে ফরজ চার রাকাত আদায় করবে। ইমাম সাহের ইক্তেদা করে তাকে অনুসরন করবে। যদি একা পড়ে তবে সুরা কিরাত মিলিয়ে উপরে আলোচিত নিয়মে আদায় করে নিবে। ফরজ চার রাকাত আদায়ের পর সুন্নত দুই রাকাত আদায় করে নিবে। এই দু রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা। সুন্নতে মুয়াক্কাদা মানে হলো – তাগিদযুক্ত সুন্নত। অর্থাৎ এমন সুন্নত যা আদায় করার জন্য শরিয়ত দৃঢ় তাগিদ দিয়েছে।
আর সুন্নতে গায়র মুয়াক্কাদা মানে হলো – সাধারণ সুন্নত। যা আদায়ের প্রতি শরিয়ত তেমন তাগিদ দেননি। সাধারণভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে এমন। রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – ফরজ নামাজের আগে বা পরে যে নফল নামাজ খুবই গুরুত্বসহ নিয়মিত পড়তেন।
অন্যদের পড়তে উৎসাহ দিতেন সে সব নফল নামাজকে সুন্নতে মুয়াক্কাদা হিসাবে গণ্য করা হয়। এভাবে সে নামাজগুলো আদায় করার জন্য শরিয়ত বেশ গুরুত্বারোপ করেনি। তাকে সুন্নতে গায়র মুয়াক্কাদা বলা হয়। এশার নামজ চাই ফরজ হোক বা সুন্নত যদি একএকা আদায় করা হয় তবে সুরা কিরাত নিম্নস্বরে আদায় করবে। তবে কেউ চাইলে উচ্চস্বরে সুরা কেরাত পড়তে পারবে। এতে তার নামাজের কোনো ক্ষতি হবে না। নামাজ শেষে মাসনুন তাসবিহ তাহলিল ও দোয়া দুরদ করবো। তবে কোনো প্রকার বিদআতে লিপ্ত হওয়া যাবে না।
জানাজার নামাজের দোয়া
জানাযার নামাজের মধ্যে পঠিত ছানা ও দরূদ নামাজের ছানা ও দরূদের মতোই। কিন্তু জানাযা নামাজে তৃতীয় তাকবিরের পর রয়েছে মৃতব্যক্তি ও জানাযা নামাজ আদায়কারীদের জন্য সুনির্ধারিত কয়েকটি দোয়া। আর তাহলো-
মৃতব্যক্তি (বালেগ) প্রাপ্তবয়স্ক (নারী/পুরুষ) হলে উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাগফিরলি হাইয়্যিনা ওয়া মাইয়্যিতিনা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গায়িবিনা ওয়া সগিরিনা ওয়া কাবিরিনা ওয়া জাকারিনা ওয়া উংছানা। আল্লাহুম্মা মান আহ্ইয়াইতাহু মিন্না ফাআহ্য়িহি আ’লাল ইসলাম। ওয়া মাং তাওয়াফ্ফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফ্ফাহু আ’লাল ঈমান। আল্লাহুম্মা লা তাহরিমনা আঝরাহ ওয়া লা তুদিল্লানা বাআ’দা।’ (মুসনাদে আহমাদ, তিরমিজি।
৩। রোজা ঃরমজান মাসে সূর্যোদয়ের পূর্ব থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার এবং নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকার নামই রোজা । ৪।যাকাত ঃ প্রতি বছর সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ এবং সাড়ে 52 তোলা রুপার মূল্যের সমান অর্থ জীবন নির্বাহের পর উদ্বৃত্ত থাকলে তার আড়াই শতাংশ হারে দরিদ্র মানুষকে দান করার নামই যাকাত । "কোন ব্যক্তির ওপর ইবাদত ফরজ হওয়ার জন্য কিছু শর্ত থাকে। যাকাত ফরজ হওয়ার জন্যও কিছু শর্ত আছে। এগুলোর মধ্যে কিছু শর্ত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। আবার যাকাত আর্থিক ইবাদত হওয়ায় সম্পদের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু শর্তও আছে। শর্তগুলো হলো-মুসলিম হওয়া : যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য প্রথম শর্ত হলো মুসলিম হওয়া। যাকাত মুসলিমদের ওপর এক প্রকারের ইবাদত বিধায় তা অমুসলিমদের জন্য ফরজ হওয়ার বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক।বালিগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া : শাফি’ঈ, মালিকী ও হাম্বলী মাযহাব মতে, সম্পদশালী শিশুর ওপর যাকাত ফরজ হবে। তার সম্পদ হতে তার ওয়ালী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত অভিভাবক যাকাত আদায় করবেন। হানাফী মাযহাব মতে, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বে শিশুর সম্পদে যাকাত নেই। শিশুর সম্পদে যাকাত ফরজ না হওয়ার পক্ষে তাদের দলিল হলো রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন প্রকারের মানুষের ওপর হতে তাকলীফের কলম তুলে নেয়া হয়েছে- পাগল, যতক্ষণ না তার জ্ঞান ফিরে আসে; ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয় এবং শিশু যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়’ (জামে আত তিরমিযী)। তাছাড়া যাকাত এক প্রকারের ইবাদত বিধায় শিশুর ওপর তা ফরজ হবে না, যেমন সালাত ও রোযা শিশুর ওপর ফরজ হয় না (আল-কাসানী)। তবে অধিকাংশ আলেমদের মতে শিশুদের যাকাত পরিশোধ করাই অধিকতর দলিলসম্মত। বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়া : হানাফী মাযহাব মতে, যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়ার শর্ত রয়েছে। তাই পাগলের ওপর যাকাত ফরজ নয়। যুক্তি হিসেবে তাঁরা তিন প্রকারের ব্যক্তির ওপর তাখলীফের কলম তুলে নেয়ার হাদীসটি উল্লেখ করেন। অন্যান্য মাযহাব মতে, পাগলের ওপর যাকাত ফরজ হবে, তার পক্ষ হতে দায়িত্বপ্রাপ্ত অভিভাবক যাকাত আদায় করবেন।
স্বাধীন ব্যক্তি হওয়া : যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদের মালিকের স্বাধীন হওয়া অন্যতম শর্ত। এ কারণে দাসের ওপর যাকাত ফরজ নয়। বস্তুতপক্ষে দাস কোনো সম্পদের মালিক নয়, তার সব সম্পদের মালিক তার মনিব। তাই তার ওপর যাকাত ফরজ হওয়ার কোন প্রশ্ন নেই।নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকা : যাকাত ফরজ হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকা। শরীয়াহ কর্তৃক নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদকে নিসাব বলে। যে পরিমাণ সম্পদ থাকলে যাকাত ফরজ হয়। এ সম্পদগুলো হলো নগদ বা ব্যবসায় বিনিয়োগকৃত টাকা, স্বর্ণ, রৌপ্য, শস্য ও প্রাণী।
সম্পদের ওপর পূর্ণ মালিকানা : যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদের ওপর মালিকানা ও পূর্ণাঙ্গ দখল থাকতে হবে এবং সম্পদ ব্যবহারের নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে, অন্যথায় যাকাত ফরজ হবে না। যেমন জনকল্যাণে ওয়াকফকৃত সম্পদে যাকাত নেই। তবে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য ওয়াকফ করা হলে তার যাকাত দিতে হবে। যৌথ মালিকানাভুক্ত সম্পত্তির যাকাত : কোন সম্পদের দুই বা ততোধিক মালিক থাকলে প্রত্যেকে নিজ নিজ অংশের যাকাত দেবেন। যদি প্রত্যেক মালিকের অংশ আলাদাভাবে নিসাব পরিমাণ না হয় তাহলে কাউকে যাকাত দিতে হবে না। যদি কারো অংশ নিসাব পরিমাণ হয় তবে তাকে যাকাত দিতে হবে। হারাম সম্পদের যাকাত : চুরি, ডাকাত, সুদ, ঘুষ, ছিনতাই, রাহাজানি, অবৈধ ব্যবসা ইত্যাদি অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ হারাম বা অবৈধ সম্পদ বলে গণ্য। হারাম পন্থায় উপার্জনকারী ব্যক্তি ওই সম্পদের মালিক নয়। অতএব, তা খরচের অধিকারও তার নেই। যাকাত প্রদানও এক ধরনের খরচ।
সম্পদ বর্ধনযোগ্য হওয়া : যাকাত ফরজ হওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দরিদ্রকে সহযোগিতা এবং তার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করা। কিন্তু নিশ্চয়ই আল্লাহ চান না যে, যাকাত আদায় করে ধনী ব্যক্তি দরিদ্র হয়ে যাক। সম্পদ যদি বর্ধনশীল না হয় এবং তা হতে বছরের পর বছর যাকাত আদায় করা হতে থাকে, তাহলে ধনী ব্যক্তি এক সময় দরিদ্র্য হয়ে যাবে। তাই যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদ বর্ধনশীল হওয়া অপরিহার্য। সম্পদ একবছর অধিকারে থাকা : কোন সম্পদ যদি এক বছরের কম সময়ে হাতে থাকে, তবে তার ওপর যাকাত ফরজ হবে না। এ শর্তটি নগদ অর্থ, স্বর্ণ-রৌপ্য, চতুষ্পদ জন্তু ও ব্যবসায়িক পণ্যের যাকাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একবছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে কোন সম্পদে যাকাত নেই’। (সুনানে আবু দাউদ)
সম্পদ মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত হওয়া: হানাফী মাযহাবের আলিমগণ যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য অতিরিক্ত একটি শর্তারোপ করেন, সেটি হলো যাকাতযোগ্য সম্পদ মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত হওয়া। তাই নিত্যপ্রয়োজনীয় সম্পদের ওপর যাকাত ফরজ হয় না। যে ব্যক্তির মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ নেই তাকে ধনী বলা যায় না। আর যাকাত ফরজ করা হয়েছে ধনীদের ওপর। রাসূলুল্লাহ (সা.) যাকাত সংগ্রহ ও বণ্টনের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে মু’আয (রা.)কে বলেছিলেন, ‘এটি ধনীদের কাছ থেকে আদায় করে দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করতে হবে।’ (সহীহ আল বুখারী)
ঋণমুক্ত হওয়া : ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির সম্পদের প্রথম হকদার হলো পাওনাদার। তাই প্রথমে ঋণ আদায় করতে হবে। অবশিষ্ট সম্পদ নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত দিতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কারো ওপর ঋণ থাকলে সে যেন প্রথমে তা শোধ করে, তারপর বাকি সম্পদের যাকাত আদায় করবে।’ (মুয়াত্তা)
মৃত ব্যক্তির যাকাত : কোনো ব্যক্তির ওপর যাকাত ফরজ হয়েছে কিন্তু তিনি তা আদায় না করে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাহলে তার রেখে যাওয়া সম্পদ হতে ওয়ারিশগণ বা সম্পদের তত্ত্বাবধায়ক যাকাত আদায় করবেন। বহির্বিশ্বে রক্ষিত সম্পদের যাকাত : কারো সম্পদ যদি বিদেশের ব্যাংকে থাকে কিংবা কেউ যদি বিদেশে ব্যবসা করেন এবং ওই সম্পদের ওপর যাকাত ফরজ হয়, তবে তাকে যাকাত আদায় করতে হবে। বিদেশে শরীয়াহ নির্ধারিত খাতে যাকাত বণ্টন করার সুযোগ থাকলে তিনি সেখানে বণ্টন করতে পারবেন, অন্যথায় নিজ দেশে যাকাত আদায় করবেন। কয়েদি বা সাজাপ্রাপ্ত আসামীর যাকাত : কারাদণ্ড বা বন্দিদশা যাকাত রহিত করে না। কারাবন্দী সে হাজতি হোক বা সাজাপ্রাপ্ত হোক নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাকে যাকাত দিতে হবে। তার পক্ষ হতে তার পরিবারের সদস্য বা তার সম্পদের তত্ত্বাবধায়ক যাকাত আদায় করবেন। যদি তা না হয় মুক্তিলাভের পর পূর্বের বছরগুলোর যাকাত তাকে হিসাব করে আদায় করতে হবে। মুসাফিরের যাকাত : সফরের কারণেও যাকাতের বিধান রহিত হয় না। মুসাফির ব্যক্তি (সফরকারী ব্যক্তি) যদি নিজ দেশে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন তাহলে ওই সম্পদের যাকাত দিতে হবে। এটা সত্য যে, সম্পদশালী মুসাফিরও যদি বিদেশে বিপদগ্রস্ত হন তাহলে তিনি যাকাত গ্রহণ করতে পারেন। তাই বলে এ বিধানের বলে দেশে রক্ষিত সম্পদের ওপর যাকাতের আবশ্যকতা রহিত হয় না।তথ্যসূত্র : সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট "
৫। হজ্ব ঃ যাকাতের শর্ত পূরণ এবং পারিবারিক খরচ নির্বাহ এর পর কারো হাতে মক্কায় গমনের যাতায়াত খরচ থাকলে তার জন্য হজ্ব করা ফরজ। হজ্বের ফরজ ৩টি
১। ইহরাম বাধা ২। উ’কুফে আ’রাফা (আরাফাতের ময়দানে অবস্থান) ৩। তাওয়াফুয্ যিয়ারাত
হজ্জের ওয়াজিব ৬টি (১) ‘সাফা ও মারওয়া’ পাহাড় দ্বয়ের মাঝে ৭ বার সায়ী করা। (২) অকুফে মুযদালিফায় (৯ই জিলহজ্জ) অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে সুর্যদয় পর্যন্ত একমুহুর্তের জন্য হলেও অবস্থান করা। (৩) মিনায় তিন শয়তান (জামারাত) সমূহকে পাথর নিপে করা। (৪) ‘হজ্জে তামাত্তু’ ও ‘কি্বরান’ কারীগণ ‘হজ্জ’ সমাপনের জন্য দমে শোকর করা। (৫) এহরাম খোলার পূর্বে মাথার চুল মুন্ডানো বা ছাটা। (৬) মক্কার বাইরের লোকদের জন্য তাওয়াফে বিদা অর্থাৎ মক্কা থেকে বিদায়কালীন তাওয়াফ করা। এছাড়া আর যে সমস্ত আমল রয়েছে সব সুন্নাত অথবা মুস্তাহাব। ওমরাহর ফরজ, ওয়াজিব দুইটি ফরজ: (১) ইহরাম পরিধান করা (২) তাওয়াফ দুইটি ওয়াজিব: (১) সাফা ও মারওয়া মধ্যবর্তী (সবুজ বাতি) স্থানে সাতবার সায়ী করা (২) মাথার চুল মুন্ডানো বা ছাটা।
তালবিয়া ”লাব্বাঈক আল্লাহুম্মা লাব্বাঈক, লাব্বাঈক, লা-শারীকা-লাকা লাব্বাঈক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্ নি’মাতা লাকা ওয়াল-মুল্ক, লা শারীকালাক।” অর্থ: আমি হাজির হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত! আপনার ডাকে সাড়া দিতে আমি হাজির। আপনার কোন অংশীদার নেই। নিঃসন্দেহে সমস্ত প্রশংসা ও সম্পদরাজি আপনার এবং একচ্ছত্র আধিপত্য আপনার। আপনার কোন অংশীদার নেই।
ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ
(১) সেলাইযুক্ত যে কোন কাপড় বা জুতা ব্যবহার, এক্ষেত্রে স্পঞ্জ সেন্ডেলের ব্যবহার করা। (২) মস্তক ও মুখমন্ডল (ইহরামের কাপড়সহ যে কোন কাপড় দ্বারা) ঢাকা, (৩) পায়ের পিঠ ঢেকে যায় এমন জুতা পরা। (৪) চুলকাটা বা ছিড়ে ফেলা, (৫) নখকাটা, (৬) ঘ্রানযুক্ত তৈল বা আতর লাগানো। (৭) স্ত্রীর সঙ্গে সংগম করা। (৮) যৌন উত্তেজনামূলক কোন আচরণ বা কোন কথা বলা। (৯) শিকার করা। (১০) ঝগড়া বিবাদ বা যুদ্ধ করা। (১১) চুল দাড়িতে চিরুনী বা আঙ্গুলী চালনা করা, যাতে ছেড়ার আশংকা থাকে। (১২) শরীরে সাবান লাগানো। (১৩) উকুন, ছারপোকা, মশা ও মাছিসহ কোন জীবজন্তু হত্যা করা বা মারা। (১৪) কোন গুনাহের কাজ করা, ইত্যাদি।
হজ্জের প্রকার ও নিয়তসমূহ
প্রথম প্রকার হজ্জে ইফরাদ বর্ণনা: ওমরাহ্ ব্যতিত শুধু হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা এবং হজ্জের সাথে ওমরাহকে না মিলানো। (বদলী হজ্জের জন্যও এই হজ্জ)। নিয়্যাত: আল্লাহুমা ইন্নী উরীদুল হাজ্জা ফায়াসছির হুলিওয়াতা কাব্বালহুমিনি্ন। (বাংলা নিয়ত- আল্লাহ আমি ইফরাদ হজ্জের উদ্দেশ্যে আপনার সন্তুষ্টির জন্য ইহরাম বাধলাম। তা সহজ করে দিন ও কবুল করে নিন)। দ্বিতীয় প্রকার হজ্জে কি্বরান বর্ণনা: একত্রে একই স্থান থেকে হজ্জ ও ওমরার নিয়্যাত করে হজ্জের সাথে ওমরাহকে মিলানো এবং একই ইহ্রামে উভয়টি আদায় করা। নিয়্যাত: আল্লাহুমা ইন্নী উরীদুল উ’মরাতা ফায়াচ্ছির লী-ওয়াতাক্াব্বাল মিন্নী। বাংলা নিয়ত- হে আল্লাহ আমি আপনার উদ্দেশ্যে হজ্জে কি্বরানের জন্য ইহরাম বাধলাম তা সহজ করে দিন ও কবুল করে নিন।
তৃতীয় প্রকার হজ্জে তামাত্তু বর্ণনা: একই সফরে পৃথক পৃথক ভাবে ‘ইহরাম’ পরিধান করে ‘হজ্জ ও ওমরাহ’ আদায় করা। প্রথম ইহ্রামে ওমরাহর নিয়্যাত করে তা পালন শেষে চুল কেটে ‘ইহরাম’ খুলে হালাল হয়ে দ্বিতীয় বার নতুন করে হজ্জের নিয়্যাতে ৮ই জিলহজ্জ ‘মক্ক শরীফ’ থেকে হজ্জের জন্য ইহরাম বাধা। তামাত্তু করার ইচ্ছা থাকলে প্রথমে ওমরার নিয়্যাত করে এহরাম বাঁধুন।
শুধু ওমরাহর নিয়্যাত আল্লাহুমা ইন্নী উরীদুল উম’রাতা ফায়াচ্ছির লী-ওয়াতাক্াব্বাল মিন্নী। বাংলা নিয়ত- হে আল্লাহ আমি ওমরাহ্ পালনের জন্য ইহরাম বাধলাম তা সহজ করে দিন এবং কবুল করে নিন। শুধু হজ্জের নিয়্যাত আল্লাহুম্মা ইন্নী উরীদুল হাজ্জা ফায়াচ্ছিরহু-লী অ-তাকাব্বালহু মিন্নী। বাংলা নিয়ত- হে আল্লাহ আমি পবিত্র হজ্জ পালনের জন্য ইহরাম বেধে নিয়ত করলাম তা সহজ করে দিন এবং কবুল করে নিন।
তাওয়াফের বিবরণ হাজীদের সর্বপ্রথম কাজই হলো (তামাত্তু ও ক্বেরান কারীগণ) নিজের মালছামানগুছিয়ে রেখে পাকপবিত্র হয়ে মোটেই দেরী না করে ‘হারাম শরীফে’ হাজিরা দেওয়া এবং ‘তাওয়াফ’ করা। ওমরাহ এবং হজ্জের তাওয়াফ ব্যাতিত নফল তাওয়াফ ও করা যায়। যেমন: রাসূল (দঃ), সাহাবা-আওলিয়া, আহ্লে বাইত, মা-বাবা, পীর-উস্তাদ ও অন্যান্য মুরুব্বী বা সন্তানদের স্মরনে বা তাঁদের নামে তাওয়াফ করা।
তাওয়াফের ওয়াজিব সমূহ (১) শরীর পাক-সাফ রাখা, ওজু করা। মহিলাদের হায়েজ নেফাছ অবস্থায় তাওয়াফ করা জায়েজ নাই। (২) ছতর ঢাকা। অর্থাৎ যেটুকু ঢাকা প্রত্যেক পুরুষ-নারীর জন্য ফরজ। (৩) ‘হাতীমে কা’বার’ বাইরে থেকে ‘তাওয়াফ’ করা। (৪) পায়ে হেঁটে ‘তাওয়াফ’ করা। অম ব্যক্তি খাটিয়ার মাধ্যমে ‘তাওয়াফ’ করতে পারেন। (৫) ‘হাজ্রে আস্ওয়াদ’ থেকে শুরু করে ডানদিক দিয়ে ‘তাওয়াফ’ শুরু করা। (৬) এক নাগাড়ে বিরতিহীন ভাবে ‘সাতবার চক্কর’ দিয়ে ‘তাওয়াফ’ পূর্ণ করা। (৭) ‘সাত চক্করে’ এক ‘তাওয়াফ’, এটা পূর্ণ হলেই ‘তাওয়াফের’ নামাজ পড়া।
তাওয়াফের সুন্নত কার্যাবলী (১) ‘তাওয়াফে’র শুরুতে ‘হাজারে আসওয়াদ’ এর দিকে মুখ করা। (২) সম্ভব হলে ‘হাজ্রে আস্ওয়াদ’ চুম্বন করা। নতুবা হাত দ্বারা দূর থেকে ইশারা করা, এবং মুখে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আক্বার ওয়ালিল্লাহিল হ্ামদ’ বলা। (৩) ‘হা্জ্রে অস্ওয়াদ’ বরাবর দাঁড়িয়ে তাকবীরে তাহরিমা’র ন্যায় উভয় হাত সিনা পর্যন্ত উঠান। (৪) যে ‘তাওয়াফে’র পরে ‘সাঈ’ আছে তাতে ‘এযতেবা’ করা। অর্থাৎ ইহরামের চাদরের (উপরের অংশের) দুই মাথা ডান বগলের নিচ দিয়ে বাম কাঁধের উপর ফেলে দেওয়া। (৫) ‘সাঈ’ যুক্ত ‘তাওয়াফে’র প্রথম তিন চক্করে ‘রমল’ করা। অথর্াৎ বীরের মত হেলে দুলে জোর ক্বদমে (একের পর এক পা ফেলে) চলা। (৬) বাকী চার চক্কর সাধারণ গতিতে (ধীরে ধীরে) সম্পন্ন করা। (৭) প্রত্যেক চক্কর তাওয়াফ শেষ করে এবং শেষ চক্করেরও পরে ‘হাজ্রে অস্ওয়াদ’কে চুম্বন করা। সম্ভব না হলে দূর থেকে ইশারা করে বিসমিল্লাহে আল্লাহ আকবর ওয়ালিল্লাহিল হামদ্”দোয়াটি পাঠ করা এবং ৩ নং নিয়মের ন্যায় দাড়িয়ে ইশারা করে ‘তাওয়াফ’ শেষ করা।
তাওয়াফের নিয়্যাত আল্লাহুম্মা ইন্নী উরীদু তাওয়াফা বাইতিকাল হারাম ফায়াচ্ছিরহু-লী, ওয়া তাক্বাব্বাল-হু-মিন্নী, সাবাআ’তা আশ্ওয়াতি্বন লিল্লাহি তায়া’লা। বাংলায় নিয়ত- হে আল্লাহ আমি তাওয়াফ পালনের জন্য নিয়ত করলাম। সায়ীর নিয়ম ‘হজ্জ ও ওমরাহ’ ছাড়া নফল ‘তাওয়াফে’র কোন সায়ী নাই। কারো নামে ওমরাহ করতে হলেও সায়ী করতে হবে। সায়ী অর্থ দৌড়ানো। এটা ‘ছাফা’ পাহাড় থেকে প্রথমে শুরু করতে হবে। ছাফা থেকে মারওয়া।মারওয়া থেকে ছাফায়। এভাবে সাতবার সায়ীর সময় প্রথম তিন চক্কর সবুজ বাতির মাঝের অংশটুকু দৌড়ে দৌড়ে হেলে দুলে যাওয়া সুন্নাত (পুরুষদের জন্য)। পরের চার চক্কর সাধারণ গতিতে সম্পন্ন করতে হবে।
সায়ীর সহজ দোয়া সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার ওয়া লা-হাওলা, ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহিল আ’লিয়্যিল আ’যীম, রাবি্বগফির ওয়ারহাম ওয়াআনতাল আ-আজ্জুল আকরাম। সায়ীর কুরআনী দোয়া ‘ইন্নাছ্ ছাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন্ শাআ’ইরিল্লাহ্ ফামান হাজ্জাল বাইতা আও-ই’ তামারা ফালা জুনাহা আ’লাইহি আইয়াত্ত্বাওয়াফা বিহিমা ওমান তাত্বাওয়াআ খাইরান ফা-ইন্নাল্লাহা শাকিরুণ আ’লীম।” উপরোক্ত দুই দোয়া সাতবার চক্করের সময় হাটতে চলতে পড়তে হবে। পরেরটি না পারলে উপরেরটিই যথেষ্ট হবে। ।
১৩ অক্টোবর ২০২৬
৯ম পে-স্কেল ফিক্সেশন ২০২৬
পেনশন পুনর্বিন্যাস ও নির্ধারণ প্রক্রিয়া: জানা গেল বিস্তারিত
TumblrLinkedInTwitterFacebookShare
এস আর ও নং-৩৪৮ আইন/২০২৬ এবং জাতীয় বেতন স্কেল/২০২৬-এর নির্দেশনা অনুযায়ী মূল পেনশনভোগী, পারিবারিক পেনশনভোগী এবং ১০০% সমর্পণকারীদের পেনশন নির্ধারণের প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। নরসিংদীর আএইচ, ঘোবিকে-তে সাম্প্রতিক ব্যবহৃত পেনশন ফিক্সেশন ফরম বিশ্লেষণের মাধ্যমে পেনশন বৃদ্ধির নিয়ম ও পর্যায়ক্রমিক প্রবৃদ্ধির সার্বিক চিত্র উঠে এসেছে।
সুরা ইয়াছিন অবলম্বনে কবিতা
সুরা ইয়াছিন অবলম্বনে কবিতা
অবাধ্যতার পরিনাম.অতুলনীয় সৃষ্টি• মোরা অজ্ঞ আল্লাহ সরবজ্ঞ
সুরা ইয়াছিন অবলম্বনে কবিতা
(অবাধ্যতার পরিনাম~ কবিতা (সুরা ইয়াসিন ২-৩১ অবলম্বনে।)
পরম দাতা দয়ালু আল্লাহর নামে ।
জ্ঞানগর্ভ কুরআনের কসম করে ,বলেন রবে
রাসুল তোমায় কিতাব দিলাম,
অসাবধানীদের বোঝাতে হবে ।
ভুল পথে দৃঢ় হলে ,আল্লাহ তাতে সহজ করে,
বিশ্বাসীরাই উপদেশ মানে ,সত্যের পথে জীবন গড়ে।
জীবন মৃত্যু হুকুম আল্লাহর,কর্ম লিপি থাকবে সবার
বিশ্বাসীদের করবে ক্ষমা,দিবেন তাদের পুরস্কার।
একদা এক বস্তিতে দিলেন দু'জন রাসুল পাঠিয়ে,
তৃতীয় জন পাঠিয়ে তাদের শক্তি দিলেন বাড়িয়ে।
মানল না তো বস্তিবাসী রাসুলদের ঐ সত্য বাণী,
হাবিব নাজ্জার এসে বলল,তোমরা মান,আমিও মানি ।
যে আল্লাহ জীবন দিলেন,তারই কাছে যেতে হবে,
রাসুলরা তো চায়না কিছু,হবে নাকো কিছু দিতে।
অন্য কাউকে মাবুদ মানলে,পাব না তো বিপদেতে
এমন করলে পড়ব মোরা মহা বিভ্রান্তিতে ।
পাথর মেরে তারা তাকে হত্যা করলো যখন,
আল্লাহ তাকে বেহেস্তে তে পাঠিয়ে দিলেন তখন।
তার পর এক ভীষন শব্দে ধ্বংস হলো বস্তিবাসী,
আল্লাহ তাদের জীবন নিলেন তারা ছিল মহা পাপী।
যখনই রাসুল এসেছে ভবে,ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছে তবে।
আল্লাহ ও সব প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিয়েছেন সবে।
(অতুলনীয় সৃষ্টি - কবিতা (সুরা ইয়াসিন ৩৩-৫০ অবলম্বনে)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ।
মৃত ভূমি জীবিত করেন শস্য ফলান মহামহিম ।
খেজুর - আঙ্গুর বাগানে ফলান দিয়ে পানির স্রোতে,
মনের সুখে খাও সেসব, তৈরী কি করেছ তোমাদের হাতে ?
উদ্ভিদ ,মানুষ ,আরো কত কী তৈরি করেছেন জোড়া,
চন্দ্র ,সূর্য ,গ্রহ নক্ষত্রের কক্ষপথ করেছেন খাড়া।
দিবারাত্রি মোদের লাগি বিশ্রামেরই তরে,
দূর-দূরান্তে যেতে পারি যানবাহনে চড়ে ।
নৌযানে ঝড়ের কবলে ডাকি তারে বারে বারে ,
ভুলে যায় সেই স্রষ্টার, বিপদমুক্ত হলে পরে ।
দুনিয়া আখিরাতের শাস্তির কর ভয় ,
উপদেশ আসলে মানুষ কেন এমন বিমুখ হয় ।
দানের কথা আসলে পরে ,কেন দিব ?কাফের বলে,
আল্লাহ তোমায় অর্থ দিলে, দানে তোমার মুক্তি মেলে ।
ওরা বলে ,কেয়ামতের অঙ্গীকার কখন পূর্ণ হবে ?
ভীষন গর্জন আসবে যবে ,পরিবারে ফেরার সময় নাহি পাবে ।
(মোরা অজ্ঞ আল্লাহ সর্বজ্ঞ- কবিতা (সুরা ইয়াসিন ৫৩-৮৩))
শুরু আল্লাহর নামে।
ভরপুর যিনি রহিম রহমানে।
কেয়ামত আল্লাহর হুকুম, শুধু একটি ভীষন শব্দ,
তার সামনে করবেন হাজির, করবেন সব কিছু জব্দ।
অবিচার হবে নাকো প্রতিফল দিনে,
আনন্দে থাকিবে স্ত্রীসহ বেহেশতী গণে।
ফলমূল যা চাহিবে সবই তারা পাবে,
আল্লাহর পক্ষ হতে " সালাম" বলা হবে।
বলা হবে ,"পাপিরা আজ পৃথক হয়ে যাও",
দোযখের শাস্তি ভোগ করে নাও।
নিষিদ্ধ শয়তানের ইবাদতে ছিলে মশগুল,
আল্লাহর ইবাদত ছেড়ে করেছ ভুল।
এই সে জাহান্নাম যাতে কাফেরেরা ছিল অন্ধ,
হাত-পা সাক্ষী দিবে,তোমার বিরুদ্ধে মুখ থাকবে বন্ধ ।
আল্লাহ দিয়েছেন দৃষ্টিশক্তি পঞ্চেন্দ্রিয় চলার মত পা ,
দীর্ঘজীবী ,বৃদ্ধ করে বুঝিয়েছেন তার কত ক্ষমতা!
কোরআন কবিতা নয় ,আল্লাহর উপদেশ বাণী,
বিশ্বাসীদের ভয় প্রদর্শন ,অবিশ্বাসীদের শাস্তি জানি ।
রবের সৃষ্টির কতক বাহন ,কতক খাবার,
উপকার পেয়েও এ জাতি অকৃতজ্ঞ হল আবার।
যাদেরে উপাস্য ধরেছ আল্লাহ ছাড়া,
জাহান্নামে কিছুই করিতে পারিবে না তারা ।
আল্লাহ সৃজিয়াছেন মানুষ শুক্রবিন্দু হতে,
তর্ক করে বলে, "পঁচিলে অস্থিতে প্রাণ দিবে কে?"
যিনি প্রথমবার সৃজিয়াছেন, তিনিই দিবেন প্রাণ,
যিনি সবুজ বৃক্ষ হতে অগ্নি করেন উৎপাদন ।
যিনি আকাশ পৃথিবী করেছেন সৃজন,
তিনি অনুরুপ সৃষ্টিতে কি নহে সক্ষম ?
তিনি "হও" বললে হয়ে যায়, মোরা অজ্ঞ,
ফিরতে হবে তারই কাছে, তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ।
১০ অক্টোবর ২০২৬
একজন প্রবাসীর মনের ইচ্ছা
০৮ অক্টোবর ২০২৬
ইসকন
ইসকন বনাম হিন্দুধর্ম
সনাতনী হিন্দুদের মতে, ১২ মাসে ১৩ পূজা। যেমন- হিন্দুদের প্রধান উৎসব হচ্ছে দুর্গাপূজা। অন্য আরেকটি পূজা হচ্ছে কালীপূজা। অবশ্য দুর্গাপূজা ও কালীপূজা ইসকন সমর্থন করে না। বাংলাদেশের সকল হিন্দু ধর্মীয় রীতি মতে, সাধারণত রথযাত্রা করে ১ দিন। ইসকন সমর্থিত বাংলাদেশের প্রধান মন্দির স্বামীবাগে ৭ দিন রথযাত্রা করতে দেখা যায়। ৭ দিন রথযাত্রা নিয়ে অনেক হিন্দু ও বিশেষজ্ঞরা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ইসকনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
হিন্দুধর্ম মতে, হিন্দুধর্মের প্রধান তিন দেবতা হলো— ১. ব্রহ্মা ২. বিষ্ণু ও ৩. শিব। হিন্দুরা সকল দেবতার প্রধান মানে শিবকে। অন্যদিকে ইসকন বলছে ভিন্ন কথা। ইসকনের মতে, ৩৩ কোটি দেবতার প্রধান হচ্ছে কৃষ্ণ। এক কথায় ইসকন হলো শ্রী কৃষ্ণ নির্ভর। হিন্দুধর্ম মতে, জন্মের পরই বর্ণ অনুযায়ী হিন্দুধর্মের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় প্রতিটি সনাতনী সন্তান। হিন্দুধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার নিয়ম নেই। অন্যদিকে ইসকন অ-হিন্দু তথা খ্রিষ্টানদের হিন্দু বানাচ্ছে, যা হিন্দুধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক।
সনাতনী মন্দিরের পুরোহিতরা সাধারণ মানুষের মতো বিবাহ ও সংসার করেন। অন্যদিকে ইসকন সমর্থিত মন্দিরের বৈষ্ণবরা বিবাহ কিংবা সংসার করেন না। এখানে ইসকনকে খ্রিষ্টধর্মের সাথে মিল থাকায় অনেকে ইসকনকে খ্রিষ্টানদের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
ইসকন সমর্থিত হিন্দুরা সনাতনী হিন্দুদের রান্না খায় না। সেই সনাতনী হিন্দু যদি নিজের মা-ও হয়, তবুও তার রান্না খায় না। ইসকন সমর্থিত হিন্দুরা নিজেরা নিজেদের হাতের রান্না খায়, যা হিন্দুধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক। ইসকন সমর্থিত হিন্দুরা সনাতনী হিন্দুদের হিন্দু মনে করে না।৮
বিকৃত মস্তিষ্কের অভয়চরণারবিন্দের অজানা অধ্যায়
ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কলকাতার সুবর্ণবণিক পরিবারে ১ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পারিবারিক নাম ছিল অভয়চরণ দে। তিনি খ্রিষ্টান মিশনারি দ্বারা পরিচালিত কলকাতার স্কটিশ কলেজে পড়াশুনা করেন। কেউ কেউ বলছেন, অভয়চরণ দে আমেরিকার নিউইয়র্কে খ্রিষ্টান চার্চে পড়াশুনা করেছেন। অভয়চরণ দে পেশায় ফার্মাসিউটিক্যাল ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি ১৯৬৫ সালে কলকাতা ছেড়ে শূন্য হাতে আমেরিকায় পাড়ি জমান। ১৯৬৬ সালে আমেরিকায় ইসকনের হাতেখড়ি এই বিতর্কিত ব্যক্তির হাত ধরেই হয়।
বিতর্কিত বলার অন্যতম কারণ হচ্ছে তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উদ্ভট মন্তব্য করেন। ১১ মে ১৯৭১ সালে মর্নিং ওয়াকে চাঁদ আর সূর্যের অবস্থান নিয়ে হাস্যকর মন্তব্য করে নিজের অবস্থান হারান। ওয়াশিংটন ডিসিতে ২ জুলাই ১৯৭৬ সালে এই বিতর্কিত ব্যক্তি বলেন, যেই মাত্র কোনো পুরুষ যুবতির স্তন এবং বাহুমূলে নেত্রপাত করে, তখনি সে শেষ। আর যতদিন সে এসবের দ্বারা আকৃষ্ট হবে, তাকে বারবার জন্মগ্রহণ করতে হবে।
আশা করি, এমন অশালীন কথামালা পাঠকের বোধগম্য হবে। অভয়চরণ দে ১৯৭৭ সালে মুম্বাইয়ে নারী স্বাধীনতা প্রসঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীকে পতিতা বলে সমালোচনার জন্ম দেন। ১৯৭৫ সালের ৯ নভেম্বর ধনঞ্জয়কে লেখা এক চিঠিতে ফুঠে উঠে অভয়চরণ দের নারীবিদ্বেষী চরিত্র।
২৬ অক্টোবর ১৯৭২ সালে শ্রীমদ্ভাগবত লেকচারে নারীদের বুদ্ধিমত্তাকে হেয় প্রতিপন্ন করে বক্তব্য দেন অভয়চরণ দে।৯
প্রিয় পাঠক! এই বিতর্কিত ব্যক্তির সকল বক্তব্য ছোট্ট প্রবন্ধে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা সম্ভব হচ্ছে না। উল্লেখ না করার আরও কারণ হলো এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ শুনতে পারবে না। অভয়চরণ দে ধর্ষণ নিয়ে তার বই শ্রী ভাগবতমে বলেছেন, Although rape is not legally allowed, it is a fact that a woman likes a man who is very expert at rape. অর্থাৎ যদিও ধর্ষণ আইনত অনুমোদিত নয়, তবে বাস্তবতা হলো একজন মহিলা ধর্ষণে খুব পটু এমন পুরুষকে পছন্দ করেন।
প্রিয় পাঠক! এমন নানা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগ আছে এই মস্তিষ্কবিকৃত অভয়চরণের ব্যাপারে। তাছাড়াও হিন্দুধর্মের স্বামী বিবেকানন্দকে তিনি রাস্কেল বলেছেন। হিন্দুধর্মের পণ্ডিত ঋষি অরবিন্দকে লক্ষ্য করে ঘৃণ্য কথা বলেছেন। নিজের গুরু রামকৃষ্ণ ও সারদাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন অভয়চরণ দে।১০ সর্বোপরি এমন মস্তিষ্কবিকৃত মানুষের তৈরি ইসকন কেমন হতে পারে? প্রশ্নের উত্তরটি পুরো প্রবন্ধটি পড়ার পর পেয়ে যাবেন, ইন-শা-আল্লাহ!
০৬ অক্টোবর ২০২৬
আল্লাহ কেমন? তার পরিচয় কি?
আল্লাহ্ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর জ্যোতি, তাঁহার জ্যোতির উপমা যেন একটি দীপাধার যাহার মধ্যে আছে এক প্রদীপ, প্রদীপটি একটি কাচের আবরণের মধ্যে স্থাপিত, কাচের আবরণটি উজ্জ্বল নক্ষত্রসদৃশ; ইহা প্রজ্বলিত করা হয় পূত - পবিত্র যায়তূন বৃক্ষের তৈল দ্বারা যাহা প্রাচ্যের নয়, প্রতীচ্যেরও নয়, অগ্নি উহাকে স্পর্শ না করিলেও যেন উহার তৈল উজ্জ্বল আলো দিতেছে; জ্যোতির উপর জ্যোতি! আল্লাহ্ যাহাকে ইচ্ছা পথনির্দেশ করেন তাঁহার জ্যোতির দিকে। আল্লাহ্ মানুষের জন্য উপমা দিয়া থাকেন এবং আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।
اَللّٰهُ نُوْرُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ؕ مَثَلُ نُوْرِهٖ كَمِشْكٰوةٍ فِيْهَا مِصْبَاحٌ ؕ الْمِصْبَاحُ فِىْ زُجَاجَةٍ ؕ اَلزُّجَاجَةُ كَاَنَّهَا كَوْكَبٌ دُرِّىٌّ يُّوْقَدُ مِنْ شَجَرَةٍ مُّبٰـرَكَةٍ زَيْتُوْنَةٍ لَّا شَرْقِيَّةٍ وَّلَا غَرْبِيَّةٍ ۙ يَّـكَادُ زَيْتُهَا يُضِىْٓءُ وَلَوْ لَمْ تَمْسَسْهُ نَارٌ ؕ نُوْرٌ عَلٰى نُوْرٍ ؕ يَهْدِى اللّٰهُ لِنُوْرِهٖ مَنْ يَّشَآءُ ؕ وَ يَضْرِبُ اللّٰهُ الْاَمْثَالَ لِلنَّاسِؕ وَاللّٰهُ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيْمٌ ۙ
সূরা নম্বর: ২৪ আয়াত নম্বর: ৩৫
আল্ কুরআন, সুরা ইখলাস
সুরা ইখলাস ১১২(১-৪)
(112:0)
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
শব্দার্থ: بِسْمِ = নামে, اللَّهِ = আল্লাহ(র), الرَّحْمَٰنِ = পরমকরুণাময়, الرَّحِيمِ = অসীমদয়ালু,
অনুবাদ: পরম করুণাময় মেহেরবান আল্লাহর নামে (112:1)
قُلْ هُوَ اللّٰهُ اَحَدٌۚ
অনুবাদ: বলো, তিনি আল্লাহ, একক।
(112:2)
اَللّٰهُ الصَّمَدُۚ
অনুবাদ: আল্লাহ কারোর ওপর নির্ভরশীল নন এবং সবাই তাঁর ওপর নির্ভরশীল।
(112:3)
لَمْ یَلِدْ وَ لَمْ یُوْلَدْۙ
অনুবাদ: তাঁর কোন সন্তান নেই এবং তিনি কারোর সন্তান নন।
(112:4)
وَ لَمْ یَكُنْ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ۠
অনুবাদ: এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।
বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট
জনপ্রিয় লেখা সমূহ
-
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। Al Quran Sura : 1 .Al Fateha (the Opening) / আল ফাতেহা 2. Al-Baqarah (the Cow)/আল বাকারাহ 3. Aali Imran (the F...
-
বিষয় সূচী :- wikipedia books/বই Blog Pages: Al Quran and Hadith Web sites: Software Develop er আল কাউছার মাসিক পত্রিকা ইসলাম.n...
-
📑 পঠিত অংশ সেভ করো ✅ সংরক্ষিত! ≠==================== Poem:Punishment of Disobeydient ,Sura Yasin (2-31) Poem-A beautiful ...
-
বিষয় সূচী :- ব্লগের উদ্দেশ্য পোস্ট সমুহ***/ খোঁজ করুন: অসিয়ত , আল কুরআন , কবিতা মোরা অজ্ঞ আল্লাহ সর্বজ্ঞ-, কবি...
-
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। আল কুরআনে আল্লাহ বলেন , 67 -সুরা মুলক, ( 67 :১ )" অতি মহান ও শ্রেষ্ঠ তিনি যাঁর হাতে রয়েছে সম...
-
যুবক বয়সে আমি ধর্ম পালনে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ছিলাম এবং চার্চে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ঘরে ট...
-
আল্লাহ বলেন, "আল কুরআন :৫৯-সুরা হাশর(৫৯:২১) لَوْ اَنْزَلْنَا هٰذَا الْقُرْاٰنَ عَلٰى جَبَلٍ لَّرَاَیْتَهٗ خَاشِعًا مُّتَصَ...
-
আল কুরআন, সুরা: নেসা আয়াত নং : - 11 তোমাদের সন্তানদের ব্যাপারে আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেনঃ পুরুষদের অংশ দু’জন মেয়ের সমান। ১ যদি ( ...
-
# অবাধ্যতার প রিনাম ~ ক বিতা ( সুরা ইয়াসিন ২ - ৩১ অবলম্ব নে ) পরম দাতা দয়ালু আল্লাহর না মে । জ্ঞানগর্ভ কুরআ ...
-
আল্ কুরআনঃ সুরা হুদ ১০৬,১০৭,১০৮ ; তারপর যারা হবে হতভাগ্য তারা আগুনে, তাদের জন্য সেখানে থাকবে চিৎকার ও আর্তনাদ, -- সূরাঃ হুদ, আয়াতঃ ১০৬ ...