ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে স্ত্রী রাগ করে স্বামীর কাছ থেকে আলাদা বিছানায় ঘুমালে বিষয়টি বেশ সংবেদনশীল এবং এতে গুনাহের সম্ভাবনা থাকে—কারণ এতে স্বামীর দাম্পত্য অধিকার জড়িত।
১️⃣ সাধারণ হুকুম (মূলনীতি)
স্ত্রী যদি যৌক্তিক শরয়ি কারণ ছাড়া—
রাগ,
অভিমান,
জেদ
এর কারণে স্বামীর কাছ থেকে আলাদা বিছানায় ঘুমায়, তাহলে তা নাজায়েজ এবং গুনাহ।
📖 হাদিসে এসেছে:
“যখন কোনো স্ত্রী তার স্বামীর ডাকে সাড়া না দিয়ে রাত কাটায়, ফেরেশতারা সকাল পর্যন্ত তাকে অভিশাপ দেয়।”
— (বুখারি, মুসলিম)
২️⃣ কখন গুনাহ হবে না?
নিম্নোক্ত শরয়ি কারণ থাকলে স্ত্রী আলাদা থাকতে পারে এবং এতে গুনাহ হবে না:
✔ শারীরিক অসুস্থতা
✔ হায়েজ / নেফাস
✔ স্বামীর জুলুম, মারধর বা নির্যাতন
✔ স্বামীর দ্বারা গুনাহে বাধ্য হওয়ার আশঙ্কা
✔ নিরাপত্তা বা ইজ্জতের ভয়
এক্ষেত্রে আলাদা থাকা জায়েজ, বরং কখনো আবশ্যকও হতে পারে।
৩️⃣ শুধু “রাগ” হলে কী করণীয়?
শুধু রাগ বা অভিমান হলে ইসলাম যা শেখায়:
কথা না বাড়ানো
সাময়িক নীরবতা (কথা কম বলা)
আলাদা বিছানা না নেওয়াই উত্তম
দ্রুত মিলমিশের চেষ্টা
নবী ﷺ বলেছেন:
“মুমিনদের মধ্যে সবচেয়ে পরিপূর্ণ ঈমান তার, যার চরিত্র উত্তম।”
— (তিরমিজি)
৪️⃣ স্বামীর করণীয়
যদি স্ত্রী রাগ করে আলাদা থাকে:
কঠোর আচরণ না করা
কারণ জানার চেষ্টা
ভালোভাবে বোঝানো
অন্যায় হলে ক্ষমা করা
🟢 সংক্ষেপে সিদ্ধান্ত
অবস্থা
হুকুম
অযৌক্তিক রাগে আলাদা থাকা
গুনাহ
শরয়ি কারণ থাকলে
জায়েজ
জুলুম/নিরাপত্তার ভয়
জায়েজ / আবশ্যক
সমঝোতার চেষ্টা
সুন্নাহ
আপনি চাইলে আমি এ বিষয়ে কুরআন–হাদিসের দলিলসহ বিস্তারিত বা বাস্তব জীবনে কীভাবে সমাধান করবেন সেটাও বুঝিয়ে দিতে