১৩ আগস্ট ২০২৬

ফেসবুক থেকে -নজরুল ইসলাম

 ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেছিল হিন্দু অভিজাত শ্রেণী । এরাই আবার সাতচল্লিশের ভারত ভাগের সময় বাংলা ভাগের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে । প্রথমবারের বিরোধিতা ছিল স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা পরের বার মুসলিম বিদ্বেষীতা । 


কংগ্রেস,চরম ধর্মান্ধ হিন্দু মহাসভা ও উপমহাদেশের বৃটিশ রাজের শেষ প্রতিনিধি লর্ড মাউন্টব্যাটেনের গোপন  আঁতাতের ফল ছিল বাংলা ভাগ । এর উদ্দেশ্যে ছিল নবগঠিত পাকিস্তানকে দুর্বল করা । 


১৯৪৬ এর ৯ই এপ্রিল তারকেশ্বরে বঙ্গীয় হিন্দু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় । এ সম্মেলন উপলক্ষে প্রেরিত এক বাণীতে হিন্দু মহাসভা নেতা শ্রী ভি,আর সাভারকার বলেন:অখণ্ড হিন্দুস্হানের ব্যবচ্ছেদ পরিকল্পনা বানচাল করতে হলে হিন্দুদের সর্বাগ্রে পাকিস্তান ব্যবচ্ছেদে উদ্যোগী হতে হবে । প্রথমতঃ পশ্চিমবঙ্গে একটি হিন্দু প্রদেশ পত্তন,দ্বিতীয়ত:যে কোন মূল্যে আসাম থেকে মুসলিম অনধিকার প্রবেশকারীদের বিতাড়ন করে দুইটি হিন্দু প্রদেশের মাঝে ফেলে পূর্ব-পাকিস্তানকে পিষে মারা এবং তৃতীয়ত পূর্ব পাঞ্জাবে একটি হিন্দু শিখ প্রদেশ প্রতিষ্ঠাই হবে এই পরিকল্পনার মূখ্য উদ্দেশ্য ও প্রথম কাজ"


কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বাংলা ও পাঞ্জাব ভাগের দাবীর তীব্র নিন্দা করে দাবীটিকে তিক্ততা ও বিদ্বেষপ্রসূত বলে অভিহিত করেন ।


সাতচল্লিশের খ্রিষ্টান ভারত ভাগের জন্য এক সময় একতরফাভাবে মুসলমানদের দায়ী করা হতো । কিন্তু পরবর্তীতে সুরজিৎ দাশগুপ্ত,বিমলানন্দ শাসমল ও জয়া চ্যাটার্জী প্রমুখের  গবেষণায় ওঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র । প্রকৃত পক্ষে  ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তি ধীরে ধীরে তাদের মুখ ও দন্ত বিস্তারের চেষ্টা শুরু করে দিয়েছিল। ১৯১৫ সালে হিন্দু মহাসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। সাভারকর, ঠাকুর পরিবার,মদনমোহন মালব্য প্রমুখ ব্যক্তিত্বরা এই হিন্দু মহাসভার সঙ্গে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জড়িত ছিলেন।


মদনমোহন মালব্য কিন্তু একাধারে হিন্দু মহাসভার নেতৃত্ব দিয়েছেন, আবার কংগ্রেসের ভিতরে দক্ষিণপন্থী, সাম্প্রদায়িক অংশের নেতৃত্বও দিয়েছেন। সেই নেতৃত্বে কিন্তু পরবর্তীকালে নানাভাবে তার নখদন্ত বিস্তার করে কংগ্রেসের ভিতরে দক্ষিণপন্থী, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে জোরদার করেছে। এর কিছুদিন পরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস প্রতিষ্ঠিত হয়।


এই আর এস এস প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অল্পকাল পরেই একদিকে তাদের ইতালি ও জার্মানির ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের নানা ধরনের নাশকতামূলক দৃষ্টিভঙ্গির প্রচার, প্রসার, বিশেষ করে তাদের নানা ধরনের স্বশস্ত্র, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উপক্রম ভারতের রাজনীতিতে দেখা দেয়। অপরপক্ষে এই প্রেক্ষিতের বেশ কিছুদিন আগে থেকেই হিন্দু মহাসভা যে সাম্প্রদায়িক প্রেক্ষাপট রচনা করে রেখেছিল, সেই প্রেক্ষাপটকে অবলম্বন করে, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ভিতর দিয়ে হিন্দু মুসলমানে বিভাজন তৈরি করে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সবধরনের স্বার্থ পূরণ আরএসএস এর প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।


হিন্দু মহাসভার জন্মের আগে অবিভক্ত পাঞ্জাবের একটা বড় অংশের হিন্দু বেনিয়া সম্প্রদায়, যারা’ লালা’ নামে পরিচিত ছিলেন, তারা ধর্মের ভিত্তিতে, সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে, হিন্দুদের জন্য পৃথক রাষ্ট্রের দাবি জানিয়ে দিয়েছিল উনিশ শতকের শেষ লগ্নেই। লালা হরদয়াল, লালা লাজপত রাই প্রমুখেরা লাহোর থেকে প্রকাশিত ‘ট্রিবিউন’ পত্রিকায় মুসলিম লীগের ‘লাহোর প্রস্তাব’ উত্থাপনতো দূরের কথা, মুসলিম লীগের জন্মেরই অনেক আগে, ধর্মের ভিত্তিতে হিন্দুদের জন্য পৃথক বাসস্থানের দাবি প্রকাশ্যেই জানিয়েছিল।


তার পাশাপাশি আর্য সমাজ নামক একটি চরম দক্ষিণপন্থী, প্রতিক্রিয়াশীল সংগঠন, যাদের নেতা স্বামী শ্রদ্ধানন্দ, যিনি প্রথম জীবনে পাঞ্জাবের “লালা” সম্প্রদায়ের হিন্দুদের প্রতিনিধি ছিলেন, তিনি যেভাবে ধর্মান্তকরণকে ঘিরে গোটা গোবলয়ের রাজনীতিকে একটা সাম্প্রদায়িক অভিমুখে পরিচালিত করতে শুরু করেছিলেন তা দেশের সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে মুসলিম জাতিসত্তা ঘিরে প্রশ্ন ওঠার আগেই একটা বড়ো জায়গা করে নিয়েছিল।


আরএসএস তার রাজনৈতিক কর্মসূচি সাম্প্রদায়িকতা এবং  মুসলিম বিদ্বেষকে রাজনৈতিক হিন্দুত্বের প্রচার ও প্রসারের ভিতর দিয়ে তুলে ধরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থরক্ষার দিকটি সুরক্ষিত করতে, এই হিন্দু মহাসভাকে রাজনৈতিক সংগঠন করে এবং অন্যান্য নানা শাখা সংগঠন তৈরি করে, একটা তথাকথিত সামাজিক কর্মকাণ্ডের নাম করে গোটা ভারতবর্ষে হিন্দু মুসলমান বিভক্ত করবার নোংরা খেলা তৈরি করতে জোরদারভাবে সাহায্য করেছিল।

কোন মন্তব্য নেই:

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

Islamic Life: আল কুরআন, সুরা মুলক ৬৭(১-৩০)

Islamic Life: আল কুরআন, সুরা মুলক ৬৭(১-৩০) : আল কুরআন,  সুরা মুলক (67:0) بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ শব্দার্থ:   بِسْمِ = নামে,  ...

জনপ্রিয় লেখা সমূহ