(গুগল হতে)
ইসলামে আল্লাহর ক্ষমা পাওয়ার মূল ভিত্তি হলো ফরজ ইবাদতগুলো সঠিকভাবে পালন করা এবং আন্তরিকভাবে তাওবা ও ইস্তিগফার করা। ক্ষমা লাভের জন্য যে ফরজ ও আমলগুলো রয়েছে তা নিচে দেওয়া হলো:
১. প্রধান ফরজ ইবাদতসমূহ পালন
ঈমান :আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করাই ঈমান। আল্লাহর ফেরেস্তা, আসমানী কিতাবের, নবী রাসুলদের প্রতি, পরকালের প্রতি, ভাগ্যের ভালো মন্দের প্রতি বিশ্বাস করা ঈমানের অংশ।
সালাত (নামাজ): প্রতিদিনের ৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায় করা গুনাহ মাফের অন্যতম বড় মাধ্যম। হাদিস শриф অনুযায়ী, এক ওয়াক্ত থেকে আরেক ওয়াক্ত সালাত মধ্যবর্তী গুনাহের কাফফারা হয়।
সাওয়াম (রোজা): রমজান মাসের ফরজ রোজা পূর্ণ ঈমান ও সওয়াবের নিয়তে রাখা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, তার আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
যাকাত ও হজ: সামর্থ্যবানদের জন্য যথাক্রমে জাকাত আদায় করা এবং ফরজ হজ পালন করা। এগুলো বান্দার আত্মশুদ্ধি ও গুনাহ মোচনে সহায়তা করে।
ঈমান ও নেক আমল: আল্লাহর প্রতি খাঁটি বিশ্বাস স্থাপন এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে জীবন পরিচালনা করা। [1]
২. তাওবা ও ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা)
খাঁটি তাওবা: অতীতে করা পাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, তাৎক্ষণিকভাবে পাপ কাজ ছেড়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আর কখনো সেই পাপ না করার দৃঢ় সংকল্প করা।
ইস্তিগফার করা: বেশি বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। যেমন— "আস্তাগফিরুল্লাহাল আজীমাল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল কইয়ূমু ওয়া আতূবু ইলাইহি" পড়া। নবীজি (সা.) প্রতিদিন অনেকবার ইস্তিগফার করতেন। [1, 2, 3, 4, 5]
৩. বান্দার হক বা অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া
মানুষের ওপর কোনো জুলুম বা অন্যায় করে থাকলে, তার সম্পদ নষ্ট করে থাকলে বা কারো গিবত/সম্মানহানি করে থাকলে— আগে সেই হকদারের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে অথবা তার হক ফিরিয়ে দিতে হবে। বান্দার হক নষ্ট করলে আল্লাহ নিজে তা মাফ করেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত হকদার ব্যক্তি ক্ষমা না করেন। [1]
=====
ইসলামি আকীদা ও শরিয়াহ অনুযায়ী, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং আল্লাহর আইন (শরিয়াহ) অনুযায়ী বিচার ফায়সালা করা আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি অর্জনের অত্যন্ত বড় একটি মাধ্যম। কুরআন এবং হাদিসে ন্যায়পরায়ণ শাসক ও বিচারকদের জন্য বিশাল পুরস্কার ও ক্ষমার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসলামের মূল দৃষ্টিভঙ্গি নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ন্যায়বিচারের মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত লাভ
আল্লাহ তায়ালা নিজে পরম ন্যায়বিচারক (আল-আদিল) এবং তিনি বান্দাদের মাঝে ন্যায়বিচার দেখতে পছন্দ করেন। সূরা আল-মায়েদার ৪২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:
"যদি আপনি বিচার করেন, তবে তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচারকদের ভালোবাসেন।"
আর আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন, তাকে তিনি ক্ষমা করেন এবং তাঁর রহমতের ছায়াতলে আশ্রয় দেন।
২. আরশের নিচে ছায়া পাওয়ার মহাসুযোগ
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের কঠিন দিনে যখন আল্লাহর আরশের ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না, তখন যে ৭ শ্রেণীর ব্যক্তি সেই ছায়ায় স্থান পাবেন, তাদের মধ্যে সর্বপ্রথম হলেন—"ইমামুন আদিল" বা ন্যায়পরায়ণ শাসক/বিচারক (সহীহ বুখারী)। কিয়ামতের দিন এই বিশেষ মর্যাদা পাওয়া আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাত লাভের সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
৩. আল্লাহর আইন (শরিয়াহ) বাস্তবায়নের গুরুত্ব
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, মানবজাতির শান্তি ও শৃঙ্খলার জন্য আল্লাহ তায়ালা শরিয়াহর বিধান অবতীর্ণ করেছেন। সমাজ ও রাষ্ট্রে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনা করা একটি বড় ইবাদত। যখন একজন বিচারক বা শাসক আল্লাহর আইন অনুযায়ী মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেন, তখন তা সমাজে শান্তি আনে এবং এর উসিলায় আল্লাহ সেই শাসকের গুনাহখাতা মাফ করে দেন।
৪. তবে এর সাথে কিছু শর্ত জড়িত:
শুধুমাত্র শরিয়াহর নাম নিলেই ক্ষমা নিশ্চিত হয় না, বরং আল্লাহর ক্ষমা পেতে হলে বিচারকের মধ্যে কয়েকটি গুণ থাকা আবশ্যক:
সততা ও নিরপেক্ষতা: কোনো লোভ, হিংসা বা স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে উঠে বিচার করতে হবে।
সঠিক জ্ঞান: শরিয়াহর বিধান সম্পর্কে পূর্ণ ও সঠিক জ্ঞান থাকতে হবে। না জেনে ভুল বিচার করলে তা ক্ষমার বদলে শাস্তির কারণ হতে পারে।
ইখলাস (নিষ্ঠা): বিচারকার্য কেবল আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার নিয়তে হতে হবে, ক্ষমতা বা লোকদেখানোর জন্য নয়।
সংক্ষেপে বলা যায়, কেউ যদি সম্পূর্ণ সততা, নিরপেক্ষতা এবং সঠিক জ্ঞানের ভিত্তিতে আল্লাহর শরিয়াহ অনুযায়ী মানুষের মাঝে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন, তবে তা নিঃসন্দেহে তার জন্য আল্লাহর ক্ষমা ও পরম জান্নাত লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উসিলা বা উপায়।
====
আল্লাহর কাছে ক্ষমা পাওয়ার ন্যূনতম ও সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো খাঁটি অন্তরে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ (أستغفر الله) পড়া এবং আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা। [1, 2]
ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী আল্লাহর ক্ষমা লাভের মৌলিক বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:গফিরুল্লাহ পাঠ: প্রতিদিন নিয়মিত অন্তত ১০০ বার কিংবা সুযোগমতো বেশি বেশি "আস্তাগফিরুল্লাহ" বলা। এটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিয়মিত সুন্নাহ। [1]
তাওবা করার শর্তসমূহ: যদি গুনাহটি আল্লাহ ও বান্দার মধ্যকার হয়, তবে ক্ষমা পাওয়ার ন্যূনতম ৩টি শর্ত রয়েছে:
অবিলম্বে সেই গুনাহ বা পাপ কাজ ছেড়ে দেওয়া।
অতীতের কাজের জন্য অন্তরে তীব্র অনুশোচনা ও লজ্জিত হওয়া।
ভবিষ্যতে আর কখনো এই গুনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প করা। [1, 2, 3]
বান্দার হক সম্পর্কিত হলে: গুনাহটি যদি কোনো মানুষের অধিকার বা প্রাপ্য নষ্ট করার সাথে জড়িত হয়, তবে আল্লাহর কাছে মাগফিরাত চাওয়ার পাশাপাশি সেই হক বা পাওনা যার, তার কাছে মাফ করিয়ে নেওয়া বা ক্ষতিপূরণ দেওয়া আবশ্যক।
সালাতুত তাওবা: গুনাহ হয়ে গেলে অজু করে দুই রাকাত নফল নামাজ (সালাতুত তাওবা) পড়ে আল্লাহর কাছে চোখের পানি ফেলে ক্ষমা প্রার্থনা করা। [1, 2]
নেক আমল করা: ছোটখাটো গুনাহগুলো ভালো কাজ বা নেক আমলের মাধ্যমে মুছে যায়। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, "নিশ্চয়ই ভালো কাজ মন্দ কাজকে মিটিয়ে দেয়।" [1]